রোজ গার্ডেন

রোজ গার্ডেন ঢাকা

রোজ গার্ডেন পুরান ঢাকার টিকাটুলিস্থ কে এম দাস লেনের একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন। তৎকালীন নব্য জমিদার ঋষিকেশ দাস বিশ শতকের তৃতীয় দশকে (সম্ভবত ১৯৩০ সালে) গড়ে তোলেন এ গার্ডেন। বেশীর ভাগ উপাত্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ১৯৩০ সালের দিকেই হৃষিকেশ বাবু এ বাগান নির্মাণ শুরু করেন। এই বাগানের জন্য তিনি চীন, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে মাটিসহ গোলাপের চারা এনে লাগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঋণের দায়ে তিনি তাঁর সন্মানের প্রতীক এই জৌলুসপূর্ণ বাগানবাড়িটি ১৯৩৬ সালে খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হন। সত্তর সালের দিকে ‘রোজ গার্ডেন’ লীজ দেয়া হয় ‘বেঙ্গল স্টুডিও’কে। ১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ‘রোজ গার্ডেন’কে সংরক্ষিত ভবন বলে ঘোষণা করে। স্থাপত্যিক আশ্চর্য 'রোজ গার্ডেন'। হৃষিকেশ বাবু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দুর্লভ সব গোলাপ গাছে সুশোভিত করেছিলেন এ বাগান। পুরো এলাকা সাজিয়েছিলেন ইউরোপীয় ঢঙে। ভবনটির অবাক করা নির্মাণশৈলী আর মুগ্ধ করা নকশা সবার মন কাড়ে। এখানেই গড়ে ওঠে দেশের বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগ। দর্শনীয় অংশ রোজ গার্ডেনের পশ্চিম বাহু এবং উত্তর বাহুর মধ্যবর্তী অংশে দুটি মূল ফটক আছে। প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য পশ্চিম দিকের ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই আছে একটি বিস্তীর্ন খোলা প্রাঙ্গন। এখানে মঞ্চের উপর দন্ডায়মান আছে কয়েকটি সুদৃশ্য নারী মূর্তি। পূর্বাংশের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে একটি আয়তাকার পুকুর। পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি একটি করে বাধানো পাকা ঘাট আছে। এর পূর্বাংশে আছে পশ্চিমমূখী একটি দোতলা ইমারত। এ ইমারতটির নাম হলো “রশিদ মঞ্জিল”। রশিদ মঞ্জিলের প্রবেশপথের অনতিদূরের সম্মুখের চত্বরে ইটও সিমেন্ট নির্মিত একটি সুন্দর ফোয়ারা দেখা যায়। একটি সাত ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়ি দিয়ে রশিদ মঞ্জিলের প্রথম তলায় আরোহন করা যায়। এর সামনের দিকের মাঝামাঝি অংশের প্রতি কোঠার পাশাপাশি তিনটি খিলান দরজা আছে। উপরের তলায় প্রতিটি খিলানের উপর একটি করে পডিয়াম আছে। ‌টিমপেনামগুলো লতাপাতার নকশা এবং রঙ্গিন কাঁচ দিয়ে শোভিত। এর সামনে আছে বাইরের দিকে উপবৃত্তাকার উদগত অপ্রশস্ত বেলকনি। এর দুপাশে একটি করে করিনথীয় পিলার আছে। পিলারগুলোর দুই পাশের অংশে প্রতি তলায় আছে একটি করে খিলাল দরজা। এদের প্রতিটির কাঠের পাল্লার ভনিসীর ব্লাইন্ড ও টিমপেনামে লতাপাতার নকশা দেখা যায়। এবং সামনেই অপ্রশস্ত খোলা বেলকনি আছে। এর উপরাংশের কার্ণিস বক্রাকার যা বেলস্ট্রেড নকশা শোভিত। অপরাপর অংশের কার্ণিসগুলোও একই রকম। মধ্যবর্তী অংশ ছাদের সামনের ভাগে আছে আট কোনাকার এবং খিলান সম্বলিত বড় আকারের ছত্রী। এর ছাদ একটি আধাগোলাকার গম্ভুজ ঢাকা। ইমারতটির দু-কোনে দুটি করিনথীয় পিলার দেখা যায়। এদের শীর্ষেও ছত্রী নকশা আছে। এলাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মিত রশিদ মঞ্জিলের প্রতি তলায় মোট ১৩ টি ছোট ও বড় আকারের কোঠা আছে। প্রথম তলায় প্রবেশের পর পশ্চিমাংশের বাঁ দিকে আছে উপরের তলায় যাওয়রা জন্য ঘুর্ণায়মান সিঁড়ি। এ ইমারতের পূর্ব বাহুর বাম পাশে আছে দুই বাহু বিশিষ্ট আর একটি দোতালা ইমারত। ডান পাশে পরবর্তীকালে আরও কিছু ইমারত নির্মিত হয়েছে। বাইরে ও ভেতরের দিকে পুরোপুরি চুনকামসহ গতরলেপনে আবৃত এ ইমারতের খিলানের টিমপেনামের রঙ্গিন কাঁচের অলঙ্করণ বেশ আকর্ষণীয়। ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন বর্তমানে নাটক ও টেলিফিল্ম শ্যুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সত্তরের দশকের জনপ্রিয় ছবি মুস্তাফিজ পরিচালিত 'হারানো দিন' চিত্রায়িত হয়েছিল এ বাড়িতে। শবনম, রহমান ও গোলাম মোস্তফা প্রমুখ ছবির পাত্র-পাত্রী। পরে এ ভবনে আরো অনেক ছবির চিত্রায়ণ হয়েছে। এই ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য এখন বিভিন্ন নাটক ও টেলিফিল্মেওও অবলোকন করা যায়।

Explore this Place Add to Wishlist
হাতিরঝিল লেকে ওয়াটার ট্যাক্সি রাইড

হাতিরঝিল লেকে ওয়াটার ট্যাক্সি রাইড ঢাকা

আমরা যারা টিভিতে ইস্তানবুলের বিখ্যাত বসফরাস স্ট্রেইট, আমস্টারডামের বিখ্যাত খালগুলো, সিডনি অপেরা হাউজের পাশের সিডনি হারবার, নিউইয়র্কের লিবার্টি আইল্যান্ডের চারপাশের আপার নিউইয়র্ক বে তে এইরকম নৌভ্রমনের দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত তাদের জন্য দারুন খবর হচ্ছে আমাদের ঢাকা শহরেও এখন এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে, হাতিরঝিল লেকে ওয়াটার ট্যাক্সির মাধ্যমে। ছুটির দিনে একটু নৌভ্রমনের স্বাদ নিতে চাইলে চলে আসতে পারেন হাতিরঝিলে, লেকের পানিতে ওয়াটার ট্যাক্সি রাইডের সাথে হাতিরঝিলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দিবে অবশ্যই।

Explore this Place Add to Wishlist
গোল তালাব/নবাব বাড়ি পুকুর

গোল তালাব/নবাব বাড়ি পুকুর ঢাকা

পুরান ঢাকার ইসলামপুরে আহসান মঞ্জিলের ঠিক পাশেই গোল তালাব অথবা গোল পুকুর অবস্থিত। স্থানীয়রা এই পুকুরটিকে “নবাব বাড়ি পুশকুনি” নামে সম্বোধন করতো। গোলাকার এই বিশাল পুকুরটির চারপাশে দালান কোঠা রয়েছে। দালান কোঠার উপর থেকে আপনি পুকুরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদীর সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া আহসান মঞ্জিলের গম্বুজও চোখে পড়বে আপনার। ১৮৮৬ সালে নবাব আব্দুল বারি এই পুকুরটি খনন করান আর এ কারনে স্থানীয়রা পুকুরটিকে “নবাব আব্দুল বারি পুকুর” নামে ডাকতো। দৃষ্টিনন্দন এই পুকুরটিকে উপর থেকে দেখতে বেশি আকর্ষণীয় দেখায়। বর্তমানে “মৌলভী খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট” পুকুরটির দেখাশোনা করছে। নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে যে কেউ এই পুকুরে গোসল করতে পারে। পুকুরটি দেখতে আসলে গোসল করার জন্য আপনিও সাথে করে শর্টস নিয়ে আসতে পারেন। পুকুরে গোসলের জন্য নির্ধারিত মূল্য খুব বেশী নয়।

Explore this Place Add to Wishlist
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঢাকা

৮০০ বছরের পুরান এই মন্দিরটি নির্মান করেন রাজা বল্লাল সেন। এইটি মূলত দূর্গা মন্দির। ঢাকার বৃহৎ যে কয়েকটি পূজা মণ্ডপ আছে ঢাকেশ্বরী মন্দির তার মধ্যে অন্যতম। জাতীয় এই মন্দিরের নামকরন হয় ঢাকার ঈশ্বরী অথাৎ ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে।

Explore this Place Add to Wishlist
কার্জন হল

কার্জন হল ঢাকা

কার্জন হল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ভবন, যা পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত। ইউরোপীয়-মোঘল স্থাপত্য শিল্পের চমৎকার মিশ্রনে তৈরি ভবনটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অণুষদের কিছু শ্রেনীকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি ১৯, ১৯০৪ সালে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ও গভর্ণর জেনারেল - জর্জ কার্জন এর ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হওয়ার পর প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার জন্য রমনা এলাকার যেসব ইমারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় কার্জন হল তার মধ্যে অন্যতম। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে, ঢাকা কলেজের ক্লাস নেয়া হতে থাকে কার্জন হলে। পরবর্তী সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে কার্জন হল অন্তর্ভুক্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের জন্য, যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য দেখতে চাইলে কার্জন হল ঘুরে আসতে পারেন। আর যারা প্রথমবারের মতো ঢাকা বেড়াতে আসবেন তারা অবশ্যই একবার হলেও কার্জন হল থেকে ঘুরে যাবেন। ব্রিটিশ স্থাপত্যের সাথে কার্জনের সবুজ পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

Explore this Place Add to Wishlist
বায়তুর রউফ মসজিদ

বায়তুর রউফ মসজিদ ঢাকা

ঢাকার আব্দুল্লাহপুরের ফায়দাবাদে অবস্থিত এই মসজিদটি অল্প কিছুদিন আগে বিশ্বের স্থাপত্য জগতের অনন্য সন্মান "আগা খান এ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার" সন্মান অর্জন করে নিয়ে আসে বাংলাদেশের জন্য। ২০১৬ সালে এই মসজিদের নকশা করে স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম পেয়েছেন আগা খান পুরস্কার। মসজিদটি ৭৫৪ মিটার স্কয়ার জায়গার উপর নির্মিত। জমির মালিকের নাম সুফিয়া খাতুন। সম্পর্কে তিনি এই মসজিদের স্থপতির নানী। এটি ২০১২ সালে নির্মিত হয়। যার নির্মান খরচ ১,৫০,০০০ মার্কিন ডলার। মসজিদটি সম্পুর্ন ইটের তৈরি, কোন রঙ বা প্লাস্টারের কাজ এখানে করা হয় নি। এটি এমন ভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে, যার ভেতরে বসেই যেমন ঝকঝকে রোদের দেখা মিলবে, তেমনি ঝম ঝম বৃষ্টিতে এখানে বসেই বর্ষার দারুন আবহ উপভোগ করা যাবে। ভবনটিতে এমন ভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার ফলে যে কোন ঋতুতেই মসজিদটির ভিতরের তাপমাত্রা থাকবে প্রায় অপরিবর্তিত। ৪ টি আলো প্রবেশের পথ এবং ভবনের ছাদে গোল ছিদ্র করে এমন ভাবে আলো প্রবেশের ব্যাবস্থা এবং একই সাথে আলো নান্দনিক আলো ছায়ার খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে দিনের বেলা এখানে কখনোই কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন পরবে না। ৮টি পেরিফেরাল কলামের উপর দাড়িয়ে আছে নান্দনিক এই মসজিদ ভবনটি। মসজিদের পাশা পাশি এখানে একটি মক্তব চালু করা হয়েছে।মসজিদটির নির্মাণ শৈলী সুলতানি স্থাপত্য রীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত। এবং সনাতন পদ্ধতির ইটের ব্যাবহারের সাথে সমকালীন স্থাপত্য রীতি মিশ্রিত হয়েছে। মসজিদটির সিলিং এর ফুটোগুলো ঠিক যেন আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তারার মেলা। ন্যাচারাল লাইট আর ভেন্টিলেশনের এত চমৎকার কাজ দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন, ভালো লাগবে।

Explore this Place Add to Wishlist