সিরাজ শাহ’র আস্তানা

সিরাজ শাহ’র আস্তানা নারায়ণগঞ্জ

এটি একটি মাজার। তবে এটি বিখ্যাত বাউল সাধক সিরাজ সাঁই এর আস্তানা নয়। এটি চিশতিয়া তরিকার একজন পীরের মাজার। বেশ বড় একটা এলাকা নিয়ে সুন্দর সাজানো গোছানো একটি যায়গা। মাজারের স্থাপত্য খুবই আকর্ষণীয়। খুবই সুন্দর সেটি। উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম যেদিক থেকেই আপনি দেখেন না কেন আপনার কাছে সব পাশ থেকে একই মনে হবে। অর্থাৎ ইমারতটি চারপাশ থেকে দেখতে একই রকম। উঁচু এক প্লাটফর্মের উপরে এর অবস্থান। বেশ কিছু সিঁড়ি টপকে উঠতে হয় উপরে। চারপাশ থেকে দেখতে একই রকম হলেও এর প্রধান ফটক দক্ষিণ মুখী। এইখানে সিঁড়িটা শুধু দুই ভাগে বিভক্ত এবং উপরে একটি কাঠগোলাপের গাছ রয়েছে। পাশেই পীর পরিবারের বাসস্থান অংশের গেটে লতা পারুল, ভিতরে একটি চমৎকার হাসনোহেনার ঝোপ। পুকুর পারে বিশাল এক আমলকী গাছ। তাছাড়া সামনের বাগান অংশে নানান ধরনের মৌসুমি ফুল করা হয়।

Explore this Place Add to Wishlist
পানাম নগর

পানাম নগর নারায়ণগঞ্জ

বাংলাদেশীদের কাছে “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী।২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পায়। উনিশ শতকের প্রথমের দিকে কোলকাতা ভিত্তিক ধনী সুতার ব্যাবসায়ীদের হাতে পত্তন হয় এই শহরের। দেশবিভাগের পরে তারা এই শহর ছেড়ে যাওয়া শুরু করেন। বড় নগর, খাস নগর আর পানাম নগর-প্রাচীন সোনারগাঁ এর এই তিন নগরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নগরী ছিল পানাম। একমাত্র রাস্তার দুই পাশে ইউরোপীয় আর মোঘল স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত মোট ৫২ টি বাড়ি সময়কে বুকে নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। পানাম নগরীর বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণশৈলীতে রয়েছে ভিন্নতার ছাপ। তৎকালীন ধনীক শ্রেনীর এই নগরীর প্রতিটি দালানে রয়েছে অপূর্ব কারুকার্য ও আভিজাত্য ছোঁয়া। নগরীর বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তার দুই পাশে রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। মূল রাস্তার উত্তর দিকে ৩১ টি এবং দক্ষিণ দিকে ২১ ভবন আছে। এই ভবন গুলো কোনটি এক তলা, কোনটি আবার দুই বা তিন তলা বিশিষ্ট। ঢাকার খুব কাছেই। দিনে যেয়ে দিনেই ঘুরে আসতে পারেন। প্রতিটি দালানই এক টুকরা ইতিহাস। একটু পেছনে ফিরে যাবার জন্য খারাপ না জায়গাটি। এর সাথে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ও দেখে আসতে পারেন। পানাম সিটিতে প্রবেশ করতে ১৫ টাকার টিকেট কাটতে হয়। মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। সোমবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। রবিবার আর অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ।

Explore this Place Add to Wishlist
মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ( বর্তমানে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ)

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ( বর্তমানে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) নারায়ণগঞ্জ

মুড়াপাড়া রাজবাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও শতবর্ষী জমিদার বাড়ি। বিভিন্ন সময় এ জমিদার বাড়িটি কয়েকজন জমিদার কর্তৃক সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। এটি উপজেলার মুড়াপাড়া নামক গ্রামে অবস্থিত। বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা থেকে সড়ক পথে এর দুরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। স্থানীয়রা একে মঠেরঘাট জমিদার বাড়ি বলেও অভিহিত করে। মুড়াপাড়া রাজবাড়িটি ৬২ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন বাবু রামরতন ব্যানার্জী যিনি এ অঞ্চলে মুড়াপাড়া জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর তার কয়েকজন বংশধর কর্তৃক প্রাসাদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে জমিদার প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জী এই ভবনের পিছনের অংশ সম্প্রসারণ করেন ও পরিবার নিয়ে এখানেই বসাবাস শুরু করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর জগদীশ চন্দ্র তার পরিবার নিয়ে কলকাতা গমন করেন। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাড়িটি দখল নেয় এবং এখানে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব গ্রহণ করে সেটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে এটি মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে পরিচিত। জমিদার বাড়ির সামনে রয়েছে পুকুর আর পিছনে ও আরেকটি পুকুর। পুকুরের সামনে একটা মাঠ আর মাঠের সামনে মন্দির। বর্তমানে এটি কলেজ হিসেবে চলছে তার পাশে রয়েছে শহীদ মিনার। জমিদার বাড়ীটি খুবই সুন্দর।

Explore this Place Add to Wishlist
কদম রসুল দরগাহ

কদম রসুল দরগাহ নারায়ণগঞ্জ

কথিত আছে যে এখানে মহানবী (স:) এর কদম মুবারকের ছাপ রয়েছে। শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত স্থানটি খুবই মনোমুগ্ধকর। কদম রসুল দরগাহ নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। দরগাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর কোল ঘেষে অবস্হিত। ধারণা করা হয় দরগায় রক্ষিত পাথরের ফলকের উপর অদ্ভুত পদচিহ্নটি প্রকৃতপক্ষে হযরত মুহম্মদ (সা:) এর পদচিহ্ন। যদিও বিষয়টি নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। পাথরের ফলকটি আকারে প্রায় ২৪০০ বর্গ সে: মি: এবং অনেকটা মানুষের পায়ের পাতার আকৃতিতে কাটা।

Explore this Place Add to Wishlist
হাজীগঞ্জ দূর্গ

হাজীগঞ্জ দূর্গ নারায়ণগঞ্জ

এটি একটি ঐতিহাসিক দূর্গ। এই কেল্লা বাংলার বার ভূইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁ র কেল্লা হিসেবে পরিচিত। দূর্গের চারদিকে বিশাল দেয়ালের বেষ্টনী, প্রবেশ দারে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়, একপাশে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াচ টাওয়ার, বেস্টনীর সাইড দিয়ে ওয়াক ওয়ে, দেয়ালে তিন ছিদ্র বিশিষ্ট (ডান, বাম আর মাঝে) অস্ত্র চালানোর গর্ত,কেল্লার ভেতরে এখন পুরোটাই ফাকা শুধু কিছু গাছপালা দাঁড়িয়ে আছে, আর আছে বিশাল সবুজ মাঠ। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অফিসের পাশেই এর অবস্থান এবং বিপরীত দিকে গুদারাঘাটের অবস্থান, চাইলে ঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ছাউনী ওয়ালা নৌকা নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন, এছাড়া ওপারে আছে কদম রসূল মাজার।

Explore this Place Add to Wishlist
বিবি মরিয়মের সমাধি

বিবি মরিয়মের সমাধি নারায়ণগঞ্জ

ঐতিহাসিকদের মতে, শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৪ থেকে ১৬৮৮ সালের মধ্যবর্তী একটি সময়ে এর নির্মাণ করেন। কথিত আছে, বিবি মরিয়ম তার ছোট কন্যা ছিলেন। আবার অনেক ইতিহাসবিদের মতে, বিবি মরিয়ম ছিলেন ঈশা খাঁর স্ত্রী। সমাধি ও এর লাগোয়া মসজিদের নির্মাণ কাল ১৬৬৪-৮৮ খৃষ্টাব্দ অনুমান করা হয়। সমাধিতে শায়িত বিবি মরিয়মকে তৎকালীন বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের কন্যা এবং ইরান দখত এর বোন তুরান দখত হিসেবে ঐতিহাসিকরা ধারনা করেন। বিবি মরিয়মের সমাধি নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ মহল্লায় বিবি মরিয়ম মসজিদের পূর্বদিকে অবস্থিত। চারদিকে প্রাচীর বেষ্টিত উঁচু ভিতের উপর একটি চতুর্ভুজাকৃতির বেদীর মধ্যস্থলে সৌধটি স্থাপিত। সৌধটি বর্তমানে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এক গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকার এই ইমারতটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে খিলান ছাদ বিশিষ্ট বারান্দা। খিলান ছাদ এখন ভেঙ্গে পড়লেও খিলান শোভিত প্রবেশপথসহ দেয়ালের অংশবিশেষ এখনও টিকে আছে। সৌধের মধ্যবর্তী বর্গাকার কক্ষে রয়েছে শ্বেত পাথরে লতাপাতার নকশা শোভিত তিন ধাপ বিশিষ্ট সমাধি। শিরোভাগে ইটের তৈরি কবর-ফলক। সৌধের চারপাশের বারান্দা জুড়ে রয়েছে জানা অজানা আম লোকের সমাধি। সমাধি ও এর লাগোয়া মসজিদের নির্মাণ কাল ১৬৬৪-৮৮ খৃষ্টাব্দ অনুমান করা হয়। সমাধিতে শায়িত বিবি মরিয়মকে তৎকালীন বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের কন্যা এবং ইরান দখত এর বোন তুরান দখত হিসেবে ঐতিহাসিকরা ধারনা করেন। বিবি মরিয়মের সমাধি নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ মহল্লায় বিবি মরিয়ম মসজিদের পূর্বদিকে অবস্থিত। চারদিকে প্রাচীর বেষ্টিত উঁচু ভিতের উপর একটি চতুর্ভুজাকৃতির বেদীর মধ্যস্থলে সৌধটি স্থাপিত। সৌধটি বর্তমানে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এক গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকার এই ইমারতটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে খিলান ছাদ বিশিষ্ট বারান্দা। খিলান ছাদ এখন ভেঙ্গে পড়লেও খিলান শোভিত প্রবেশপথসহ দেয়ালের অংশবিশেষ এখনও টিকে আছে। সৌধের মধ্যবর্তী বর্গাকার কক্ষে রয়েছে শ্বেত পাথরে লতাপাতার নকশা শোভিত তিন ধাপ বিশিষ্ট সমাধি। শিরোভাগে ইটের তৈরি কবর-ফলক। সৌধের চারপাশের বারান্দা জুড়ে রয়েছে জানা অজানা আম লোকের সমাধি। সমাধি সৌধটি র পশ্চিম পাশে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ রয়েছে যার নির্মাণকাল সৌধটির সমসাময়িক অর্থাৎ ১৬৬৪-৮৮ সালে শায়েস্তা খাঁন নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। এবং সমাধিতে শায়িত বিবি মরিয়ম এর নামেই একে বিবি মরিয়ম এর মসজিদ নাম করন করা হয়েছে।

Explore this Place Add to Wishlist