ঋষিপাড়া মন্দির পাঠশালা

ঋষিপাড়া মন্দির পাঠশালা নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার বাগমুছা ঋষিপাড়া এলাকায় রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন বাঁশের তৈরি স্কুল। স্কুলটি তৈরিতে মূল উপাদান ছিলো বাঁশ। কবি শাহেদ কায়েস নামক এক স্বাপ্নিক মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন স্হাপত্য শিল্পের অনুপম নিদর্শন 'ঋষিপাড়া মন্দির পাঠশালা'। ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক সাহিদ সাহেব এর উদ্যোগে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে এখানকার সুবিধা বঞ্চিত বাচ্চাদের জন্য বাঁশের তৈরি দোতলা স্কুলটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্কুলটি চালু হয় ২০০৭ সালে। ১ম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় স্কুলটিতে। এখন ১১৫ জন ছেলে মেয়ে এখানে পড়াশুনা করে। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন।

Explore this Place Add to Wishlist
শ্রী শ্রী বংশী বদন ঠাকুর জমিদারবাড়ি (গোপালদি জমিদার বাড়ি)

শ্রী শ্রী বংশী বদন ঠাকুর জমিদারবাড়ি (গোপালদি জমিদার বাড়ি) ঢাকা

আড়াই হাজারের গোপালদির সদাসদি গ্রামে ১৯০৯ সালে তৈরী বংশী বদনের জমিদার বাড়ি। বিশাল এ কমপ্লেক্স ছেড়ে ওনারা ৬০ এর দশকে ভারত চলে যান। এ বাড়ীর ভিত্তি স্থাপন করেন শ্রী শ্রী বংশী বদন ঠাকুর বাংলা ১৩২৩ সনে। তার মানে এটি ১০০বছরেরও বেশি পুরনো। বাড়ির কারুকার্য অনেক সুন্দর। বাড়ির একপাশে ছোট করে জমিদারের চাকর-বাবুর্চির ঘর, শৌচাগার রয়েছে। শোনা যায় পরিবার সহ ভারত চলে গিয়েছিলেন। এখন পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয়রা, হিন্দু পণ্ডিত-পুরোহিতরা এখন এই বাড়িটিতে থাকে। স্থানীয়রা এটাকে ভূঁইয়া বাড়ী নামে চিনে। দিনের বেলাতেও বাড়িটির ভিতর বেশ অন্ধকার। কেমন গা ছম ছমে একটি ব্যাপার আছে। আদিস্থাপনা প্রেমী হয়ে থাকলে জায়গাটিকে অন্যরকম ভাল লেগে যাবেই।

Explore this Place Add to Wishlist
গোয়ালদী শাহী মসজিদ

গোয়ালদী শাহী মসজিদ বরগুনা

সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ বাংলার মসনদে আরোহণের পর ১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক সময়ে আলাউদ্দিন শাহের একান্ত অনুগত মোল্লা হিজবর আকবর খাঁ এ মসজিদ টি নির্মাণ করেন। সোনারগাঁয়ে মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন এই গোয়ালদী শাহী মসজিদ। কথিত আছে, ঘন জঙ্গলে আবৃত ছিল এ মসজিদটি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদ টি আবিষ্কার করলে একে স্থানীয়ভাবে গায়েবি মসজিদ নামে অভিহিত করা হয়। এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতির এ মসজিদটির প্রতিটি দেয়াল প্রায় ৩ মিটার চওড়া এবং এর চার কোনায় চারটি খিলান তৈরি করা হয়েছে। দ্বিকেন্দ্রিক রীতিতে মসজিদটির নির্মাণ শৈলীতে তৎকালীন সুলতানি আমলের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কষ্টিপাথরে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে এর মেহরাব। মেহরাবের গায়ে ফুল, লতাপাতা আঁকা বিভিন্ন নকশা এবং আরবি লিপির অলঙ্করণ। আশির দশকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এ শাহী মসজিদটি কে প্রত্নতত্ত্বের আওতাভুক্ত করে এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সে সময় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির ব্যাপক সংস্করণ করে। এতে ফুল, লতা-পাতা নকশাসংবলিত পোড়ামাটির ফলক স্থাপন করা হয়। এখন মসজিদটির প্রকৃত রূপ অনেকটাই বদলে গেছে। মসজিদের গায়ে যেসব মূল্যবান কারুকাজ খচিত পাথরের ফলক ছিল সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্তির আগেই চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। মসজিদটিতে একসঙ্গে ১৫-২০ জন মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সোনারগাঁয়ের গোয়ালদী শাহী মসজিদটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বহু পর্যটক মসজিদটি পরিদর্শনে আসেন। গোয়ালদী শাহী মসজিদটি তৎকালীন সুলতানি আমল তথা সে সময়ের গৌরবোজ্জ্বল মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম সাক্ষী হয়ে আছে।

Explore this Place Add to Wishlist
গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধি

গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধি নারায়ণগঞ্জ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাগোয়া উত্তরে সোনারগাঁ আর দক্ষিণে মোগড়াপাড়া। এই মোগড়াপাড়াই সেদিনের সে সোনারগাঁ।এখন আর তেমন রমরমা জৌলুস নেই। তবে মোগরাপাড়া মেইনরোড থেকে রিকশায় পাকা সড়ক ধরে চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে গেলে সাচিলপুর গ্রাম। ভাড়া মাত্র ২০ টাকা। এ গ্রামে ছিল মগদিঘি। এখন আর নেই। মাটি ভরাট করে চাসবাস আর কিছু ঘরবাড়ি। এছাড়াও আছে একটি পাথরের কবর। কালো। একটি সরু খালের উত্তর পাশে খোলা মাঠের মাঝে এ কবর। এখানে ঘুমিয়ে আছেন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। ইতিহাসের গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ নামে এক সুলতানের নাম পাওয়া যায়। পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তিনি ১৩৮৯ সালে সিংহাসন দখল করেছিলেন। এরপর বাইশ বছরের রাজত্ব শেষে গোপন ঘাতক তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়। রাজত্বকালে তিনি ছিলেন খ্যাতির শীর্ষে। তাঁর রাজত্বকালে শিক্ষা-দীক্ষা, সাহিত্য, চারু ও কারুকলার প্রভূত উন্নতি হয়। তিনি চরিত্রবান, ন্যায় বিচারক ও বিচক্ষণ শাসক ছিলেন। পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সাথে ছিল তাঁর বন্ধুত্ব। বিদ্রোহ দমন, দূত বিনিময়, সামাজিক অবস্থার উন্নতি, জ্ঞান বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা সব কিছুতেই ছিল সুলতানের সাফল্যের ছাপ। ১৪১০ খ্রিষ্টাব্দে আযম শাহের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ইলিয়াস শাহী বংশের এক গৌরবোজ্জল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। সাচিলপুরের সেই কবর কালো পাথরে তৈরি। এটি ৩মিঃ লম্বা, ১.৫০ মি. চওড়া এবং ৯০ সে.মি. উঁচু। এর তিনটি ধাপ। নিচের ধাপটি সাদামাটা পাথুরে পাটাতন। মাঝের অংশের আকার বাক্সের মতো। আর উপরের অংশটি যেন একটি নৌকার ছৈ। কেবল মাঝের অংশে চমৎকার কারুকাজ করা আছে। কারুকাজগুলো এক সারি খোপে আবদ্ধ। প্রতিটি খোপে রয়েছে একটি করে ভাঁজওয়ালা খিলান। সেই খিলানের মাথা থেকে ঝুলে পড়া শেকলের মাথায় শোভা পাচ্ছে পদ্ম-দোলক।জেমস ওয়াইজের মতে, এক সময় এখানে বিশালাকৃতির এক সৌধ ছিল।প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সহায়তায় সমাধিটি সংস্কার করা হয়।মূল সমাধিটির কার্নিশে রয়েছে সূক্ষ্ম কারুকাজ খচিত অলঙ্করণ। দু'পাশে রয়েছে তিনটি করে তিন খাঁজবিশিষ্ট খিলান। খাঁজের মধ্যে রয়েছে প্রলম্বিত শিকল ও ঝুলন্ত ঘণ্টার নকশা, যা পাণ্ডুয়ায় অবস্থিত সিকান্দার শাহের মাজারে লক্ষ্য করা যায়।পাথরের গায়ে এমন কারুকাজ আমাদের দেশের আর কোন কবরে নাকি দেখা যায় না।তাই এ কবর আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্যের শেকড়।১৪১০ খ্রিষ্টাব্দে আযম শাহের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ইলিয়াস শাহী বংশের এক গৌরবোজ্জল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Explore this Place Add to Wishlist
সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর

সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ

টিকেট কেটে গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পরে মনোমুগ্ধকর কারুকাজ এ নির্মিত সর্দার বাড়ি যা ঈসা খাঁর জমিদার বাড়ি হিসাবে পরিচিত ৷ আর বাড়িটির সামনেই রয়েছে একটি লেক যাতে বাড়িটির প্রতিচ্ছবি নন ফটোগ্রাফারদের ও ফটো তুলতে বাধ্য করে ৷ সর্দার বাড়ি পার হয়ে একটু সামনে গেলেই চোখে পরবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্য আর তার সামনেই রয়েছে জাদুঘর এর সুবিশাল প্রবেশ পথ ৷ জাদুঘর টিতে স্থান পেয়েছে নানা প্রকার এর হস্তশিল্প, নিত্য ব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী, কারুশিল্প, পোড়ামাটির নিদর্শন , লোহার তৈরি নিদর্শন আরো অনেক কিছু ৷ সর্দার বাড়ির সামান্য পূর্বে রয়েছে জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘর ৷ এই ভবনগুলো ছাড়াও জাদুঘর এলাকাটিতে আরো রয়েছে বিভিন্ন রকমের বৃক্ষ , ভাস্কর্য, পাঠাগার, মনোরম লেক আর লেক এর মাঝে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌ ব্যাবস্থা ৷ জাদুঘরে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন বাংলার প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্র শস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলংকার ইত্যাদি।বাংলার প্রাচীন ও মধ্য যুগের লোকশিল্পের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে, রয়েছে বাংলার প্রাচীন মুদ্রা। কারুপল্লীতে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরি ঘরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ- বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎ শিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। জাদুঘর প্রবেশের টিকিট মূল্য ২০ টাকা ৷

Explore this Place Add to Wishlist
সোনাকান্দা দুর্গ

সোনাকান্দা দুর্গ নারায়ণগঞ্জ

মুঘল আমলে নির্মিত একটি জল দুর্গ।এটি ১৬৫০ সালের দিকে তৎকালীন বাংলার সুবেদার মীর জুমলা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সোনাকান্দা দূর্গটি বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁ তৎকালীন সময়ে ব্যবহার করতেন। রাজা কেদার রায়ের মেয়ে স্বর্ণময়ী এসেছিলেন লাঙ্গলবন্দে পুণ্যস্নান করতে। একদল ডাকাত স্বর্ণময়ীর বজরায় হানা দেয়। প্রচুর স্বর্ণালংকারসহ স্বর্ণময়ীকে অপহরণ করে। পরে ঈশা খাঁ তাঁকে উদ্ধার করে কেদার রায়ের কাছে ফেরত পাঠাতে চান। কিন্তু মুসলমানের তাঁবুতে রাত কাটানোয় জাত গেছে_এ অভিযোগে কেদার রায় স্বর্ণময়ীকে আর ফেরত নেননি। এ খবর শুনে স্বর্ণময়ী কেল্লার তাঁবুতে দিনের পর দিন কেঁদে কেঁদে কাটিয়েছেন। আর তাই এর নাম হয় সোনার কান্দা বা সোনাকান্দা। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে অবস্থিত দুর্গটি প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তরের অধীনে বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। এর প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং শক্তিশালী কামান স্থাপনার জন্য উত্তোলিত মঞ্চটি এখনো আগের মতো আছে। এ উঁচু মঞ্চে প্রবেশের জন্য পাঁচ খাঁজবিশিষ্ট খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। চতুস্কোন আকৃতির এই দূর্গটি লম্বায় ৮৬ দশমিক ৫৬ মিটার এবং প্রস্থে ৫৭ মিটার। এর চারপাশে ১ দশমিক ৬ মিটার পুরু ও ৩ দশমিক ৫ মিটার উচুঁ সুরক্ষা প্রাচীর আছে যা এখনও প্রায় অক্ষত। চতুস্কোন আকৃতির প্রতিটি কোণায় গোলাকৃতি মঞ্চ আছে। আর পশ্চিম দেওয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে আছে দূর্গের মূল বেদী। দূর্গটিতে প্রবেশের জন্য উত্তর দিকে ১টি প্রবেশ দ্বার আছে। সারা বছর ধরেই দেশী-বিদেশী দর্শণার্থীগণ এই দূর্গটি দেখতে আসেন।

Explore this Place Add to Wishlist