পুঠিয়া প্যালেস ও মন্দির

পুঠিয়া প্যালেস ও মন্দির রাজশাহী

পুঠিয়ার রাজবংশের ইতিহাস মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে শুরু হয়ে মহারানী হেমন্তকুমারীর মৃত্যুর পর জমিদার প্রথা বিলীন হওয়া পর্যন্ত ছিল। এই শাসনকাল চলাকালীন সময়ে পুঠিয়ার জমিদার/রাজাগণ তাদের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্নের জন্য বিভিন্ন স্থাপত্য কাঠামো ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্দির নির্মাণ করেন, যা আজও কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে আছে। পুঠিয়ায় অবস্থিত অধিকাংশ মন্দিরে পোড়ামাটির ফলক স্থাপিত আছে। এখানকার পুরাকীর্তির মধ্যে পুঠিয়া রাজবাড়ী, চারআনি রাজবাড়ী ও ১৩টি মন্দির রয়েছে। পুঠিয়ার প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে ১৪টি স্থাপনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষনা করেছে। ১৮৯৫ সালে হেমন্তকুমারী দেবী ইন্দো – ইউরোপিয়ান আদলে বর্তমানের পুঠিয়া রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন।অসাধারন অলঙ্করণ সমৃদ্ধ এই রাজবাড়ির আরেক নাম পাঁচআনি জমিদারবাড়ি।এই জমিদারবাড়িকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল, এগুলো হলো, গোবিন্দ মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, ছোট শিব মন্দির, দোল মন্দির, বড় শিব মন্দির, জগন্নাথ/রথ মন্দির। এই মন্দিরগুলো ১৮ শতাব্দীর শুরুর থেকে মধ্যবর্তী সময়ে নির্মাণ করা হয়। পুঠিয়া রাজবাড়ি থেকে ১২৫ মিটার পশ্চিমে পুঠিয়ার চারআনি জমিদারবাড়ি অবস্থিত, এখানে বড় আহ্নিক,ছোট গোবিন্দ ও গোপাল মন্দির নামে পরিচিত পাশাপাশি ৩টি মন্দির আছে। মন্দিরগুলো ১৭ থকে ১৮শতকের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত।

Explore this Place Add to Wishlist
রানী ভবানীর জমিদার বাড়ি

রানী ভবানীর জমিদার বাড়ি নাটোর

ইতিহাসে রানী ভবানী একজন উল্লেখযোগ্য চরিত্র। ইতিহাসে আছে ১৭০৬ থেকে ১৭১০ সালের মাঝে ৫০ একর জমির উপর গড়ে উঠে এ রাজপ্রাসাদ যা নাটোরের জমিদারবাড়ি নামে পরিচিত । রানী ভবানী এই বাড়িতে বসেই অর্ধেক বাংলা শাসন করেছেন, তিনি “অর্ধ বঙ্গেশ্বরী” নামে খ্যাত। মূলত নবাব মুর্শিদ কুলির আমলে রানী ভবানী “ অর্ধ বঙ্গেশ্বরী” খ্যাতি লাভ করেন।রানী ভবানী মারা যাওয়ার পর তার দত্তক পুত্র রামকৃষ্ণ জমিদারিত্ব গ্রহন করেন এবং তার মৃত্যুর পর প্রাসাদটি তার দুই ছেলের মাঝে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে বড় তরফ এবং ছোট তরফ নামে পরিচিতি পায়। রাজবাড়ির চারদিকে পরিখা দিয়ে ঘেরা,মূল রাজপ্রাসাদ দুটি ছাড়াও রয়েছে ছোট বড় অনেক ভবন, রয়েছে পাঁচটি পুকুর, তিনটি মন্দির, মৃত্যুকূপসহ বিভিন্ন স্থাপনা । জমিদার বাড়ির ভেতরে অবস্থিত মন্দিরগুলো দেব দেবীর টেরাকোটা দিয়ে অলঙ্কৃত।

Explore this Place Add to Wishlist
নাটোরের কাঁচাগোল্লা

নাটোরের কাঁচাগোল্লা নাটোর

নাটোর এর কাচাগোল্লার সুনাম দেশ ব্যাপী। নাটোর জুড়ে অনেক জায়গায় কাচাগোল্লা পাওয়া গেলেও যারা মূলত এই কাচাগোল্লা বানানো শুরু করেছিল ও দীর্ঘদিন যাবত মানুষের রসনা মেটাচ্ছে সেই দোকানটি কিছুটা লোকচক্ষুর অন্তরালে। শহরের কালীবাড়ি নামক আবাসিক এলাকার ভেতর এক মন্দিরের সামনে দেখতে খুব ই জরাজীর্ন এই দোকানটিই নাটোরের সেরা কাচাগোল্লার দোকান। নাটোরের মানুষের লোকমুখে কাচাগোল্লা তৈরীর যে ইতিহাস পাওয়া যায় তা হচ্ছে- বাংলার অর্ধ বঙ্গেশ্বরী রানী ভবানীর রাজত্বকালে রানীকে নিয়মিত মিষ্টি সরবরাহ করতো এক মিষ্টি বিক্রেতা । একবার সে মিষ্টি তৈরির জন্য দুই মণ ছানা কেটে রাখে। কিন্তু সকালে তাঁর প্রধান কর্মচারী দোকানে না এলে সে বিপাকে পড়ে যায়, ছানা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সে চিনির শিরায় ছানা ঢেলে দিয়ে নাড়তে থাকে। শুকিয়ে এলে খেয়ে দেখে মন্দ হয়নি। ভয়ে ভয়ে এর কিছু অংশ রানীর কাছে পাঠিয়ে দেয়। তা খেয়ে রানী ধন্য ধন্য করে। শুধু ছানা দিয়ে তৈরি করা হয় বলে নাম রাখা হয় কাঁচাগোল্লা।

Explore this Place Add to Wishlist
পচুর হোটেল

পচুর হোটেল নাটোর

নাটোরে যে কোন স্থানীয় মানুষকে ভাল খাবারের হোটেলের কথা জিজ্ঞেস করলে বলবে ‘পচুর হোটেল’ এর কথা। জেলা শহরের একমাত্র হোটেল যা ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে। এবং সারা দিন ই সরগরম থাকে। খাদ্য রসিকদের পচুর হোটেলের গরু ভূনা, খিচুরী আর বিভিন্ন রকম সুস্বাদু মাছের আইটেম ভাল লাগবেই।

Explore this Place Add to Wishlist
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পাবনা

১৯১৫ সালে ঈশ্বরদীর পাকশীতে নির্মিত হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সেতু কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অবিভক্ত ভারত সরকার আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ সহজ করতে এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ অবিভক্ত ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। তাঁর নামেই ব্রিজটির নামকরণ করা হয় ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (৩ কোটি ৫১ লাখ ৩২ হাজার ১৬৪ রুপি)। ১৫টি স্প্যানের এই ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৯৪০ ফুট। ব্রিজ দিয়ে শুধু ট্রেন চলাচলের জন্য পাশাপাশি দুটি ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে। পায়ে হাঁটার পথ ছিল একসময় ,এখন নিরাপত্তার কারনে হাটতে দেয়া হয় না।বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নীচে ও পদ্মার পাড়ে বিকেল বেলাটা সত্যিই মনোরম । অনেক দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের আশে পাশেঘুরতে। চাইলে নৌকা নিয়েও পদ্মায় ঘোরা সম্ভব।

Explore this Place Add to Wishlist
দীপশিখা স্কুল

দীপশিখা স্কুল দিনাজপুর

দিনাজপুর জেলার রুদ্রপুরে মাটির তৈরি দোতালা স্কুলের নাম “ দীপশিখা স্কুল” ।সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব উপকরন দিয়ে তৈরি এই ভিন্ন ধনরের স্থাপনা।বাঁশ এবং কাদামাটি দিয়ে তৈরি মাটির এইরকম দোতলা বাড়ি দুটি।এই কারণেই ২০০৭ সালে এই স্থাপনা অর্জন করে আগাখান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড। ২০০৬ সালে প্রথম যে বাড়িটি তৈরি হয়, সেই প্রোজেক্টটির নাম ছিল ’'রুদ্রপুরের METI – Handmade School'। দোতলা এই স্কুলটির নিচ তলায় তিনটি কক্ষ এবং উপরের তলায় দুইটি কক্ষ রয়েছে। এই স্থাপনার মুল পরিকল্পনাকারী জার্মানির Anna Heringer , এর স্থপতি খোদ Anna Heringer এবং Eike Roswag । এই বাড়ি দু'টি বানানো হয়েছে মূলত দ্বীপশিখা এনজিও-এর দু'’টি শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম - Modern Education and Training Institute (METI), Dipshikha Electrical Skill Improvement [DESI] এর জন্যে। এই দু’টি প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সৃজনশীলতার চর্চা করা। এই স্কুল এখন METI স্কুল নামেও পরিচিত। দিনাজপুর ভ্রমন কালে এই ভিন্ন রকম স্থাপনা দেখে আসতে কেউ ভুলবেন না।

Explore this Place Add to Wishlist