জিন্দা পার্ক

জিন্দা পার্ক নারায়ণগঞ্জ

ঢাকার খুব কাছেই পূর্বাচলের নিকট অবস্থিত। সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ মুগ্ধ করবে। যারা একদিনের ট্যুর পছন্দ করেন তাঁদের উপযোগী বেড়ানোর জায়গা। ১৯৮১ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জিন্দা এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর অগ্রপথিক পল্লী সমিতির প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য জিন্দাপার্ক গড়ে তোলেন। পার্কের ভেতরে পাঁচটি জলাশয়, ৫০০ প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধিসহ কয়েক লাখ গাছ রয়েছে। আছে স্কুল, মসজিদ, পাঠাগার, কটেজ, অফিসসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা। ঢাকার কোলাহল থেকে কিছু টা সময় মুক্তি পেতে চাইলে নিস:ন্দেহে এটি একটি ভালো জায়গা। অনেক ধরনের গাছ গাছালি আর পাখি মুখরিত শান্তিময় একটি পরিবেশ। সাথে অনেক গুলো লেক ও ছিল। প্রায় ৫০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে পার্ক টি। জিন্দা পার্কে ঢুকার টিকেট ১০০ টাকা । ভিতরে মাটির ঘর, পুকুর, বিভিন্ন ফল ফুল এর গাছ, মসজিদ, স্কুল-কলেজ, লাইব্রেরী সব কিছুই পাবেন। ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশী গাছ-গাছালী আছে পার্কটিতে। গাছের এই সমারোহ এর পরিবেশকে করেছে শান্তিময় সবুজ, কলকাকলীতে মুখর করেছে অসংখ্য পাখীরা। শীতল আবেশ এনেছে ৫ টি সুবিশাল জলাধার। তাই গরম যতই হোক পার্কের পরিবেশ আপনাকে দেবে শান্তির ছোঁয়া। ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য জিন্দা পার্ক এখন বেশ পরিচিত জায়গা। কাঠের ব্রিজ পার হয়ে দিঘির মাঝামাঝি তৈরি করা বাঁশের টি রুমে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ চা কিংবা জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকার সময়গুলো দারুণ উপভোগ করবেন। সঙ্গে গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। বাড়ি ফেরার জন্য পার্কের সামনেই পাবেন গাড়ি, সিএনজি। আর হ্যাঁ, পিকনিক করতে চাইলে দু-তিন দিন আগেই ।

Explore this Place Add to Wishlist
ভাগ্যকূল জমিদার বাড়ী

ভাগ্যকূল জমিদার বাড়ী মুন্সীগঞ্জ

ভাগ্যকূল জমিদার বাড়ী "বিলের ধারে প্যারিস নগর"- অধ্যাপক হূমায়ুন আজাদ এভাবে বর্ণ্না করেছিলেন বিক্রমপুরের শেষ জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ী কে। এই জমিদার বাড়ীর পাশেই আড়িয়াল বিল। আর এই বিলের ধারের প্রাসাদে থাকতেন যদুনাথ রায়। শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূল গ্রামে তৎকালীন প্রভাবশালী জমিদার যদুনাথ রায় বাড়ীটি নির্মান করেন। প্রায় ৫০০ শতাংশ জায়গার উপর বাড়অটি নির্মিত। মূল সড়ক থেকে এক কিমি যাওয়ার পথে চোখে পড়ে এই বিশাল বাড়িটি। জমিদার শ্রীনাথ রায়ের পুত্র যদুনাথ রায় ভাগ্যকুলে দ্বিতল বিশিস্ট দুইটি ভবন নির্মান করেন। শ্রীনাথের রায়ের মূল জমিদার পদ্মার বুকে বিলীন হয়ে গেলেও টিকে আছে যদুনাথের বাড়ী। স্থানীয় মানুষদের কাছে এটি বাবু বাড়ী নামে পরিচিত। এই কমপ্লেক্সে জমিদার বাড়ী ছাড়াও আছে একটি বড় দিঘী আর দূর্গা মন্দির ও লক্ষী নারায়ন মন্দির। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সে তৈরি করা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর।

Explore this Place Add to Wishlist
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বসতভিটা

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বসতভিটা মুন্সীগঞ্জ

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একটি নাম একটি ইতিহাস একটি গর্ব । তিনি ছিলেন একজন বাঙালি পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী এবং প্রথম দিকের একজন কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা। গাছের প্রাণ আছে প্রবক্তা বাংলার কৃতি সন্তান জে.সি.বসুর আদি বাড়ী এই মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রী নগরে। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ি যা মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় রাড়িখালে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তার পৈত্রিক নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়নে যেখানে এখন রাড়িখাল স্যার জে সি বোস ইন্সটিটিউশন ও কলেজ অবস্থিত। এক দিনেই ঘুরে যেতে পারেন এই ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানীর বাড়ি থেকে। ঢাকা থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। তাদের পুরাতন দালানটি এখনো আছে যা ইতিমধ্যে সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আওতায় নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ চলছে । স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়িটি ৬ কক্ষবিশিষ্ট। বাড়িটির একটি কক্ষকে জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। এই বাড়িতে ৬টি দিঘী রয়েছে। দিঘির বাধানো ঘাটে বসলে আপনার মন হারিয়ে যাবে বাংলার অতীত রূপকথায় । তার পৈতৃক বাড়িটির ত্রিশ একর জায়গায় জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ ও কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু তার জীবিত অবস্থায় তিনি তার সম্পত্তি দান করে যান। সেখানে ১৯২১ সালে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১১ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে, যা চলে জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশনের উদ্যোগে। কমপ্লেক্সে নির্মিত হয়েছে জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি জাদুঘর, পশু-পাখির ম্যুরাল, কৃত্রিম পাহাড়-ঝরনা ও সিঁড়ি বাধানো পুকুর ঘাট। জাদুঘরে জগদীশ চন্দ্র বসুর পোট্রেট, গবেষণাপত্র, হাতে লেখা পান্ডুলিপি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তিতে তাকে লেখা চিঠি ও রবীন্দ্রনাথের বসুকে লেখা চিঠি, তেল রং দিয়ে অাঁকা ১৭টি দুর্লভ ছবি, রয়্যাল সোসাইটিতে দেওয়া বক্তৃতার কপি এবং নানা দুর্লভ জিনিস রয়েছে। কমপ্লেক্সের আকর্ষণীয় দিক হলো, এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রবেশ করতেই শান্ত-শীতল পরিবেশে মনটা জুড়িয়ে আসে। ছোট পরিসরের এ কমপ্লেক্সে রয়েছে পিকনিকের ব্যবস্থা। নাগরিক কায়ক্লেশ থেকে মুক্তি খুঁজে পেতে ঢাকা থেকে ৩৫ কিমি দূরের এ স্থানটি হতে পারে বেড়ানোর জন্য ভালো একটি জায়গা।

Explore this Place Add to Wishlist
সাতগ্রাম জমিদার বাড়ী

সাতগ্রাম জমিদার বাড়ী মুন্সীগঞ্জ

বৃটিশ আমলে নির্মিত এটি বাবুদের জমিদার বাড়ী। এই জমিদার বাড়ী থেকেই জমিদার বাবুরা অত্র এলাকা শাসন করতেন। জমিদারগন প্রজাদের মাঝে খাজনার বিনিময়ে জমি বরাদ্ধ দিতেন। খাজনা পরিশোধ করতে না পারলে তারা সাধারন প্রজাদের উপর খুবই অত্যাচার করতেন। জমিদার বাড়ীর চারদিকটা খুবই সুন্দর। জমিদার বাড়ীর পুকুর ঘাট, বাগান সহ অনেক সুন্দর জায়গা আছে।

Explore this Place Add to Wishlist
পদ্মহেম ধাম

পদ্মহেম ধাম মুন্সীগঞ্জ

পদ্মহেম ধাম মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় বালুর চর নামক গ্রামে অবস্থিত লালন শাহ ফকিরের একটি আশ্রম। নাম না জানা নদী বয়ে গেছে আশ্রমটির পাশ দিয়ে, রয়েছে লালনগীতি সংগীত বিদ্যালয়। প্রায় প্রতি বছরই এই আশ্রমে লালন ফকিরের গানের উৎসব ও মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। মেলার সময় তো অবশ্যই এছাড়া অন্য যে কোন সময়ই ঢাকা থেকে একদিনের ট্যুরে বেস্ট জায়গা হইতে পারে পদ্মহেম ধাম। চাইলে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে যে কোন সময় ক্যাম্পিং করে থাকা যাবে আশ্রমের পাশের বিশাল সবুজ মাঠে। বিকালটা কাটাতে পারেন পাশের নদীতে গোসল দিয়ে আর ফুটবল ও দাইড়া বান্ধা খেলে। আশ্রমে লালন উৎসব চলাকালীন সময়ে থাকাও যায়।

Explore this Place Add to Wishlist
ইন্দ্রাকপুর কেল্লা

ইন্দ্রাকপুর কেল্লা মুন্সীগঞ্জ

মোগল আমলে তৈরি জল দূর্গের মধ্যে যে কয়টা টিকে আছে তার মধ্যে ইন্দ্রাকপুর কেল্লা অন্যতম। মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইদ্রাকপুর দুর্গ। ইতিহাস থেকে জানা যায় মুঘল সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে পুরনো ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরের ইদ্রাকপুরে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে এটি আয়তনে কিছুটা ছোট। সে সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গটি। সুরঙ্গ পথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সাথে এই দুর্গের সংযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি আছে। উঁচু প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গের চারকোণে রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনী। দুর্গের ভেতর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপ করার জন্য চারদিকের দেয়ালের গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। বাংলাদেশে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নির্দশন হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয় ১৯০৯ সালে।

Explore this Place Add to Wishlist