মনিহার সিনেমা হল

মনিহার সিনেমা হল যশোর

যশোরে বাংলাদেশের বৃহত্তম সিনেমা হল “ মনিহার” অবস্থিত। ৮ই ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে যশোর বাসস্ট্যান্ডে এই সিনেমা হলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১ হাজার ৪০০ আসন বিশিষ্ট ৪ বিঘা জমির উপর নির্মিত এই সিনেমা হলের স্থপতি ছিলেন কাজী মোহাম্মদ হানিফ। সিনেমা হলের চতুর্থ তলা পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সিঁড়ি, ঝরনা, ঝাঁড়বাতি নায়ক- নায়িকাদের ছবিসহ নান্দনিক সব জিনিসে অলঙ্কৃত সিনেমা হলটি। মনিহার নির্মাণ শেষ হলে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের তত্ত্বাবধানে বিমানেষ নামক একজন শিল্পী পাথর দিয়ে ষড়ঋতুর প্রস্তর তৈরি করেছিলেন। ২০১২ সালে ২২ জুলাই হলটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারনে, পরে ২০ দিন বাদে শুরু হলেও এখন মনিহারে আগের সমাগম আর নেই।

Explore this Place Add to Wishlist
ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার

ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার সাতক্ষিরা

সাতক্ষীরার ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ৫৭ বছর ধরে পথ চলা। ১৯৬০ সালে গোলাম মোহাম্মদ ফকির আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী সাতক্ষীরা শহরের শহীদ কাজল সরণিতে নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার।সাতক্ষীরার প্রতিতি দোকানেই সন্দেশ পাওয়া যায়, তবে বিশুদ্ধতাই ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের খ্যাতির উৎস। অনেক ধরণের মিষ্টির সম্ভার থাকলেও তারা তাদের চার/ পাঁচ ধরণের সন্দেশের জন্য বিখ্যাত। সাদা সন্দেশ, প্যারা সন্দেশ, গুঁড়ের সন্দেশ , সাদা সরপরি সন্দেশ, গুঁড়ের সরপরি সন্দেশ এদের বেশ নামকরা।প্রতিদিন প্রায় তিন’শ থেকে সাড়ে তিন’শ কেজির মিষ্টি তৈরি করেন তারা। প্রতিদিন নানা জায়গা থেকে মানুষের ভিড় জমে এই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে। ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পৌছে গেছে। এখানের সকালের নাস্তারও বেশ সুনাম রয়েছে, এরা খাস্তা পরোটার সাথে সবজি,মুরগী অথবা মিষ্টি দিয়ে নাস্তা পরিবেশন করেন।ভোজন রসিকদের সাতক্ষীরা ভ্রমনের অন্যতম আকর্ষণ তালিকায় ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সন্দেশ অবশ্যই থাকা উচিত।

Explore this Place Add to Wishlist
সাবিত্রী সন্দেশ

সাবিত্রী সন্দেশ মেহেরপুর

মেহেরপুরের বাসুদেব গ্র্যান্ড সন্সের ঐতিহ্যবাহী সাবিত্রী মিষ্টি বেশ নামকরা।প্রায় ১২৫ বছর ধরে সাবিত্রী মিষ্টি আবিষ্কার হয়েছে, বাসুদেব এই মিষ্টি আবিষ্কার করে নির্ভেজাল উপকরণে তৈরি বিধায় এর নাম দেয় “ সাবিত্রী ” । বাসুদেব গ্র্যান্ড সন ৬ পুরুষ ধরে মিষ্টির ব্যবসা করে আসছে, এই মিষ্টির বিশুদ্ধতার দিকে লক্ষ্য রেখে এরা নিজেরাই এটি তৈরি করে থাকেন, তারা আজ পর্যন্ত কোন কারিগর নিযুক্ত করেন নি। এই মিষ্টি ভাণ্ডারে সাবিত্রী মিষ্টি ছাড়া রসকদমও পাওয়া যায়।

Explore this Place Add to Wishlist
আমঝুপি নীলকুঠী

আমঝুপি নীলকুঠী মেহেরপুর

নীল চাষ বা নীলকরদের সুবিশাল ইতিহাস সারা মেহেরপুর জুড়ে আছে, ১৮১৫ কিছু আগে বা পরে আমঝুপি গ্রামে এই নীলকুঠী স্থাপিত হয়। বাংলার অভিশপ্ত ইতিহাসের ভয়াল সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে আমঝুপি নীলকুঠী। জানা যায় এই আমঝুপিতেই পলাশীর পরাজয়ের নীলনকশা করা হয়েছিল। কথিত আছে এই নীলকুঠিই ইংরেজ সেনাপতি ক্লাইভ লয়েড ও মীলজাফরের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের শেষ বৈঠক এখানেই হয়েছিল।আমঝুপি ষড়যন্ত্রের ফলাফল সিরাজ-উদ- দৌলার পতন, বাঙালিদের পরাধীনতা গ্রহণ।

Explore this Place Add to Wishlist
মুজিব নগর

মুজিব নগর মেহেরপুর

মেহেরপুরের ভবের পাড়ার জমিদার বৈদ্যনাথ বাবুর আম বাগানের নাম ছিল বৈদ্যতলা , সেখালে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ প্রথম বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। শপথ গ্রহন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পাঠের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ স্থানটিকে “ মুজিব নগর” নামকরন করেন।দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে স্থানটিকে সংরক্ষণ এবং মুজিব নগর সরকারকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল স্মৃতি যাদুঘর নির্মানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মূলত ১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ মুজিবনগরকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার স্মৃতি ধরে রাখতে স্থপতি তানভীর করিমের নকশায় ২৩ স্তরের স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলেন।পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব নগর কমপ্লেস নিমার্নের উদ্যোগ নেন। এখানে আছে ৪০ একরের আম বাগানে ১৩০০ টি আম গাছ, হাসিনা মঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকেন্দ্র, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণ দেয়ালের সমন্বয়ে উদিয়মান সূর্যের প্রতিকৃতিকে প্রতীক করে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, প্রশাসনিক ভবন, টেনিস মাঠ, পর্যটন মোটেল, স্বাধীনতা মাঠ, স্বাধীনতা পাঠাগার, বিশ্রামাগার, পোষ্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, শিশুপল্লী, ডরমেটরি ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র।

Explore this Place Add to Wishlist
যশোর রোড

যশোর রোড যশোর

ঐতিহাসিক যশোর রোড নির্মান করেন কালীগঞ্জের নলডাঙ্গার জমিদার কালী পোদ্দার, জানা যায় কালী পোদ্দারের মা যশোদা দেবী জীবনদশায় গঙ্গাস্নানের ইচ্ছা পোষণ করেন।গঙ্গায় যাওয়ার জলপথ থাকা সত্ত্বেও তিনি সড়ক পথে ভ্রমণের ব্রত নেন।জমিদার কালী পোদ্দার মায়ের ইচ্ছা পুরনে যশোর কালীগঞ্জ থেকে কলকাতার গঙ্গাতীরের কালীঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করেন। নির্মাণ শেষে রাজমাতার গঙ্গাস্নানের প্রস্তুতি নেয়া হলে যশোদা দেবী এতো রোদের মাঝে ভ্রমণের অস্বীকৃতি জানান এবং পরবর্তীতে তার পরামর্শে রাস্তার দু ধারে রেন্ট্রি কড়ই গাছ বোপন করা, যা শতবর্ষ ধরে আজো যশোর রোডের শোভা বর্ধন করে আসছে। যশোদা দেবী এই রোডের নামকরন করেন “ যশোর রোড” ।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে “ যশোর রোডের” একটি উল্লেখযোগ্য নাম, একাত্তুরের শত শত শরণার্থী এই রোডের দুধারে আশ্রয় নেন। তাদের এই দুর্ভোগ, দুর্দশা নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করে “সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড” নাম করণের কবিতা লেখেন মার্কিন কবি অ্যালান গিনসবার্গ।পরবর্তীতে এই কবিতাটির বঙ্গনুবাদ করে গান আকারে পরিবেশন করেন ভারতের বিখ্যাত গায়িকা মৌসুমি ভৌমিক। “Millions of souls nineteenseventyone homeless on Jessore road under grey sun A million are dead, the million who can Walk toward Calcutta from East Pakistan” “শত শত চোখ আকাশটা দেখে শত শত শত মানুষের দল যশোর রোডের দুধারে বসত বাঁশের ছাউনি, কাদামাটি জল”

Explore this Place Add to Wishlist