জাফলং

জাফলং সিলেট

জাফলং সিলেটের অনতম প্রাকৃতিক পর্যনট কেন্দ্র। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানায় অবস্তিত। সিলেট শহর থেকে ৬০ কি. মি. দূরে এর অবস্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই জাফলং। পথে যেতে যেতে দেখবেন রাস্তার একপাশে আকাশসম পাহাড় আর ছোট ছোট ঝর্ণা। পাহাড়গুলো দেখতে কাছে মনে হলেও এগুলো প্রতিবেশি দেশ ভারতে অবস্থিত। পথে আরও দেখবেন জৈন্তাপুর হিল রিসোর্স, তামাবিল জিরো পয়েন্ট। জাফলং এ নেমে পায়ে হেঁটেই যাবেন মূল স্পটে। পিয়াইন নদীর এমন স্বচ্ছ পানিতে সুযোগ কেউ ছাড়তে চাইবেন না। নৌকা ভাড়া জনপ্রতি ১০-২০ টাকার মতো। নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে বাংলদেশ ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে। সেখানকার চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্যের বর্ণনা অপ্রতুল। স্পর্শ করলেই বোঝা যাবে পানি কত ঠান্ডা। এরকম পানিতে গোসল করার লোভ সামলানো মুশকিল। এই পানির উৎস ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন ঝর্ণা। যার পানির প্রবাহ তৈরি করেছে পিয়ান নদী। নদীর পানির নিচেই আছে ছোট বড় অসংখ্য পাথর। চাইলেই ভ্রমণের স্মৃতিস্বরূপ নিয়ে আসতে পারেন পাথর। নদীর ওপারে খাসিয়া পল্লী। সেখানে যেতে জনপ্রতি ভাড়া ১৫-২০ টাকার মতো আর দেখতে পাবেন খাসিয়াদের সুন্দর ঘরবাড়ি, পানের বরজ, চা বাগান, রাজবাড়ি, কমলা ও কাঁঠাল বাগান।

Explore this Place Add to Wishlist
মাধবকুন্ড জলপ্রাত

মাধবকুন্ড জলপ্রাত মৌলভীবাজার

প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রাত মাধবকুন্ডের অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানায়। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বেড়েছে পর্যটন সম্ভাবনা। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে পুরো এলাকাটিকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে ‘মাধবকুন্ড ইকোপার্ক’। মাধবকুন্ড-জলপ্রপাতের পাশেই রয়েছে কমলা বাগান। রয়েছে লেবু, সুপারি ও পানের বাগান। ফলে মাধবকুন্ড বেড়াতে গেলে সহজেই ঘুরে আসা যায় এসব বাগানে। এছাড়া মাধবকুন্ড এলাকায় বাস করে আদিবাসী খাসিয়ারা। খাসিয়ারা গাছে গাছে পান চাষ করে। মাধবছড়াকে ঘিরেই খাসিয়াদের জীবনযাত্রা আবর্তিত হয়। ফলে আদিবাষী জীবনযাত্রা আর সংস্কৃতিও উপভোগ করা যাবে এখানে। মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে এল চোখে পড়বে উঁচু নিচু পাহাড়ি টিলায় দিগন্তজোড়া চা বাগান। টিলার ভাঁজে ভাঁজে খাসিয়াদের পানপুঞ্জি ও জুম চাষ। মাধবকুন্ড যাওয়ার উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। এ সময় ঝর্ণা পানিতে পূর্ণ থাকে। হাজার হাজার মানুষ আছেন প্রতি বছরের চৈত্র মাসে। চৈত্র মাসে ওই সময় বড় ধরনের মেলা বসে। প্রবেশদ্বারে ১০ টাকায় টিকেট কেটে ভিতরে যেতে হয়। ভেতরে ওয়াচ টাওয়ারে উঠতে আরো ১০ টাকার টিকিট নিতে হবে। এছাড়াও ভেতরে আরো অনেক কিছু রয়েছে। এগুলোতেও প্রবেশে ফি দিতে হয়। যদিও এক সময় ঝর্ণায় সাঁতার কাটা যেত, ঝর্ণার উপররে উঠায় বাঁধা ছিল না, এখন এসব ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়। নিরাপত্তার জন্য চালু করা হয়েছে পর্যটন পুলিশ।

Explore this Place Add to Wishlist
মাধবপুর লেক

মাধবপুর লেক সিলেট

সবুজ পাহাড়, ছবির মত সুন্দর চা-বাগান আর লেকের স্বচ্ছ জলে নীল আকাশের প্রতিবিম্ব। এমন অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা পেতে আপনাকে যেতে হবে মাধবপুর লেক। ঝলমল পানি, ছানা সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি তাকে করে তুলেছে যেন এক স্বপ্নরাজ্য। ছোট ছোট টিলা গা ঘেঁষে এঁকে-বেঁকে চলেছে লেকটি। তারই জলে ফুটে আছে ছোট ছোট অসংখ্য সাদা, লাল আর নীল শাপলা। আর সেই সঙ্গে লেকের জলে ভেসে বেড়ায় নানা জাতের হাঁস, সরালি, পানকৌড়ি, জলপিপি। আর যতই আগোনো যায়, ততই এক অন্যরকম ভাললাগায় ভরে উঠে মন। পাহাড় ঘেরা সুবিমাল এই লেকটি সত্যিই সমৎকার। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে পাত্রখলা চা বাগানে লেখটির অবস্থান। এটি মৌলভীবাজার শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। বছরের যে কোনো সময়ে বেড়ানোর জন্য বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন এই লেকে।

Explore this Place Add to Wishlist
বিছানাকান্দি

বিছানাকান্দি সিলেট

নীল আকাশের সাথে মিশে যাওয়া সারিসারি পাহাড় আর পাহাড়ের বুক চিরে পিয়ান নদীর স্বচ্ছ সবুজ জলে ভেসে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জলছবিই হচ্ছে বিছানাকান্দি। দূরের চেরাপুঞ্জি আর কাছের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাথুরে বিছানায় ঝরর্ণার জলের বিছানা হচ্ছে বিছানাকান্দি। এটি পাথর কোয়ারি হিসেবে পরিচিত। শক্ত পাথরের বুকে হিমশীতল জলরাশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসিয়ে দেয়ার অনুভূতি জাগায়। সিলেট থেকে ৬০ কি. মি. উত্তর পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে বিছানাকান্দি গ্রাম। পুরো গ্রামটি যেন সাজানো বাগান। আঁকাবাঁকা মেঠো পথের ধারে ধানক্ষেতে, আর ধানক্ষেতের ওপারে পাহাড়ের গায়ে মেঘের খেলা নিমিষেই মনটাকে ভাল করে দেয়।

Explore this Place Add to Wishlist
রাতারগুল

রাতারগুল সিলেট

জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি গাছের বিশাল এক জঙ্গল। এতই ঘন জঙ্গল যে ভিতরের দিকটায় সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুঁতে পারে না। পুরাতন দুটি বড় জলাশয় ছাড়াও ২০১০-১১ সালে রাতারগুল বনের ভেতরে পাখির আবাস্তল হিসেবে ৩.৬ বর্গকিলোমিটারের একটি বড় লেক খনন করা হয়্ শীতে এ জলাশয়ে বসে নানান পাখির মিলন মেলা। রাতারগুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই বনের সুধা নিতে হলে যেতে হবে সেখানে। জঙ্গলের একবোরে শুরুর দিকেটায় মুতার বন। রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন। এরপরেও বন বিভাগ হিজল, বরুণ, করচ আর মুতাসহ কিছু জলবান্ধব জাতের গাছ লাগিয়ে দেয় এ বন্ েএছাড়াও রাতারগুলের গাছপালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- কদম, জালিবেত, অর্জুনসহ জলসহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির গাছপালা। রাতারগুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই বনের সুধা নিতে হলে যেতে হবে সেখানে। জঙ্গলের একেবারে শুরুর দিকটায় মুতার বন। রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন। এরপরেও বন বিভাগ হিজল, বরুণ, করচ আর মুতাসহ কিছু বলবান্ধব জাতের গাছ লাগিয়ে দেয় এ বনে। এছাড়াও রাতারগুলের গাছপালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- কদম, জালিবেত, অর্জুনসহ জলসহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির গাছপালা। রাতারগুলকে স্থানীয়রা সুন্দরবন বলে, তাই মোটরঘাটে নেমে বলতে হবে সুন্দরবন যাব। ডিঙিতে বসা যাবে ৪ জন করে। আর ভাড়া পড়বে ৪০০ টাকার মতো। এই বন বছরের ৫-৬ মাস সম্পূর্ণ পানির নিচে থাকে। বাকি মাসগুলো পানি বিহীন থাকে। এজন্য এই বন ভ্রমণের ক্ষেত্রে সময়টা একটা বড় ফ্যাক্টর। শুকনো ঘুরে তেমন একটা লাভ হয় না। জুলাই থেকে অক্টোবর রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

Explore this Place Add to Wishlist
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হবিগঞ্জ

১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বলে ২৪৩ একর এলাকা নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই উদ্যানে সাতটি পাহাড়ি ছড়া আছে, তাই থেকে নামের উৎপত্তি। এটি ক্রান্তীয় ও মিশ্র চিরহরিৎ বনভূমি। যাওয়ার রাস্তাটা অসাধারণ। চা বাগানের মধ্যে দিয়ে দু পাশে ঘেরা গাছের সারি, অদ্ভুত আলো আধারি। উদ্যানে রয়েছে ২০০ এর বেশি গাছপালার রকমফের, ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তু, ১৫০-২০০ প্রজাতির পাখি। দেকা হয়ে যেতে পারে লজ্জাবতী বানর, চশমাপড়া হনুমান, মায়া হরিণের সঙ্গেও। প্রকৃতির শত প্রয়োজন আপনাকে সাতছড়ির গুণমুগ্ধ করতে যথেষ্ট।

Explore this Place Add to Wishlist