বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড (পুটনির দ্বীপ)

বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড (পুটনির দ্বীপ) সাতক্ষিরা

পুটনির দীপ সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এ পরেছে। বাংলাদেশের নতুন দেখা পাওয়া এই পুটনি আইল্যান্ড অপর নাম "বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড"। হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ও লোনাপানির মাছের খনির মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরের গভীরে জেগে ওঠা বিশাল ভূখণ্ড ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড। মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল ও বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন উপকূল দুবলার চর-হিরন পয়েন্ট থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগর গভীরে এই দ্বীপটি বাংলাদেশের আরেক ‘সেন্ট মার্টিন। সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে যাওয়া যায়। এইটার এক প্রান্তে লাল কাকড়ার ঝাক দেখতে পাবেন আর অন্য প্রান্তে কাশবন আর হরিনের। মাইলের পর মাইল দীর্ঘ এই সৈকতে বসে দেখা মেলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত জুড়ে ঘুরে ফিরছে কচ্ছপ, হাজারো লাল রঙের ছোট শিলা কাঁকড়া। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের মালেক ফরাজী নামের এক জেলে এ দ্বীপটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর নামে। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে মালেক ফরাজী ওই দ্বীপটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ একটি সাইনবোর্ডে লিখে এনে টানিয়ে দেন। এর পর থেকে দ্বীপটির নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড।

Explore this Place Add to Wishlist
শ্যামনগর জমিদার বাড়ি (হরিচরন বাবুর বাড়ি) এবং জোড়া শিবমন্দির

শ্যামনগর জমিদার বাড়ি (হরিচরন বাবুর বাড়ি) এবং জোড়া শিবমন্দির সাতক্ষিরা

দেড় শতাধিক বছর আগে জমিদার হরিচরণ রায়চৌধুরী একচল্লিশ কক্ষের তিনতলা বিশিষ্ট এল প্যার্টানের একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। যার অবস্থান সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুরে। বিশাল এলাকা জুড়ে একাধিক বাড়ি, মন্দির, মাঠ, নহবতখানা ও পুকুর সম্বলিত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক নান্দনিক জমিদার বাড়ি। শ্যামনগর থানার দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি দুই তলা বিশিষ্ট। যার প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন। জমিদার বাড়ির মূল ভবনটি ১৯ মিটার লম্বা, এর ভেতরে ছিলো আটটি পিলার ছিলো। শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে ২ কিমি দূরে জমিদার হরিচরণ রায়ের বাড়ীর দীঘির পাশে জোড়া শিবমন্দির অবস্থিত। সংস্কারের অভাবে খসে পড়ছে ইট-সুরকি। জমিদার বাড়িটিতে আশ্রয় নিয়েছে গরু আর ভাসমান মানুষ। সঠিকভারে সংরক্ষণ করলে হতে পারতো দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার দর্শনীয় পূরাকীর্তি।

Explore this Place Add to Wishlist
কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম

কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম সাতক্ষিরা

অপরূপ সন্দরযের লিলা ভুমির নাম কলাগাছি। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেজ্ঞের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশনের অধিনে এই ইকোটুরিজম কেন্দ্রটি অবস্থিত। সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ধারের সারি সারি বন আপনাকে করবে মুগ্ধ। কলাগাছিয়া ইকোটুরিজম কেন্দ্রের ঘাটে ট্রলার ভিরতেই এখানে পযাটকদের অভ্যর্থনা জানায় দুষ্টু বানরের দল। ভিতরে ঢুকলেই খাওয়ার জন্য আপনার পাশে ভিরবে বানর এবং হরিণ এর দল। এরা আপনার হাত থেকে খাওয়ার খাবে নির্ভয়ে। এই জন্য সাথে বাদাম এবং মুড়ি নিয়ে নিতে পারেন। খাওয়ানোর সময় সাথে অবস্যয় লাঠি রাখবেন না হলে বানরা আক্রমণ করতে পারে । বন ঘুরে দেখের জন্য ইকোটুরিজমের ভিতরে কাঠ দিয়ে ব্রিজ তৈরি করা আছে। বনের মধ্যে ওয়াকওয়ে দিয়ে হেটে গেলে দেখতে পাবেন চার তলা সমান উচু পযবেক্ষেন টাওয়ার। টাওয়ারের চূঁড়া থেকে পুরো সুন্দরবনের অনেকটা অংশ দেখার আনন্দ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

Explore this Place Add to Wishlist
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত সাতক্ষিরা

বাংলাদেশে যে মান্দারবাড়িয়া নামে একটা সমুদ্র সৈকত আছে তা বেশীর ভাগ মানুষের কাছেই অজানা। মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত প্রকৃতির অপরূপা সুন্দরবন ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের এক রূপসী কন্যা-যা এখনও কিছুটা অনাবিস্কৃত এবং অস্পর্শিত।সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরে মান্দারবাড়িয়ায় বন আর তার সম্মুখে বঙ্গোপসাগরের তীর জুড়ে নয়নাভিরাম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত যেন প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব আনুমানিক ৭৫ কিলোমিটার। নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে যাওয়া যায়, তার পরের পথ যেতে হবে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে। নীলডুমুর ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের সঙ্গমস্থলের পাশ কাটিয়ে কলাগাছিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, মালঞ্চ নদী হয়ে পৌঁছতে হবে মান্দারবাড়িয়ায়। মান্দারবাড়িয়ার একদিকে সুন্দরবন অপরদিকে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন যে কোনো মানুষকেই নেশা ধরিয়ে দেবে। প্রায় ৮ কিলোমিটার লম্বা এই সমুদ্র সৈকত যেন ছবির মত । এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

Explore this Place Add to Wishlist
মন্টু মিয়ার বাগানবাড়ি (মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট)

মন্টু মিয়ার বাগানবাড়ি (মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট) সাতক্ষিরা

সাতক্ষীরা শহরের থেকে মাত্র ৪.৫ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত এই রিসোর্টটি প্রায় ১০০ একর জমির উপর স্থাপিত। রিসোর্টটি বেশ খোলামেলা এবং বহু জাতের গাছপালায় পরিপূর্ণ। অতিথিদের থাকার জন্য এখানে ৯টি ভবন রয়েছে যেগুলোর একটি লেকের উপরে অবস্থিত। যেখানে ৬০টির ও বেশি কক্ষ রয়েছে। চমৎকার কারুকাজ সম্পন্ন এসব কক্ষে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে যেমনঃ শীতাতপ নিয়ন্ত্রক, টেলিভিশন, ইন্টারকম ইত্যাদি। এই রিসোর্টের সবুজ ভুমিতে যেমন হাঁটা ও বসার ব্যবস্থা আছে তেমনি এখানকার পুকুরেও সাঁতার কাটতে পারবেন। এছাড়া এখানকার লেকে প্যাডেল বোটে করে ঘুরে বেড়ানো এবং মাছ ধরেও সময় কাটাতে পারবেন। এখানে আগত অল্প বয়সী অতিথিদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, ত্রিমাত্রিক চিড়িয়াখানা এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভাস্কর্য। এছাড়া রিসোর্টের অতিথিদের জন্য ব্যাডমিণ্টন এবং টেবিল রিসোর্টে অবস্থিত চিড়িয়াখানাটিকে বলা যায় এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ । দেশের সর্ববৃহৎ এই বেসরকারি চিড়িয়াখানায় রয়েছে নানা প্রজাতির প্রাণী ও পাখি যেগুলো দেখতে পারাটা এখানে আগতদের জন্য একটি অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম। ১২০ বিঘার উপর অবস্থিত, ১০৫টা পিকনিক স্পট , কনফারেন্স রুম, চিড়িয়াখানা, সুইমিংপুল, থাকার জন্য ৩০টা আবাসিক কটেজ, মসজিদ, বিভিন্ন গাছের বাগান, পুকুর আরো অনেক মজার রাইড। আসলে এটা একটা থিম পার্ক। এর বর্তমান প্রবেশ মূল্য মাত্র ৫০ টাকা (চিড়িয়াখানা সহ)। যোগাযোগ: অফিসিয়াল নাম মোজাফফর গার্ডেন, ৯৩ সোহারার্দী এভিনিউ, বারিধারা, ঢাকা, সেল: ০১৭১২১০৪৪৩৯, ০১৭১৯-৭৬৯০০৯

Explore this Place Add to Wishlist
পলো বাইছ উৎসব

পলো বাইছ উৎসব হবিগঞ্জ

পলো বাওয়া বা পলো দিয়ে মাছ ধরা বাংলার প্রাচীন এক ঐতিহ্য। বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপিকেই বলা হয় পলো। আর পলো বাওয়া উৎসবের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরা। একটা সময় মৌসুম এলেই শৌখিন মাছ শিকারিরা নদী নালার পানিতে দলবেঁধে নেমে পড়তেন মাছ শিকারে। নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিন তারিখ ঠিক করে পর্যায়ক্রমে ছোট ছোট সব নদী ও বিলে উৎসবমুখর পরিবেশে শিকার করা হতো ছোট বড় মাছ। শুকনো জলাশয়ে প্রতি বছরের আশ্বিন মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে সৌখিন মাছ শিকারিদের এই পলো বাওয়া উৎসব। দখল, দুষণ ও ভরাটসহ নদীর অস্তিত্ব সংকটের কারণে এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না ঐতিহ্যবাহি এই উৎসব। প্রতি বছর শীত মওসুমে হাওরের পানি কমতে শুরু করলে বানিয়াচং উপজেলার আতুকুড়া, সুবিদপুর, মিঠাপুর, দরওয়া, মেওতুল, নাগুরাসহ আশপাশের গ্রামের মুরুব্বীয়ানদের পরামর্শক্রমে পলো দিয়ে মাছ শিকারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিনে কয়েক হাজার লোক পলো, জাল, দঁড়িসহ মাছ শিকারের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে বড়আন বিলে হাজির হন। মাছ শিকার উৎসব উপলক্ষে আশপাশের গ্রামগুলোতে বিরাজ করে উৎসবমূখর পরিবেশ। শিকারীদের অনেকেই বোয়াল, গজার, শোলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরেন। এই উৎসবে প্রায় এক-দেড় হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী কয়েক লাখ টাকার মাছ শিকার করেন। মাছ ধরা পড়ার সাথে সাথে তাদের আনন্দে শরীক হন পাশের লোকজন। পলো দিয়ে পানিতে একের পর এক ঝাপ দেওয়া আর হৈহুল্লোর করে সামনের দিকে ছন্দের তালে তালে এগিয়ে যাওয়া চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় এক দৃশ্য। মাছ শিকার উৎসবে পলো ছাড়াও ফার জাল, ছিটকি জাল, ঝাকি জাল, পেলুন ইত্যাদি দিয়েও মাছ শিকার করেন অনেকে। পলো সহ দেশীয় উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করলে যেমন খরচ কম তেমনি মাছের বংশ বিনাশ হয় না। হবিগঞ্জের হাওর গুলোতে মাছ শিকারের জন্য পলোর ব্যবহার হয়ে আসছে বহু পুরনো কাল থেকে। বাঁশের তৈরি এই পলো মাছ শিকারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন কৃষকরা।

Explore this Place Add to Wishlist