জিন্দাপীর মসজিদ

জিন্দাপীর মসজিদ বাগেরহাট

জিন্দাপীর মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত একটি একগম্বুজ বিশিষ্ট মধ্যযুগীয় এই মসজিদটি জিন্দাপীর মাজার কমপ্লেক্সের উত্তর-পশ্চিম কোনায় অবস্থিত। মসজিদের দেয়ালগুলো গড়ে ১.৫২মিঃ পুরু। পূর্ব বাহুতে ৩টি, উত্তর ও দক্ষিণ বাহুতে একটি করে খিলান দরজা আছে। সামনের বাহুতে আছে তিনটি মেহরাব। ভাঙা অবস্থায় থাকা ছাদের অর্ধগোলাকার গম্বুজটি ২০০২ সালে সংস্কার করা হয়। বর্গাকারে নির্মিত (৬০০মি. X ৬০০মি.) এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে তিন কি.মি দক্ষিন পূর্ব দিকে সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত। মসজিদের চার কোনে আছে চারটি আট কোনাকার বুরুজ। স্থানীয়রা মনে করেন একজন বুজুর্গ ব্যাক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন যিনি কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা অবস্থায় একদিন অদৃশ্য হয়ে যান। একারণে মনে করা হয়ে থাকে যে ঐ ব্যাক্তি এখনও জীবিত আছেন আর তাই তাঁকে জিন্দা পীর বলা হয় এবং মসজিদটিকে বলা হয় জিন্দা পীরের মসজিদ। মসজিদের কাছে একটি মাজারও আছে যেখানে প্রচুর মানুষ প্রার্থনা করে থাকে।

Explore this Place Add to Wishlist
খান জাহান আলির মাজার

খান জাহান আলির মাজার বাগেরহাট

হযরত খান জাহান আলীর (র:) মাজার খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। বাগেরহাট জেলা যে কয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুপরিচিতি লাভ করেছে হযরত খান জাহান আলী (র:) তাদের মধ্যে অন্যতম। হযরত খানজাহান আলি (র.) (জন্ম ১৩৬৯ - মৃত্যু অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯) ছিলেন একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের স্থানীয় শাসক। খাঞ্জেলী দীঘির উত্তর পাড়ে এক উচ্চ ভূমিতে তাঁর সমাধি সৌধ নির্মিত। সমাধি সৌধটি বর্গাকৃতি, এর ছাদে একটি গম্বুজ আছে। সমতল হতে গম্বুজের উপরিভাগ একটি উচ্চ কৃত্রিম ঢিপি উপর দাঁড়িয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬৭.১ মিটার পশ্চিম ও ৬৪.৭ মি. পূর্ব থেকে একটি বাইরের প্রাচীরবেষ্টিত। এটি স্থানীয় লোকদের কাছে খান জাহানের দরগাহ নামে পরিচিত। মাজার ভবনের ভেতরে ধূসর বর্ণের পাথর দ্বারা আবৃত করা রয়েছে হযরত খানজাহান (রহ.) কবর। যার উপরিভাগ অর্ধ-গোলাকার এবং লম্বায় প্রায় ৬ ফুট। ষাট গম্বুজ মসজিদ তৈরিতে যে পাথার ব্যবহার করা তাও একই ধরনের। কথিত আছে যে, হযরত খানজ-ই-জাহান (রহ.) এ সকল পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনতেন। মাজার ভবনের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে দেওয়ালে ৩টি দরজা। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিমে দরজা দু’টি লোহার গেট দ্বারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কররের আচ্ছাদনটি তৈরিতে ব্যবহৃত পাথরে চমৎকার ক্যালিগ্রাফির উৎকীর্ণ রয়েছে। এখানে আরবি ও ফারসি ভাষ্যে কালিমা, মহান আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম, খোলাফায়ে রাশেদিনের নাম, কোরআন শরিফের আয়াত, ফারসি কবিতা এবং খান-ই-জাহানের উপদেশাবলিসহ মৃত্য ও দাফনের তারিখ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হযরত খানজাহান (রাঃ) এর মাজারের প্রথম দরজা দিয়ে ঢুকেই তার পায়ের সুন্দর গেলাপে আবৃত শিলালিপিতে লেখা আছে তার মৃত্যু তারিখ। শিলালিপি অনুযায়ী ২৬ শে জিলহাজ্ব ৮৬৩ হিজরি তারিখে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং ২৭ শে জিলহাজ্ব (২৪-২৫ অক্টোবর, ১৪৫৯ খ্রি.) তাকে সমাধিত করা হয়। স্থানীয় ভাবে জানা গেল, খান জাহান আলীর মৃত্যুর দশ বছর আগে তিনি নিজের তত্ত্বাবধায়নে মাজারটি নির্মাণ করেন। এ মহান আধ্যাত্মিক নেতার দরগায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্ত তার রুহানি দোয়া লাভের আশায় মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এছাড়া প্রতি বছর ২৫ অগ্রহায়ণ এ মহান সাধকের মাজার প্রাঙ্গণে বার্ষিক ওরশ মোবারক এবং চৈত্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এক বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ ওরশ ও মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মাজারে সমবেত হন।

Explore this Place Add to Wishlist
খাঞ্জেলী দীঘি বা ঠাকুর দীঘি

খাঞ্জেলী দীঘি বা ঠাকুর দীঘি বাগেরহাট

হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) মাজারের দক্ষিণ দিকে আয়তনে প্রায় ২০০ বিঘা জমি জুড়ে খাঞ্জেলী দীঘি অবস্থিত। হজরত খান জাহান আলী (রহঃ) কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় নামে দুইটি কুমির এই দিঘিতে ছেড়েছিলেন, যেগুলো পরে মারা যায়। পরর্বতীকালে কিছু মিঠা পানির কুমির দীঘিতে ছাড়া হয়। মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগত লোক জন দীঘির এ কুমিরগুলোকে হাঁস, মুরগি, ভেড়া,খাসিসহ নানা ধরনের মানতের পশু উৎর্সগ করেন। কালা পাহাড় মারা যাওয়ার পর ষাটগম্বুজ মসজিদের জাদুঘরে মমি করে রাখা হয়েছে। দীঘির প্রধান ঘাটটি প্রশস্ত ও সুন্দর। মহিলাদের জন্য আলাদা ঘাট আছে। এ দীঘির পানি সুপেয়। অনেকে রোগপীড়া থেকে নিরাময়ের জন্য এ দীঘির পানি পান করেন এবং দীঘিতে গোসল করে। এই দীঘিকে ঠাকুর দীঘিও বলে ডাকা হয়। খাঞ্জেলী দীঘির নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন বুদ্ধ ঠাকুরের মুর্তি প্রাপ্তির জন্য এর নাম হয় “ ঠাকুর দীঘি”। অন্য মতে খানজাহানকে দেশীয় হিন্দুগণ ভক্তিভরে “ ঠাকুর ” বলতো এবং তাঁরই বিশেষ তত্ত্বাবধানে এ দীঘি খনন করা হয় বলে তাদের ভক্তিভাজন ঠাকুরের নামানুসারে ঠাকুর দীঘি বলা হতো। আবার কেউ কেউ বলেন পীর আলী মোহাম্মদ তাহের খাজাহানের প্রিয়তম বন্ধু ছিলেন। তিনি পূর্বে ব্রাক্ষ্মণ ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল শ্রী গোবিন্দ লাল রায়। খানজাহান তাঁকে আদর করে “ ঠাকুর ” বলে সম্বোধন করতেন। তাঁরই স্মৃতি রক্ষার্থে তিনি এ দীঘির নাম “ঠাকুর দীঘি”রেখেছিলেন। তাঁর মাজার খানজাহান (রঃ) মাজার সংলগ্ন পশ্চিমে অবস্থিত।

Explore this Place Add to Wishlist
রনবিজয়পুর মসজিদ

রনবিজয়পুর মসজিদ বাগেরহাট

পূরাকীর্তি এবং প্রাচীন মসজিদের শহর বাগেরহাটের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শন ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রনবিজয়পুর গ্রামের ঐতিহাসিক রণবিজয়পুর মসজিদ। অনেক ফকির বাড়ি মসজিদ নামেও একে জানে। বাংলাদেশের এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের মধ্যে সর্ববৃহৎ মসজিদ এটি। জানা যায় মসজিদটির আদি নাম দরিয়া খাঁ’র মসজিদ। এটি ১৫ শতাব্দীতে পোড়া মাটির অলংকরণে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শৈলিতে হযরত খান জাহান আলি রহঃ আমলে নির্মিত। এ মসজিদটি বিবি বেগনি মসজিদের অনুরূপ, এবং পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলী কর্তৃক নির্মিত হয়। রণবিজয়পুর গ্রামের নামেই এই মসজিদের নামকরণ হয়েছে। ধারণা করা হয় এখানে কোনো এককালে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেই যুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে এই জায়গার নাম হয় রণবিজয়পুর। বাংলাদেশ সরকার রনবিজয়পুর মসজিদকে ১৯৬১ সালে ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় সংস্কার এবং সংরক্ষণ করছে। ইটের তৈরি এই মসজিদটি বর্গকারে তৈরি। এক কক্ষ বিশিষ্ট এই মসজিদের উপরের দিকে একটি অর্ধ বৃত্তাকার গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। মসজিদের দেয়ালগুলো বেশ পুরু। কিবলা দেয়াল ছাড়া প্রতি দেয়ালেই তিনটি করে প্রবেশপথ আছে। পূর্ব দেয়ালের তিনটি প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মিহরাব। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অন্য দুটি থেকে বড়। মসজিদের বাইরে চারকোণায় চারটি মিনার রয়েছে। যেগুলো খানজাহানি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।

Explore this Place Add to Wishlist
ব্যাকওয়াটার ফ্লোটিং মার্কেট (খুলনা)

ব্যাকওয়াটার ফ্লোটিং মার্কেট (খুলনা) খুলনা

বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাজারের কথা অনেকেই শুনেছেন। ঠিক এমনই একটি ভাসমান বাজার আছে খুলনাতেও। তবে এই বাজারে বিক্রি হয় শসা। খুলনার অদূরে তেরখাদায় এই বাজারের অবস্থান। আসে পাশের গ্রামগুলো থেকে চাষিরা নৌকায় করে শসা নিয়ে আসে বিক্রি করতে। একবারে স্বচ্ছ পানি আর পাখির কলরব আপনার মন কাড়বে। আরও থাকছে পেট চুক্তি শসা খাওয়া। আপনি যত খুশি শসা খেতে পারবেন। অদ্ভুত সুন্দর একটা জায়গা এই ফ্লোটিং মার্কেট । নৌকায় করে ঘোরা যায় অনেক দুর পর্যন্ত। বরিশালের ব্যাকওয়াটার ফ্লোটিং মার্কেটের সাথে এটার সবচাইতে বড় পার্থক্য এখানকার খালে সামান্যতম স্রোত নেই।

Explore this Place Add to Wishlist
বর্ষা রিসোর্ট

বর্ষা রিসোর্ট সাতক্ষিরা

বর্ষা রিসোর্টটি ইতিমধ্যে তাদের সার্ভিস ও লোকেশানের জন্য অনেক খ্যাতি অর্জন করেছে। রিসোর্টের উঠোনে দোলনা আছে, বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য স্লীপার আছে। দারুণ সুন্দর একটা বাঁধানো ঘাঁটওয়ালা পুকুর আছে যেখানে সাদা মাছের চাষ করা হয়। রিসোর্টটির তিনপাশেই রয়েছে সুন্দরবন।পাশেই আছে নয়নাভিরাম ইকো পার্ক ও কাকরা খামার। সুন্দরবনে ঘুরার জন্য রিসোর্টের নিজস্ব জেটি এবং তিনটি বিভিন্ন আকৃতির ট্টলার ও লঞ্চ আছে আর ওরাই বন বিভাগের সব কিছু ব্যবস্থা করে দেয়। লঞ্চে ঘুরতে ১৫০০-২০০০ টাকার মত নিবে। পূর্নিমা রাতে তিনতলার টেরেসে বসে কাকরা ভাজি আর সুন্দরবন বেষ্টিত নিরবতা উপভোগের জবাব নেই। যোগাযোগঃ ওয়েবসাইটঃ barsaresortandtourism.com টেলিফোনঃ ০১৭৬৫-০১২৪৩৮

Explore this Place Add to Wishlist