জগতি রেল স্টেশন

জগতি রেল স্টেশন কুষ্টিয়া

জগতি থেকে দশর্না পর্যন্ত দেশে প্রথম রেল লাইন চালু হয় ১৮৬২ সালে। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি রেলওয়ে স্টেশন। পুরাতন স্টেশন হিসাবে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এ স্টেশনের। সংস্কার না থাকায় এ স্টেশনের পুরাতন বিল্ডিং গুলো ধ্বসে ধ্বসে পড়েছে। সরকারি জায়গা গুলোও বেহাত হয়ে গেছে। সূত্রমতে, জগতি রেল স্টেশনটি ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয়। ওই সময় প্রথম স্টেশন হওয়ার জন্য এখানেই সকল লোকজনের উঠা নামার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত ছিল। লোক সমাগমের কারণেই জগতি বাণিজ্যিকভাবে আমদানি-রফতানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। স্টেশনটি ইঞ্জিলের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল ছিল। স্টেশনের দুইপাশে দুটি বড় ইন্দারা আজও আছে। লোকজনের ভিড় সামাল দিতে এক সময়ে এখানে ২৬জন রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ ছিল। এখন সেখানে মাত্র ৩জন রয়েছে। লোকবলের অভাবে এখন স্টেশনের কার্যক্রমও ভেঙে পড়েছে। যাত্রীরা বিভিন্নভাবে হয়রানী শিকার হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় স্টেশনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রেনের যাত্রীরা সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় এ ষ্টেশনে আর কেউ যায়না বললেই চলে। স্টেশনটির সংস্কার জরুরি। যাতায়াতের জন্য রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা রায়টা ঘাট রেল লাইন। সংস্কারের অভাবে স্টেশনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

Explore this Place Add to Wishlist
বৈসাবি উৎসব

বৈসাবি উৎসব বান্দরবান

এটি মূলত পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উৎসব। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে প্রতিবছর ৩ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসব উৎযাপিত হয় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধান ৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বৈসাবি আয়োজিত হয়। উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক / বৈসু / বাইসু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বৈসাবি নামকরনও করা হয়েছে এই তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে। ত্রিপুরাদের বৈসু থেকে বৈ, মারমাদের সাংগ্রাই থেকে 'সা' এবং চাকমাদের বিজু থেকে 'বি'। এই তিন আদ্যাক্ষরের সম্মিলিত রূপ হলো 'বৈসাবি'। ফুল বিজু তিন দিন ব্যাপী উৎসবের প্রথম দিন “ফুল বিজু”। নদীতে জলদেবীর উদ্দেশ্য ফুল ভাসানোর পার্বতাঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু শুরু হয়। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। আর চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মুল বিজু। ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার পাচন। তা দিয়ে দিন ভর চলে অতিথি আপ্যায়ন। চৈত্র সংক্রান্তির দিন বা বাংলা নববর্ষের আগের দিন চাকমারা মুলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা নামে পালন করে উৎসবটি। এরপর বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন বা উৎসবের তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে, মারমারা সাংগ্রাইং আপ্যাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করবে। এ ছাড়া ১৪-১৫ এপ্রিল রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলোৎসব। গণত্মক বা পাচন বৈসাবি উৎসবে রান্না হয় মূলত আদিবাসীদের প্রধান ও জনপ্রিয় খাবার ‘গণত্মক বা পাচন’ এ খাবার সবার ঘরে রান্না হয়। এর পাশাপাশি নানা ধরনের পিঠা, সেমাই, মুড়ি-চানাচুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও ঠাণ্ডা পানীয়র আয়োজন করা হয়। পাচন রান্না হয় মূলত ২৫ থেকে ৩০ ধরনের সবজির সংমিশ্রণে। পানি উৎসব মারমা জনগোষ্ঠীর এ দিনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে জল অনুষ্ঠান বা পানি খেলা। এ উৎসবে আদিবাসীরা সবাই সবার দিকে পানি ছুঁড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন যেন গত বছরের সকল দুঃখ, পাপ ধুয়ে যায়। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় জলপূজা। এর মাধ্যমে পরস্পরের বন্ধন দৃঢ় হয়। এদিন বাড়ির আঙিনায় আগে থেকে পানি খেলার জন্য প্যান্ডেল তৈরি করা থাকে। মারমা যুবকরা বাদ্য আর গানের তালে তালে এসে উপস্থিত হয় অনুষ্ঠানস্থলে। সেখানে ফুলে ফুলে সজ্জিত প্যান্ডেলের ভিতরে পানি নিয়ে অপেক্ষায় থাকে মারমা তরুণীরা। চলে যুবক যুবতীদের এক অপরের প্রতি জল ছিটানো। এটিও বৈসাবী উৎসবেরই একটি অংশ। বিশেষ করে মারমা যুবকরা এই উৎসবে তাদের পছন্দের মানুষটির গায়ে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সবার সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করে। বৈসুক / বৈসুঃ ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু। এই উৎসব একটানা তিনদিন পালন করা হয়। এই তিন দিনের অনুষ্ঠানগুলির নাম হলো হারি বৈসু, বিসুমা বৈসু ও বিসিকাতাল বা আতাদাং বৈসু। বৈসু উৎসবের প্রথম দিন হারি বৈসু। এই দিন মহিলারা বিন্নি চাউলের পিঠা ও চোলাই মদ তৈরি করে। পুরুষেরা বাঁশ ও বেত শিল্পের প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলায় মেতে উঠে। এদিন এরা দাং, গুদু, চুর, সুকুই, উদেং ও ওয়াকারাই খেলায় অংশগ্রহণ করে। ঢোলের তালে তালে সারিবদ্ধভাবে লোকজন নাচে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিসুমাতে ত্রিপুরারা নববর্ষকে স্বাগত জানায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কলাপিঠা, চুয়ান পিঠা, জাল পিঠা, উন পিঠা ও মায়ুং পিঠা খায়। এদিন তারা নিরামিষ ভোজন করে। অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন বিসিকাতালে আমিষ খাবার গ্রহণে বাধা নেই। কেউ কিছু না খেয়ে যেন ফিরে না যায় সেজন্য সারাদিন ঘরের দরজা খোলা থাকে। এতে গৃহস্থের কল্যাণ হবে বলে মনে করা হয়। সাংগ্রাইঃ মারমা আদিবাসীরা বর্ষবরণ উৎসবকে পালন করেন সাংগ্রাই নামে। যা বাংলায় 'সংক্রান্তি' বলে পরিচিত। সাংগ্রাইয়ের প্রথম দিনকে মারমা ভাষায় 'সাংগ্রাই আক্যা' বা 'পাইং দোয়াক' (সাংগ্রাইয়ের প্রথম দিন পুষ্প আহরণ)। দ্বিতীয় দিনকে 'সাংগ্রাই বাক্' (সাংগ্রাইয়ের দিন) এবং তৃতীয় দিনকে 'সাংগ্রাই আপ্যাইং' (সাংগ্রাই বিদায়) নামে পরিচিত। সাংগ্রাই আক্যা বা পাইং ছোয়ার দিনে আসন্ন পবিত্র সাংগ্রাইকে সামনে রেখে মারমারা নিজেদের বাড়ি, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের রাস্তা পরিষ্কার করে। সাংগ্রাই বাকের দিনে খুব ভোর থেকে গ্রামে গ্রামে মারমাদের মধ্যে নিজ নিজ উদ্যোগে পুষ্প আহরণের ধুম লাগে। অনেকে এদিন খুব ভোরে বিহারে গিয়ে বুদ্ধকে উদ্দেশ্য করে 'অংরুং ছোইং' (ভিক্ষুদের সবার খাবার) দান করেন। দুপুর গড়ালে 'দোয়াইং' (ভিক্ষুদের দুপুরের খাবার)-এর দানানুষ্ঠান শুরু হয়। অতঃপর ভিক্ষুদের দোয়াইং গ্রহণ শেষ হলে বিকেলে 'নাইংসা' (সুগন্ধিকাব বিশেষ)-এর পানি, ডাবের পানি দিয়ে বুদ্ধ স্নান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংগ্রাই আপ্যাইং বা সাংগ্রাইয়ের বিদায়ের দিনটি মারমাদের কাছে নতুন বছরের শুরু বলে ধারণা করা হয়। এদিনেও পুষ্পপূজা ও দোইংতা (আহার দান) করা হয়। গ্রামে গ্রামে প্রতিবেশীদের মধ্যে পিঠা বিনিময় করা হয়। বিজুঃ চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাগণ এই উৎসবটি ৩দিন ধরে পালন করেন। এই তিন দিন হলো চৈত্রের শেষ দুই দিন ও বৈশাখের প্রথম দিন। এর মাঝে চৈত্রের শেষ দিনটি এই উৎসবের মূল আকর্ষণ। এ দিন ঘরে ঘরে পাঁচ প্রকারের সবজি সহকারে বিশেষ খাদ্য পাঁচন রাধা হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন এই পাঁচনের দৈব গুণাবলী আগত বছরের অসুস্থতা ও দুর্ভাগ্য দূর করবে। এদিন বিকেলে খেলা হয় ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘিলা, বৌচি ইত্যাদি। তরুণীরা পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেয়। বিজু উৎসবের এই তিন দিন কেউ কোনো জীবিত প্রাণী বধ করেন না।

Explore this Place Add to Wishlist
বাগেরহাট জাদুঘর

বাগেরহাট জাদুঘর বাগেরহাট

বাগেরহাট শহরের সুন্দরঘোনায় ষাট গমবুজ মসজিদের দক্ষিণ পূর্ব কোণে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। মুসলিম সংস্কৃতি ও খানজাহান আলীর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এটি তৈরি। বাগেরহাট অঞ্চল থেকে সংগৃহীত প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই জাদুঘরটি করা হয়েছে। খানজাহান আলীর স্মৃতি সংরক্ষণকল্পে জাতিসংঘের অর্থানুকূল্যো ইউনেস্কোর অর্থ সাহায্যে জাদুঘর ভবন নির্মাণ করা হয়। একতলা ভবনের তিনটি গ্যালারি বিশিষ্ট দক্ষিণমুখী জাদুঘর ভবনে সহাপত্যিক বৈশিষ্ট্য ইসলামী সহাপত্যকলাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এই জেলা সম্পর্কিত অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক পাওয়া যাবে এখানে। রয়েছে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া স্মৃতিচিহ্ন, মুদ্রা, বাসন, তৈজসপত্র, মানচিত্র, আরো আছে লিপিবদ্ধ ইতিহাস। আকর্ষনীয় হিসেবে রয়েছে সারাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মসজিদ ও পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনার সুন্দর সুন্দর সব ছবি, এক লহমায় মনে হবে মিনি বাংলাদেশ। সবচেয়ে আকর্ষনীয় হচ্ছে খান জাহান আলির ঐতিহাসিক কুমিরের মমি। প্রাপ্ত তথ্য মতে কালাপাহাড় বা ধলাপাহাড়ের মৃত শরীরকে মমি করে অথবা শুধু চামড়া দিয়ে এই ডামি বানানো হয়েছে। যদিও মাথাটি সম্পূর্ণই কৃত্রিম। টিকেট প্রাপ্তিস্থান: জাদুঘরের গেটের পাশেই রয়েছে টিকেট কাউন্টার, জনপ্রতি টিকেট এর দাম পনের টাকা করে, তবে পাঁচ বছরের কম কোন বাচ্চার জন্যে টিকেট এর দরকার পড়েনা। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রবেশ মুল্যে নির্ধারন করা হয়েছে ৫ টাকা। সার্কভুক্ত বিদেশি দর্শনার্থীর জন্যে টিকেট মূল্য পঞ্চাশ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশী দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্য একশত টাকা করে। বন্ধ-খোলার সময়সূচী: গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০ থেকে খোলা থাকে। এছাড়াও সরকারী কোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর থাকে।

Explore this Place Add to Wishlist
বিবি বেগনি মসজিদ

বিবি বেগনি মসজিদ বাগেরহাট

বিবি বেগনি মসজিদ বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ এর পশ্চিমে সিকি মাইলেরও কম দূরত্বে ঘোড়াদিঘির পাড়ে অবস্থিত একটি বৃহদাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এটি বিবি বেগনি মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক মসজিদটি ব্যাপক সংস্কারসহ মসজিদের মূল পরিকল্পনার আদলে পুনঃনির্মিত হয়েছে। এই মসজিদের নির্মান সম্বন্ধে সঠিক ইতিহাস আজও জানা যায়নি। হয়তো বিবি বেগনি নামে একজন নারী কর্তৃক নির্মিত, যাঁর পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় নি। স্থানীয় একটি জনশ্রুতি মতে, তিনি ছিলেন খান জাহানের পত্নীদের একজন। মতান্তরে, তিনি ছিলেন খান জাহানের উপপত্নী অথবা একজন ঘনিষ্ট অনুসারী এবং তাঁর কবরের উপরই খান জাহান ইমারতটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। তবে ইমারতের অভ্যন্তরে এখনও কোন খনন কাজ হয় নি বলেই ইমারতটির অভ্যন্তরে কোন কবরফলক বা কবরের চিহ্ন আছে কিনা তা বলা যাবে না। অবশ্য ইমারতটিতে এখনও তিনটি মিহরাব কুলুঙ্গি রয়েছে, যা মসজিদ স্থাপত্যে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। বর্তমানে এটি মসজিদ হিসেবে সুপরিচিত এবং মসজিদ হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। ইমারতটিতে খান জাহানের সময়কার স্থাপত্যরীতির ছাপও সুস্পষ্ট। কাজেই এটি সম্ভবত পনেরো শতকের মধ্যভাগে নির্মিত হয়েছিল। বিবি বেগনি মসজিদটি ইটের তৈরি। এর চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে। পূর্ব দেয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে খিলানাকার প্রবেশপথ রয়েছে। কিবলা দেয়ালের ভেতর দিকে রয়েছে অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত তিনটি মিহরাব। ইমারতের বর্গাকৃতি হলঘরটি একটি বৃহৎ গোলার্ধ আকৃতির ইটের গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। বর্তমানে মিহরাব, খিলানপথ ও চার কোণের মিনারে টেরাকোটা অলঙ্করণের অতি সামান্যই অবশিষ্ট আছে। এর মধ্যে রয়েছে লজেন্স ও শিকল নকশা, গোলাপ, পাঁপড়িযুক্ত পুষ্প এবং অলঙ্কৃত খাঁজকাটা খিলান।

Explore this Place Add to Wishlist
চুনাখোলা মসজিদ

চুনাখোলা মসজিদ বাগেরহাট

পূরাকীর্তি এবং মসজিদের শহর বাগেরহাটের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শন চুনাখোলা মসজিদ। পোড়া মাটির অলংকরণে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত মসজিদটি হযরত খান জাহান (রহ:)এর আমলের। ষাটগুম্বুজ মসজিদের পশ্চিমে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগুম্বুজ ইউনিয়নের চুনোখোলা গ্রামে বিবি বেগনী মসজিদের উত্তর দিকে অবস্থিত এ মসজিদ। বর্তমানে শস্য ক্ষেতর মাঝে অবস্থিত মসজিদটি। তবে নিশ্চয়ই এ মসজিদের আশেপাশে পূর্বে জনবসতি ছিল। জনশ্রুতি আছে, হযরত খানজাহান (রঃ) /’খানজাহান আলী’ এর বসতভিটার পশ্চিমে যে প্রহরা চৌকি ছিল তাকে কেন্দ্র করে এ মসজিদটি নির্মান করা হয়। ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, চুনাখোলা মসজিদের এ এলাকায় হযরত খানজাহান (র) তার বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় চুন উৎপাদন কেন্দ্র বা চুনখোলা স্থাপন করেছিলেন। সে কারণে এ মসজিদটি চুনাখোলা মসজিদ নামে পরিচিত। চুনাখোলা গ্রামে (এককালে প্রচুর চুনাপাথরের নির্যাস পাওয়া যেতো বলে এমন নাম হয়েছে) ১৫ শতকে নির্মিত এই মসজিদটি অবস্থিত। স্থানীয় জনশ্রুতি মতে খান জাহান এর কোন এক কর্মচারী এটি নির্মান করেছিলেন। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী খান জাহান আলী নির্মিত অন্যান্য স্থাপত্যশৈলী থেকে ভিন্ন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকার চুনাখোলা মসজিদকে ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। ইটের দেয়ালসমূহ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে ১৯৮০ সালে ইউনেস্কোর সহায়তায় সংস্কার করা হয়। এক গম্বুজ বিশিষ্ট র্বগাকৃতির মসজিদটির বাইরের দিক লম্বায় প্রায় ৪০ ফুট এবং ভেতরের দিক ২৫ ফুট। সুলতানী আমলের খানজাহানীয় কীর্তিটির এ মসজিদের তিন দিকে মোট ৫টি দরজা রয়েছে। পূর্বদিকে ১টি বড় (প্রধান) দরজাসহ মোট ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ১টি করে মোট ২টি দরজা রয়েছে।

Explore this Place Add to Wishlist
ঘোড়া দীঘি

ঘোড়া দীঘি বাগেরহাট

কথিত আছে, খানজাহান আলী বাগেরহাট এলাকায় ৩৬০টি মসজিদের পাশাপাশি ৩৬০টি দীঘি কেটেছিলেন। এর একটি ঘোড়া দীঘি। ষাট গম্বুজ মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে এই দীঘির অবস্থান। বাগরেহাট জেলা সদরের ষাটগুম্বজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা গ্রামে খান জাহান (রহ:) যে হাবেলী বা প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলেন তার নিকটে ষাটগুম্বজ মসজিদের পশ্চিম পাশে আবস্থিত ঘোড়া দীঘি। তবে সবচেয়ে মজার তথ্যা হল, এটিই সম্ভাবত হযরত খানজাহান (রহ:) খনন কৃত এ অঞ্চলের প্রথম দীঘি। ঘোড়াদীঘি নাম করণ নিয়ে প্রবাদ আছে যে- একটি ঘোড়া এক দৌড়ে যত দূর গিয়েছিল, ততটা দির্ঘ্যে খনন করা হয় প্রকান্ড এ দীঘি। কার কার মতে, দীঘি খননের পর খানজাহান (র:) ঘোড়ায় চরে দীঘির চারপাসে ভ্রমন করতেন তা থেকে “ঘোড়াদীঘি” নাম করণ করা হয়। আবার অনেকের মতে, দীঘিটি খননের পূর্বে এ স্থানে তার সেনাদের কুচকাওয়াজ ও ঘোড়দৌড় হতো। আর এ ঘোড়দৌড় থেকে “ঘোড়াদীঘ” নামকরণ হয়েছে।খান জাহান কর্তৃক খনকৃত ৩৬০টি দীঘির মাঝে সুপেয় জলের এই দীঘিটিকে বেশ পবিত্র ধরা হয় বিধায় এটি বেশ জনপ্রিয়। ১৯৮৬ সালে এই দীঘিকেও সংরক্ষিত পুরাকীর্তির (সংরক্ষিত জলাশয়) তালিকাভুক্ত করা হয়। ঘোড়া দিঘীই বাংলাদেশের একমাত্র সংরক্ষিত জলাশয়। আয়তকার দীঘিটি পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা। দীঘিটির আয়তন প্রায় ২০০০’ x ১২০০’। বার মাসই পানি থাকে এ দীঘিতে। এর গভীরতা কোন কোন স্থানে প্রায় ২৪/২৫ ফুট। দীঘির পূর্ব দিকে ইটের পাকা ঘাট আছে। দীঘির দক্ষিণ পাশে ১১টি দৃষ্টিনন্দন শেড তৈরি করা হয়েছে যেন পর্যটকরা ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নিতে পরেন। টয়লেট ও ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়েছে, পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়। বসার জন্য চেয়ার, ছাউনি করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে সবুজ ঘাস। চেষ্টা চলছে পর্যটক ফ্রেন্ডলি পরিবেশ তৈরির। ঐতিহাসিক এ দীঘির পানিতে লাল শাপলা ভরপুর। মাছ ধরা নিষেধ সেই ২০০১ সাল থেকে। এখন কেউ কেউ মানত করে কিছু মাছ ছাড়েন। এছাড়া মাছও ছাড়া হয় না। শানবাঁধানো একটি ঘাটও আছে।

Explore this Place Add to Wishlist