আট কবর

আট কবর চুয়াডাঙ্গা

দামুরহুদার নতিপোতা ইউনিয়নের নাটুদহ গ্রামে ১৯৭১ সালের ৫ই আগস্ট পাক সেনাদের সাথে সন্মুখযুদ্ধে শহীদ আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর বিদ্যমান যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আটকবর নামে ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ঘুরলে মুক্তিযুদ্ধের কিছু না কিছু ইতিহাস পাওয়া যায়। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার আট কবর তেমনেই বয়ান করছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। স্থানীয় ভাবে চুয়াডাংগায় ৫ই আগস্ট শহীদ দিবস পালিত হয়। কারন এই দিনে দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ৮জন বীর সেনানি সম্মুখ যুদ্ধে দেশের জন্য শহীদ হন। তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের বিশেষ উদ্যেগে তৈরী হয়েছে আট কবর স্মৃতি কমপ্লেক্স। এখানে একটি মুক্ত মঞ্চ আছে। আছে সুরম্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা। ফুল বাগান আর বিভিন্ন প্রজাতির ফলগাছ । এর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে- এর পরিসর ছোট। চেষ্টা চলছে এর পরিসর বৃদ্ধির। ৬ কিলোমিটার দুরে বাংলাদেশর প্রথম রাজধানী মুজিবনগর। এর খুব কাছেই রয়েছে জমিদার নফর পালের হাজার দুয়ারি ঘর আর তাঁর স্ত্রীর জন্য নির্মিত অপুরুপ ‘তালসারি সড়ক’।

Explore this Place Add to Wishlist
টেগোর লজ

টেগোর লজ কুষ্টিয়া

রবি ঠাকুরের নাম আমাদের কালচারের সাথে যেন মিশে গেছে। তেমনেই এক স্মৃতি বিজড়িত স্থান হচ্ছে টেগোর লজ। শিলাইদহ কুঠিবাড়ীতে উঠার আগে এই লজে বিশ্রাম নিতেন। পরে পালকি যোগে যেতেন শিয়ালদহ কুঠিবাড়ী। ১৮৯৫ সালে কবিগুরু যখন কুষ্টিয়ায় আসেন,পারিবারিক প্রতিষ্ঠান 'টেগর এন্ড কোম্পানি'র ব্যবসায়িক কাজে তিনি এই টেগর লজটি নির্মান করেছিলেন।শহরের মিলপাড়া এলাকায় কালের নানা ইতিহাস আর ঐতিহ্য বহন করে আসছে রবিঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত দোতলা এই লজবাড়িটি। এখানে বসে কবি অসংখ্য কবিতা লিখেন যা পরবর্তিকালে “ক্ষণিকা”, কথা ও কাহিনীতে প্রকাশিত হয়েছে। বাড়িটি শহরের মিলপাড়ায় বড় ষ্টেশন থেকে দুইশ মিটার অবস্থিত। জায়গা খুব বেশি নয়, সাকল্যে নয় কাঠা। তার ওপরে ছোট্ট দোতলা বাড়ি। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা। উত্তর-দক্ষিণ দুই পাশেই বারান্দা। পশ্চিম পাশের কুঠুরির কোণে দোতলায় ওঠার প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি। বাড়িতে প্রবেশের পথ অবশ্য উত্তর দিকে। একেবারে মিলপাড়ার সড়কের সঙ্গে লাগোয়া। বাড়িটির দোতলা সেকেলে স্থাপনাশৈলীতে ফুটে আছে আভিজাত্য। দোতলা ভবনের ওপরে রয়েছে একটি বড় কক্ষ। নিচের তলায় রয়েছে বড় একটি হলঘর,আর ওপরের তলায় রয়েছে তিনটি ঘর।মাঝের একটি ঘরে রাখা আলমারিতে রয়েছে কবিগুরুর রচিত গ্রন্থমালা আর দেয়ালে ঝোলানো রয়েছে কবিগুরুর আঁকা ১২টি ছবির অনুকৃতি।ওপরের তলায় ওঠার জন্য রয়েছে প্যাঁচানো একটি লোহার সিঁড়ি। প্রবেশ পথে রয়েছে কবির একটি আবক্ষ মূর্তি। বাড়িটির ভেতরের দিকে রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা আঙিনা।সেখানে একপাশে বানানো আছে ছোট একটি মুক্তমঞ্চ। রবীন্দ্রজয়ন্তীসহ বিভিন্ন উপলক্ষে সেখানে আয়োজন করা হয় গীতিনাট্য, আবৃতি উৎসব, সঙ্গীত সন্ধ্যার।রবীন্দ্রপ্রেমীদের জন্য যেকোন রবীন্দ্রোৎসব উপভোগ করার একটি আদর্শ জায়গা এই টেগর লজ। কবির জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে ভক্তরা ফুলের ডালি সাজিয়ে টেগর লজে হাজির হন। মাথা নিচু করে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। লজের প্রবেশ দুয়ারে স্থাপন করা কবির আবক্ষ ভাস্কর্যে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। মিলপাড়ায়, মোহিনী মিল ও বড় বাজারের পাশে ঠাকুর লজ অবস্থিত।

Explore this Place Add to Wishlist
রেইনউইক বাঁধ

রেইনউইক বাঁধ কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া শহরবাসীর জন্য গড়াই নদীর সাথে রেইনউইক বাঁধটা হল কুষ্টিয়ার কক্সবাজার। রেইনউইক বাঁধ কুষ্টিয়া শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত। এটি গড়াই নদীর কবল থেকে শহর রক্ষা বাঁধ। রিক্সাযোগে যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ১০ মিনিট। ডবলিউ বি রেনউইক নামে জনৈক স্কটিশ ভদ্রলোক রাজশাহী জেলার বাগাতী পাড়া থানার লক্ষণ হাটি নামক স্থানে ১৮৮১ সালে মেসার্স রেনউইক এন্ড কোম্পানী নামে ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাটি প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি লিমিটেড কোম্পানীতে রুপান্তরিত হয়। চিনি কলের যাবতীয় খুচরা যন্ত্রাংশ, কৃষিযন্ত্র, আখ মাড়াই কল ও তার যন্ত্রাংশ এই কারখানায় তৈরী করা হয়। এই মিলের উত্তর দিক সংলগ্ন গড়াই নদী। নদীর তীরবর্তী বাঁধ এবং এর সঙ্গেই মিলে পতিত জমিতে লাগনো মনোরম বৃক্ষ শোভিত স্থানটি কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন। নদীর তীরে এই স্থানটি শহরের মানুষের কাছে অবসর বিনোদনের জন্য জনপ্রিয়। এই স্থানটির একটি বিশেষত্ব এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুইই দেখা যায়। এই দুই সময়েই এখানে লোক সমাগম বেশি হয়। বর্তমানে বাঁধের পশ্চিমে নদীর বাঁকে বাঁধটি বর্ধিত করা হয়েছে। আরো বেশি সৌন্দর্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাঁধটি রেনউইক বাঁধ নামে পরিচিত। এক কিলোমিটার পূর্বে থানাপাড়াতে ২য় এবং এক কিলোমিটার পশ্চিমে ৩য় বাঁধ রয়েছে।

Explore this Place Add to Wishlist
পাকশী রিসোর্ট

পাকশী রিসোর্ট পাবনা

পদ্মার পাড়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে আসতে চাইলে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত পাকশী রিসোর্ট হতে পারে আপনার গন্তব্য। প্রমত্তা পদ্মার পাশেই ৩৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে ‘পাকশী রিসোর্ট’। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং ল্যান্ডস্কেপিং রিসোর্টটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। আছে লং টেনিস, বাস্কেট বল, ব্যডম্যেন্টন, টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড, কেরাম ও দাবাসহ আরো নানা ধরনের ইনডোর গেইমস। হাটতে পারেন ফুল বাগান বা লেকের ধারে। সাঁতার কাটতে পারেন সুইমিং পুলের স্বচ্ছ পানিতে। রিসোর্টে আছে দেশি বিদেশী প্রায় ৪ শতাধিক নানা প্রজাতির গাছ ও ফলের বাগান। অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন যারা, আয়োজন করতে পারেন ক্যাম্প ফায়ারের এবং থাকতে পারেন তাঁবুতে। এখানে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানাও। দেখতে পাবেন চিত্রা হরিণ, বানর ও কালিম পাখি। যারা নগর জীবনের ক্লান্তিতে হাঁপিয়ে উঠেছেন কিছুটা সময়ের জন্য একটু নির্মল বাতাস আর আনন্দ পেতে চান তারা চলে যেতে পারেন পাকশী রিসোর্টে। সেই সাথে আপনি লোকজ সঙ্গীত উপভোগ করতে পারেন। যোগাযোগ ঠিকানা : হাউস ৯৯/এ, রোড # ০৬ ওল্ড ডিওএইচএস, বনানী, ঢাকা। মোবাইল-০১৭৩০৭০৬২৫১, ০১৭৩০৭০৬২৫২, ৮৭৫২০৭৫

Explore this Place Add to Wishlist
মোহিনী মিল

মোহিনী মিল কুষ্টিয়া

১৯০৬ ইংরেজি সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকালে বিলাতী পণ্য বর্জন উপলক্ষে স্ব-দেশী আন্দোলনের সময় দেশীয় পণ্য ব্যবহারের লক্ষ্যে, এদেশে ছোট বড় মিল-কলকারখানা গড়ে ওঠে। তারই ফলশ্রুতি, কুষ্টিয়া "মোহনী মিল"। কয়েক হাজার কর্মচারী'র কর্মসংস্থানের ও তথাধিক মানুষের অন্ন-সংস্থানের কেন্দ্রস্থল এই মিল'কে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে ওঠে রেইলওয়ে স্টেশন (কুষ্টিয়া বড় স্টেশন) এবং সাব-পোস্ট অফিস (মোহিনী মিলস্, কুষ্টিয়া-৭০০১) । "মোহিনী মিল"-এর নামেই ওই এলাকা'র নামকরন করা হয় "মিলপাড়া"। কুষ্টিয়ার অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ত্ব মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে মিলপাড়া এলাকায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করেন মোহিনী মিল। সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মিল। সমসাময়িক কালে অন্যান্য বস্ত্র কলের তুলনায় এই মিলের উৎপাদন অনেক বেশী মানসম্পন্ন ছিল বলে কালক্রমে এটি দেশের অন্যতম সেরা কাপড়ের মিলে পরিণত হয়। সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতি লাভ করে। মাত্র ৮টি তাঁত নিয়ে মিলটি উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তীতে মোহিনী মিল ব্যপ্তি লাভ করে। এর শ্রমিক সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে উন্নীত হয়। মোহিনী মিলের শাড়ি ও ধুতী বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে।। সে সময় বিলেত থেকে পিতলের হ্যান্ডলুম মেশিন আর পিতলের তৈরি প্রায় ২০০ তাঁত আমদানি করে মিলে বসেয়েছিলেন মোহিনী বাবু। এ মিলে তৈরি সুতা ভারতবর্ষের চাহিদা পূরণ করে মায়ানমার, শ্রীলংকা, পাকিস্তান যেত। মোহিনী মিলের স্বর্ণ যুগ চলে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত। এরপর সবই ইতিহাস। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রযন্ত্রের কালা থাবায় পড়ে দেশ ছাড়তে হয় মোহিনী বাবুর। বন্ধ হয়ে যায় মোহিনী মিল। এখন সবই কালের সাক্ষী। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ এই মোহিনী মিল। জায়গাটা কোন ভূতুড়ে বাড়ীর চেয়ে কম নয়। গা ছম ছম একটা ভাব আছে। আর এখানে বসত বাড়ী গড়েছে কিছু বেরসিক শিয়াল। পুরান বাড়ীঘর যারা পছন্দ করেণ তারা ঘুরে আসতে পারেন মোহিনী মিল।

Explore this Place Add to Wishlist
ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ২১ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়ক থেকে প্রায় ৬.৫ কিমি সরাসরি পশ্চিমে অবস্থিত। ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হাজার বছরের পুরার্কীতি ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। মসজিদটি ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য। তবে এটি কবে, কে নির্মাণ করেছেন তার সঠিক ইতিহাস কেউ জানে না। এ মসজিদ এবং নিকটবর্তী ধ্বংসোন্মুখ একটি সমাধির কারণেই ঝাউদিয়া এলাকাটি বিশেষভাবে পরিচিত। স্থানীয় জনগণের বিশ্বাস এ মসজিদ ও সমাধি উক্ত সমাধিতে শায়িত জনৈক সুফী সাধকের কীর্তি। ঝাউদিয়া মসজিদ সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক কিংবদন্তী প্রচলিত তবে এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় না। জনশ্রুতি অনুসারে, ইরাকের শাহ সুফি আদারি মিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আস্তানা তৈরি করেন ও তিনিই এ সময় এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে, প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এটাও মনে করা হয় যে, মসজিদটি অলৌকিকভাবে তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা এটাও মনে করেন মসজিদের পাশেই উক্ত সুফি সাধকের কবর রয়েছে। বর্তমান মসজিদটির দ্বারপ্রান্তে এটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় তৈরি করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি সম্পর্কেও প্রত্নতাত্ত্বিক কোন নথি পাওয়া যায়নি। ১৯৬৯ সালে এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাতে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে নিকটবর্তী এলাকার মানুষ বিশেষ করে শুক্রবারসহ প্রতিদিন এখানে সমবেত হয়ে তাঁর অনুকম্পা ও সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনা করে। ঝাউদিয়া মসজিদটি পাঁচটি গম্বুজ ও প্রবেশপথের কাছে দুটি মিনার নিয়ে গঠিত।

Explore this Place Add to Wishlist