কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ

কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ বরিশাল

বরিশাল জেলার এক পুরানো মসজিদ এই কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ। এটি ওই এলাকাতে মিয়া বাড়িতে অবস্থিত যার জন্য মিয়া বাড়ি মসজিদ নামে ই পরিচিত। বরিশাল জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ হলো কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ। মনে করা হয়ে থাকে ১৮শ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সাম্প্রতিককালে কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি রঙ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটির মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ কারনে এই মসজিদটির প্রাচীন বৈশিষ্ট্যগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে গিয়েছে। উঁচু বেসম্যাণ্টের উপর এই কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। নীচতলায় বেসম্যাণ্টের অভ্যন্তরে কয়েকটি কক্ষ রয়েছে যেগুলো মসজিদের নিকটে অবস্থিত মাদ্রাসার ছাত্রদের থাকার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসজিদে প্রবেশ করার জন্য দোতলায় একটি প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। আয়াতক্ষেত্রাকার এই মসজিদটির উপরিভাগে তিনটি ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটি গম্বুজের চেয়ে আকারে কিছুটা বড়। কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদের সামনের দেয়ালে চারটি মিনার এবং পেছনের দেয়ালে চারটি মিনার সমেত মোট আটটি মিনার রয়েছে। এছাড়া সামনের এবং পেছনের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে কয়েকটি ছোট মিনার রয়েছে। মসজিদের উপরিভাগ এবং সবগুলো মিনারে ব্যাপকভাবে কারুকাজ করা হয়েছে। মসজিদটির স্থাপত্যরীতিতে পুরান ঢাকায় অবস্থিত শায়েস্তা খান নির্মিত কারতলব খান মসজিদের অনুকরণ দৃশ্যমান। কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদের পূর্বদিকে একটি বিশালাকারের পুকুর রয়েছে।

Explore this Place Add to Wishlist
গুঠিয়া মসজিদ

গুঠিয়া মসজিদ বরিশাল

বাইতুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স যা সাধারণ ভাবে গুঠিয়া মসজিদ নামেই পরিচিত। বরিশাল মেইন সিটি থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এই মসজিদটি। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর মসজিদ এটি। দেশের দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ। গুঠিয়া মসজিদ নামে খ্যাত এই মসজিদটি উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত। বাইতুল আমান জামে মসজিদ বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় অবস্থিত।এখানে ২০ হাজার অধিক ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান রয়েছে। চাংগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ এটির নির্মাণ ব্যয় বহন করেন। কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথের ডানে বড় পুকুর। পুকুরের পশ্চিম দিকে মসজিদ অবস্থিত এবং এর মিনারটির উচ্চতা প্রায় ১৯৩ ফুট। ১৪ একর জমির উপর স্থাপিত এই মসজিদটিতে ব্যাবহার করা হয়েছে উন্নমানের কাঁচ, ফ্রেম, বোস স্পিকার। এছাড়া মসজিদটির সীমানার মধ্যে ঈদগাহ্ ময়দান, দিঘি, এতিমখানা, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক, পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান রয়েছে। মসজিদের স্তম্ভটি বিশ্বের বিভিন্ন পবিত্র স্থানের মাটি ও জমজম এর পানি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ভাবে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে। এক ওয়াক্তের নামাজ পড়ে আসতে পারেন এখান থেকে।

Explore this Place Add to Wishlist
দুর্গাসাগর দিঘী

দুর্গাসাগর দিঘী বরিশাল

দুর্গাসাগর হল, বাংলাদেশের দক্ষিনে বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি বৃহৎ দিঘী। বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে স্বরূপকাঠি - বরিশাল সড়কে মাধবপাশায় এর অবস্থান। শুধু জলাভূমির আকার ২৭ একর। পার্শবর্তী পাড় ও জমি সহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর। ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ন এই বিশাল জলাধারটি খনন করেন। তার স্ত্রী দুর্গামতির নামানুসারে এর নাম করন করা হয় দুর্গাসাগর। ১৯৭৪ সালে তৎকালিন সরকারের উদ্যোগে দিঘীটি পুনরায় সংস্কার করা হয়। বর্তমানে “দুর্গাসাগর দিঘীর উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারন্য” নামে একটি প্রকল্পের অধিনে বরিশাল জেলা প্রশাসন দিঘীটির তত্ত্বাবধান করছে। সম্পূর্ণ দিঘীটি উঁচু সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেড়া। এই দুই দিকে প্রবেশের জন্য দুইটি গেট আছে। দিঘীর মাঝখানে জঙ্গলপূর্ণ একটি ছোট দ্বীপ আছে। শীতকালে এখানে অতিথি পাখির সমাগম হয়। চৈত্রমাসের অষ্টমী তিথীতে হিন্দু ধর্মালম্বীরা এখানে পবিত্র স্নানের উদ্দেশ্যে সমবেত হন। বিশাল সিমেন্টের প্রশস্ত ঘাটলা, দীঘির মাঝে একটি সুন্দর দ্বীপ, যেখানে শীতকালে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। পাখিদের অভয়ারণ্য এই এলাকা। দীঘির পারে সরু রাস্তা, মাঝে মাঝে বসার বেঞ্চ, ঘন সবুজ বিভিন্ন ধরনের গাছ – আপনাকে দিবে অনাবিল শান্তি। যারা কখনো বরিশালে আসবেন, এই দূর্গা সাগর দেখতে ভুলবেন না।

Explore this Place Add to Wishlist
দপদপিয়া সেতু

দপদপিয়া সেতু বরিশাল

দপদপিয়া ব্রিজ বাংলাদেশে উচু ব্রিজ গুলোর একটি। এর কারণ এর নিচে দিয়ে বরিশাল-ঝালকাঠি-পটুয়াখালির লঞ্চ যায়। এটি আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ ব্রিজ নামেও পরিচিত। রূপাতলি বাস স্ট্যান্ড থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যেতে হলে এই ব্রিজ দিয়ে যেতে হবে। ব্রিজে গাড়ি যাতায়াতের জন্য টোল দিতে হয়। ব্রিজের উপর থেকে কীর্তনখোলা নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। খুব ভোড়ে অথবা বিকালে লোকজন ভীড় করে এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে।

Explore this Place Add to Wishlist
প্রাচীন শহর মোহাম্মদাবাদ- ঝিনাইদহের বারোবাজার

প্রাচীন শহর মোহাম্মদাবাদ- ঝিনাইদহের বারোবাজার ঝিনাইদহ

একই জায়গায় এতোগুলো মসজিদ আর সুফী-মরমী সাধকদের মেমোরিয়াল এই ঝিনাইদহ ছাড়া বাংলাদেশে আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখানে আছে প্রাচীন শহর মোহম্মদাবাদ। বর্তমানের ঝিনাইদহের বারবাজার এলাকা প্রাচীন কালে ছাপাইনগর হিসাবে খ্যাতি ছিল। রাজত্ব চলতো এখানে বৌদ্ধ হিন্দু রাজাদের। খান জাহান আলী তার বারজন সহচর নিয়ে আসেন এই ছাপাইনগর। সেখান থেকেই এর নাম বারোবাজার। যুদ্ধ কিংবা মহামারিতে ছাপাইনগর ধ্বংস হয়ে যায়। থেকে যায় প্রাচীন ইতিহাস। ১৯৯৩ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে বের হয়ে আসে ১৫টি স্থাপনা যায়- ৯ টি মসজিদ, ৪ টি কবরস্থান, ১ টি প্রাসাদ এবং একটি নৌ বন্দরের ধ্বংসাবশেষ। মসজিদ্গুলো হচ্ছে সাতগাছিয়া মসজিদ, ঘোপের ঢিপি কবরস্থান, নামাজগাহ কবরস্থান, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, মনোহর মসজিদ, জাহাজঘাটা, দমদম প্রত্নস্থান, গোড়ার মসজিদ, পীর পুকুর মসজিদ, শুকুর মল্লিক মসজিদ, নুনগোলা মসজিদ, খড়ের দিঘি কবরস্থান, পাঠাগার মসজিদ ও বাদেডিহি কবরস্থান। জোড়বাংলা মসজিদ খননের সময় একটি শিলালিপি পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে পুসাইন ৮০০ হিজরি। এথেকে আন্দাজ করা যায় স্থাপনা গুলো প্রায় ৬৫০ বছর পুরানো। এ স্থাপনার গুলার মধ্যে সবচেয়ে আর্কষনীয় মসজিদ হচ্ছে গোড়ার মসজিদ। এ মসজিদের বাহিরের দিকে রয়েছে টেরাকোটার অপূর্ব কাজ। এর খানিকটা দূরেই রয়েছে গলাকাটা মসজিদ। জনশ্রুতি আছে সে সময়ের এক অত্যাচারী রাজা প্রজাদের বলি দিয়ে এই মসজিদের দীঘির মধ্যে লাশ ফেলে দিত। সে অনুযায়ী এর নাম হয়েছে গলাকাটা মসজিদ। এর পর বলা যায় এই শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদের কথা। সাতগাছিয়া আদিনা মসজিদ। প্রায় ৭৭ ফুট লম্বা ও ৫৫ ফুট চওড়া মসজিদের ভেতরে আছে ৪৮টি পিলার। পশ্চিম দেয়ালে লতা-পাতার নকশা সমৃদ্ধ তিনটি মিহরাব আছে। সর্বপ্রথম গ্রামবাবাসী এই মসজিদটিকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে। এরপর বিশেষ ভাবে বলা যায় নুন গোলা, শুকুর মল্লিক মসজিদের কথা। এই শহরের সবচেয়ে বড় এবং ছোট এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ হচ্ছে যথাক্রমে নুনগোলা ও শুকুর মল্লিক। প্রতিটি মসজিদের আছে নিজস্ব ইতিহাস। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর অত্যন্ত যত্নের সাথে পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলেও পর্যাপ্ত পাবলিসিটি না হওয়ায় এখনো অনেকেই জায়গাটি চিনেন না।

Explore this Place Add to Wishlist
শুকুর মল্লিক মসজিদ

শুকুর মল্লিক মসজিদ ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার একটি মসজিদ। একগম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির নাম শুকুরমল্লিক মসজিদ। আশির দশকে পুরো এলাকাটিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মাটি খুড়ে বের করে বারোটি মসজিদ এবং একটি জাহাজঘাট। সবচাইতে ছোট এবং দৃষ্টিনন্দন শুকুরমল্লিক মসজিদ এই বারোটি মসজিদেরই একটি। শুকুর মল্লিক মসজিদটি বারোবাজার ইউনিয়নের হাসিলবাগ গ্রামে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ এটি। স্থানীয়দের মধ্যে এটি ‘হাসিলবাগ মসজিদ’ নামেও পরিচিত। শুকুর মল্লিক মসজিদের আকৃতি বর্গাকার। বারোবাজারে আবিষ্কৃত অন্য এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট। মসজিদটি দেখতে অনেকটা ঢাকার বিনত বিবির মসজিদের মতো। মসজিদের পূর্বদিকে একটি প্রবেশপথ রয়েছে। প্রায় এক দশমিক দুই মিটার পুরু দেয়াল ও অর্ধাবৃত্তাকার আকৃতির একটি মেহরাব রয়েছে। মেহরাবটি মসজিদের কিবলা দেওয়ালে। এর উভয় পাশে একটি করে বন্ধ মেহরাব দেখা যায়। কেন্দ্রীয় মেহরাবটিতে পোড়ামাটির ফলকে ঘণ্টা ও চেইনসহ নানা ধরনের নকশা চোখে পড়ে। মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের এক নয়নাভিরাম ও অনন্য উদাহরণ।

Explore this Place Add to Wishlist