বিবিচিনি শাহী মসজিদ

বিবিচিনি শাহী মসজিদ বরগুনা

বাংলাদেশের অন্যতম ব্যতিক্রমি একটি মসজিদ হচ্ছে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায় অবস্থিত ৩৫৮ বছরের পুরাতন বিবিচিনি শাহী মসজিদ। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনায় জানা যায়, ১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দে হযরত শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ (রঃ) পারস্য থেকে এই এলাকায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসে বিবিচিনিতে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাঁর কন্যা চিনিবিবি এবং ইসাবিবির নামানুসারে বিবিচিনি গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে এবং মসজিদটির নাম রাখা হয়ছে বিবিচিনি শাহী মসজিদ। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট, প্রস্থ ৩৩ ফুট, দেয়ালগুলো৬ ফুট চওড়া। মসজিদের ইটগুলো মোঘল আমলের ইটের মাপের সমান। সমতল ভূমি হতে মসজিদের স্থানটি ৩০ ফুট টিলার উপর অবস্থিত । তার উপরও প্রায় ২৫ ফুট উচ্চ মসজিদ গৃহ। মসজিদের পাশে রয়েছে ৩ টি কবর যা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ধর্ম। কবর ৩ টি সাধারণ কবরের ন্যায় হলেও লম্বা ১৫/১৬ হাত। এলাকাবাসীর জানামতে সেখানে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ্ (র:) এবং তার কন্যা চিনিবিবি এবং ইসাবিবি। আরো জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে হযরত শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ্ (র:) পরলোকগমন করেন এবং মসজিদের পার্শ্বে তাকে সমাহিত করা হয়।

Explore this Place Add to Wishlist
শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর

শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর বরিশাল

চাখার বয়েজ হাইস্কুল ও ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ২৭ শতক জমির উপর গড়ে উঠেছে শেরেবাংলা স্মৃতি জাদুঘর । চাররুম বিশিষ্ট জাদুঘরে রয়েছে দুটি ডিসপেস্ন রুম, একটি অফিস রুম ও একটি লাইব্রেরী রুম । ঢুকেই হাতের বাঁদিকে শেরে বাংলা একটি বিশাল প্রতিকৃতি তার জীবনকর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সামাজিক রাজনৈতিক, পারিবারিক ছবি, পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত শেরে বাংলার বিভিন্ন কর্মকান্ডের ছবি । জাদুঘরে ফজলুল হকের ব্যবহৃত নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে আরাম কেদারা, কাঠের খাট, তোষক, আলনা, ড্রেসিং টেবিল, টুল, চেয়ার-টেবিল, হাতের লাঠি, পানীয় জলের গস্নাস, কিছু মালপত্র। রক্ষিত পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালো পাথরে নির্মিত অষ্টভুজা মারীচী দেবী মূর্তি, কালো পাথরে একটি বড় শিবলিঙ্গ, ব্রোঞ্জের খসপর্ণ বৌদ্ধ মূর্তি, স্বর্ণমুদ্রা, সাধা পাথরের ছোট শিব মূর্তিসহ ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা, শ্রীলংঙ্কা, ব্রিটিশ ও সুলতানি আমলরে তাম্র মুদ্রাসহ অন্যান্য প্রত্ন নিদর্শন । টিকেট প্রাপ্তিস্থানঃ জাদুঘরের গেটের পাশেই রয়েছে টিকেট কাউন্টার, জনপ্রতি টিকেট এর দাম দশ টাকা করে, তবে পাঁচ বছরের কম কোন বাচ্চার জন্যে টিকেট এর দরকার পড়েনা। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রবেশ মুল্যে নির্ধারন করা হয়েছে ৫ টাকা। সার্কভুক্ত বিদেশি দর্শনার্থীর জন্যে টিকেট মূল্য পঞ্চাশ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশী দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্য একশত টাকা করে। বন্ধ-খোলার সময়সূচীঃ গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০ থেকে খোলা থাকে। এছাড়াও সরকারী কোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর থাকে ।

Explore this Place Add to Wishlist
শাপলা বিল

শাপলা বিল বরিশাল

বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শাপলার এক বিশাল রাজ্য। কখনো কখনো চোখ ধাঁধিয়ে যায়! মন জুড়িয়ে যায়। ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকায় চেপে হারিয়ে যাওয়া যায় শাপলা ফুলের এই রাজ্যপাটে। বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার অন্তর্গত সাতলা গ্রামে গেলে দেখা মিলবে নয়নাভিরাম এক দৃশ্যের।প্রায় ১০ হাজার একর জলাভূমি জুড়ে এরকম লাল শাপলার আধিক্য। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় শাপলা চাষ ও এর বিপণনের মাধ্যমে। সাতলা বর্তমানে একটি পর্যটকমুখী এলাকা হলেও এটি একটি বিলের নাম। একসময়ে বর্ষাকালে এটা সম্পূর্ণ ডুবে যেত। স্বাধীনতার পরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রথম সাতলায় বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। তারপর বিল থেকে বিশাল এলাকা উত্থিত হয়ে বর্তমানে মনোরম এলাকায় পরিণত হয়েছে সাতলা গ্রাম। এই বিলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা ফোটে। ছোট নদী, হাওর ও বিলবেষ্টিত ছোট গ্রাম সাতলা। বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন। ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগদা ও খাজুরিয়া গ্রামের কয়েকশ হেক্টর জমি নিয়ে এ বিলের মূল অবস্থান। সবচেয়ে বেশি শাপলার উপস্থিতি দেখা যায় সাতলার নয়াকান্দি ও মুড়িবাড়ীতে। এখানে মার্চ/এপ্রিল থেকে শুরু করে নভেম্বর/ডিসেম্বর পর্যন্ত শাপলার দেখা মেলে। সূর্যের তেজ যত তীব্র হয় শাপলা ফুল ততই বুজে যায়। শাপলার আসল সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। তাই শাপলার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে চাইলে খুব সকালেই সাতলা যাওয়া উত্তম।

Explore this Place Add to Wishlist
অক্সফোর্ড মিশন চার্চ

অক্সফোর্ড মিশন চার্চ বরিশাল

অক্সফোরর্ড মিশন চার্চ বরিশাল শহরের মাঝে বগুড়া রোডে অবস্থিত। চার্চটি ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত। লাল ইটের তৈরি কলোনিয়াল স্ট্রাকচার আপনার নজর কাড়বে। খ্রীষ্টিয় মিশনের লোকজন যারা ইউরোপ থেকে এসেছিলেন এই নদী বিধৌত শহরকে ভালোবেসেই এখানে এই অক্সফোর্ড মিশন চার্চ স্থাপন করেছিল। ১৯০০ সালের দিকে মিশনারিজ স্কুল ও চালুকরেন যা ইংল্যান্ড বেইজড। সিস্টার এডিথ প্রথম স্কেচ করেন তা ডিজান করে একজন গ্রীক আর্কিটেক্ট এবং এই অনুসারে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯০৩ সালে এবং সমাপ্তি হয় ১৯০৭ সালে। বাইরে থেকে এটা পাঁচতলা ভবন মনে হলেও ভিতরে আসলে এক ফ্লোরের বিশাল প্রেয়ার হল। ৪০টার মত আর্কওয়ে আর করিডোর আছে মূল স্ট্রাকচার কে শক্তিশালী করার জন্য। এর ইন্টেরিওরে প্রচুর কাঠের কাজ করা আর ফ্লোর মার্বেল টাইলস দিয়ে আবৃত। জনসাধরণ ঢুকতে পারবে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে।

Explore this Place Add to Wishlist
মমিন মসজিদ

মমিন মসজিদ পিরোজপুর

ঐতিহাসিক কাঠ/মমিন মসজিদটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি শিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যকলা। বিচিত্র কারুকাজ ও ক্যালিগ্রাফি সমৃদ্ধ কাঠ দিয়ে তৈরি বিরল মসজিদ কাঠ/মমিন মসজিদ।পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে কাঠের শিল্পকর্মের দারুন নিদর্শন 'মমিন মসজিদ'। গ্রামের বাসিন্দা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন ১৯১৩ সালে ২২ জন কাঠ মিস্ত্রী নিয়ে এ মসজিদ এর কাজ শুরু করেন। এসব মিস্ত্রীরা ৭ বছর নিরলশ পরিশ্রম করে মমিন সাহেবের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দ্যান। ২৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের মসজিদটি পুরো উপমহাদেশে বিরল একটি কাঠের মসজিদ। মমিন মসজিদ তৈরিতে লোহাকাঠ ও সেগুনকাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠগুলো মায়ানমার, ত্রিপুরা ও আসাম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। মসজিদের কাঠামো তৈরিতে লোহার পেরেক ব্যবহার না করে কাঠের শলা ব্যবহার করা হয়। মুল দরজায় লেখা অাছে ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’।এ মসজিদে কাঠ শিল্পে জ্যামিতির ব্যবহার এবং কাঠের ওপর আরবি ক্যালিগ্রাফি সবাইকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৭ এপ্রিল সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী মমিন মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০০৮ সালে খুলনা জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়নে মমিন মসজিদ প্রথম বারের মত সংস্কার করা হয়।

Explore this Place Add to Wishlist
লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি

লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি বরিশাল

গ্রামের নাম লাখুটিয়া, সেজন্যই জমিদার বাড়ি 'লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি' নামে পরিচিত। যদিও এখানকার মানুষ আঞ্চলিক উচ্চারনজনিত কারনে একে 'লাকুটিয়া' বলে। এই জমিদারীর পত্তন করেন 'রূপচন্দ্র রায়'। পরবর্তীতে যা সম্প্রসারণ করেন তার পৌত্র 'রাজচন্দ্র রায়'। জমিদার রাজচন্দ্র রায়'ই এই বিখ্যাত লাখুটিয়া বা লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। মূল ভবন দুই তলা, যা এখনও ভগ্নদশায় দাড়িয়ে আছে। ব্যবহার অনুপযোগী এই ভবনের দরজা, জানালা সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে তিনটি মন্দির , দুইটি পুরোনো বাড়ি ও একটি বিশাল দিঘী রয়েছে। জমিদার বাড়ির দক্ষিনে একটি বিশাল দিঘী এখনও ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় বর্তমান। মূল ভবনের অদূরে, পশ্চিম দিকে একসারিতে কয়েকটি শিব মন্দির আছে। বর্তমানে যা প্রার্থনার অযোগ্য। মূল ভবনের পূর্ব দিকে, জমিদার বাড়ি ঢোকার মুখে কয়েকটি ছোট ছোট মঠ আছে। সমগ্র জমিদার বাড়ি এখন 'বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (BADC)' এর আওতাধীন। লাখুটিয়া জমিদার বাড়ী বর্তমানে একটি পিকনিক স্পট ও জনপ্রিয় দর্শণীয় স্থান।

Explore this Place Add to Wishlist