সুগন্ধা নদী

সুগন্ধা নদী ঝালকাঠি

সুগন্ধা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরতম এক নদী। বিকেলে নদীতে ঘুরার জন্য এক আদর্শ নদী। এটি বরিশাল বিভাগে অবস্থিত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এই নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪০০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার।

Explore this Place Add to Wishlist
রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ী

রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ী পিরোজপুর

পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিনশত বছর আগে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলো এক ঐতিহাসিক জমিদার বংশ। ৮০ একর জমির ওপর অবস্থিত এই বাড়ীতে রয়েছে অনেক পুরানো প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। ইতিহাস বলে, মোগল সম্রাট শাহজাহানের বাংলা অঞ্চলে আগমনের সময়ে হুগলি জেলার দেশীয় সেন বংশোদ্ভূত কিংকর ভুঁইয়ার পুত্র মদনমোহন সম্রাটের সাক্ষাৎ লাভে সমর্থ হন। এই সময় বুদ্ধিমান মদনমোহন এই দেশীয় বিভিন্ন উপহার সামগ্রী এবং সম্রাটের গুণগান করার মাধ্যমে তার কৃপা লাভে সমর্থ হন। তুষ্ট সম্রাট তাকে রায় রাইয়া উপাধিতে ভূষিত করে এই অঞ্চলের খাজনা আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। চতুর মদনমোহন বাংলা অঞ্চলের বিভিন্ন জমিদারি থেকে প্রচুর রাজস্ব আদায় করেন এবং রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়া অনেক জমিদারীকে খাস পরগনায় পরিণত করেন। এই রাজস্ব আদায় অভিযান লব্ধ আয় এবং নানা উপঢৌকনসহ তিনি নবাবের সঙ্গে পুনরায় দেখা করেন। মদনমোহনের এই সাফল্য নবাবকে বিশেষ প্রীত করে এবং তিনি তাকে বিশেষ উপহার দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। মদনমোহন সেই সুযোগে নবাবের নিকট খাস পরগনাগুলির পত্তনি গ্রহণ প্রার্থনা করেন। নবাব তার প্রার্থনা মঞ্জুর করে সেলিমাবাদের সনদ প্রদান করেন। মদনমোহন তার পুত্র শ্রীনাথের নামে সনদ গ্রহণ করে বর্তমান বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় কাচারি স্থাপন করে বসবাস শুরু করেন। মদনমোহন পরিবারের চতুর্থ পুরুষ রুদ্রনারায়ণ স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে নথুল্লাবাদ ত্যাগ করে বলেশ্বরের পূর্বতীরে রাজধানী স্থাপন করে, নতুন রাজধানীর নামকরন করেন রায়েরকাঠি। কিংকর রায়ের বংশধর এই রাজা রুদ্র নারায়ণ রায় স্বপ্নে অদিষ্ট হয়ে ১৬৫৮ সালে তৈরি করেন মনোরম সৌন্দর্যের এই জমিদার বাড়ি। পরবর্তী সময়ে রুদ্রনারায়ণ পরিবারের শত্রুজিৎ রায়েরকাঠির উন্নতি সাধন করেন। অমরেন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন শেষ জমিদার। এই জমিদার বাড়িতে নির্মিত হয় রাজভবন, নহবৎখানা, অতিথিশালা, নাট্যশালা এবং অসংখ্য মন্দির। রাজবাড়ীতে ছিলো ছোট বড় প্রায় দু’শ অট্টালিকা। তন্মধ্যে ৪০ বা ৫০টি গণচুম্বী অট্টালিকা রাজবাড়ির শোভর্ধন করতো। উপমহাদেশের সবচাইতে বড় শিবলিঙ্গের অবস্থান এই জমিদার বাড়ীর মন্দিরে। সরকারী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলুপ্তপ্রায় এ বাড়ীতে এখন গেলে দেখা মিলবে কয়েকটি মঠ ও অবহেলায় অযত্নে ক্ষয়িষ্ণু কিছু স্থাপনা। ধ্বংসপ্রাপ্ত এই রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ি রায় বংশের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের অন্যতম নীরব সাক্ষী হয়ে ধূসর স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে।

Explore this Place Add to Wishlist
লালদিয়া বন

লালদিয়া বন বরগুনা

এই বনের পূর্বে বিষখালী নদী এবং পশ্চিমে বলেশ্বর নদীর মোহনা। এই দুই নদীর মোহনা লালদিয়ার বনকে ঘিরে রেখেছে। আবার বন সংলগ্ন পূর্ব প্রান্তেও সমুদ্র সৈকত। সমুদ্র সৈকতটি বেশ ছোট। তবে ছোট হলেও সৌন্দর্য কোন অংশে কমতি নেই। এখানে বিভিন্ন রকমের পাখি বসবাস করে এবং রাতে এই বনে দূর-দূরান্ত থেকে পাখিরা এসে আশ্রয় নেয়। এই বনে কিছু কিছু শীতকালীন অতিথি পাখিও দেখা যায়। ঘন সবুজ এই মনোমুগ্ধকর বনের পশ্চিমে বয়ে গেছে বিষখালি নদী এবং পূর্বে বয়ে গেছে বলেশ্বর নদী। এই দুটি নদী যে লালদিয়ার বনের সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। অপরদিকে সৈকতের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় এই বনের সৌন্দর্য বেড়ে গিয়েছে বহুগুনে। আকারে ছোট হলেও এই লালদিয়ার বনকে প্রকৃতি দান করেছে দুহাত ভরে। এই বনে শুধুই যে নানা প্রজাতির পাখি বাস করে তাই নয় শীতকালে এখানে অতিথি পাখিরাও আসে। লালদিয়ার বনে বেড়াতে এসে পাখিদের কিচিরমিচির এবং প্রবাহমান নদীর কলকল শব্দের মূর্ছনায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে আপনি চমৎকার অবসর সময় কাটাতে পারবেন। এছাড়াও লালদিয়া সমুদ্রসৈকত পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ঝাউবন। হরিণবাড়িয়া বনে নির্মিত ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ফুটট্রেল (পায়ে হাঁটার কাঠের ব্রিজ) সম্প্রসারিত করে লালদিয়া সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।

Explore this Place Add to Wishlist
কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি ঝালকাঠি

দর্শনীয় স্থান হিসেবে কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি অনেক দিন ধরে পরিচিত। কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় একশতক বছর আগে। কীর্তিপাশা প্রাসাদ নির্মাণ করেন রামজীবন সেন এবং রাজা কীর্তি নারায়নের নামে প্রাসাদটির নামকরন করেন। জানা যায়, এই জমিদার বাড়ির জমিদারপুত্রকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়। এবং তার স্ত্রীও তার সাথে সহমৃত্যুবরণ করেন। পরে তাদেরকে একসাথে সমাধি করা হয়। এখানে এখনো একটি নাট মন্দির, হল ঘর, ছোট ও বড় মন্দির আছে। এই জমিদার বংশের দুজন বিখ্যাত ব্যক্তি হচ্ছেন রোহিনী রায় চৌধুরী ও তপন রায় চৌধুরী। বর্তমানে জমিদার বাড়ির একটি অংশে রয়েছে প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নাটমঞ্চ ও হলরুমে কমলিকন্দ নবীন চন্দ্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আর মূল জমিদার বাড়ি ও দূর্গামন্দির লতা-পাতা, জঙ্গলে জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে। রোহিনিগঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন রোহিণী রায় যেখানে ঝালকাঠি জেলা হাসপাতালের চেয়েও একটি পুরানো হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া এখানে শিবের মূর্তিসহ একটি পারিবারিক শিবমন্দির আছে।

Explore this Place Add to Wishlist
হরিনঘাটা পর্যটন কেন্দ্র

হরিনঘাটা পর্যটন কেন্দ্র বরগুনা

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে হরিনঘাটা বনাঞ্চল, সুন্দরবনের অংশ হরিনঘাটা বনাঞ্চল। হরিন, বানর,পাখির,আর সবুজ পাতার সানাইয়ে সারাক্ষণ মুখর থাকে হরিনঘাট বনাঞ্চল। এ বনে কোন বাঘ নেই। এখানে বাঘ দেখা না গেলেও হরিণ,সাপ, পাখি, সজারু, সুকর, ইত্যাদি দেখা যায়। বানর আর বুনো শূকরের অবাধ বিচরণ, পাখির কলরব আর সবুজ পাতার সানাইয়ে সারাক্ষণ মুখর থাকে হরিণঘাটা বনাঞ্চল। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর—এ তিন নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এর সাথে যোগ হয়েছে নদীর ধারে নতুন ঝাউবন। হরিণঘাটার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা থাকে সেখানে। বনভোজন করার জন্য রয়েছে সকল প্রকার সুবাবস্থা।

Explore this Place Add to Wishlist
গাবখান চ্যানেল ও গাবখান সেতু

গাবখান চ্যানেল ও গাবখান সেতু ঝালকাঠি

৫ম বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সেতু। যেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে। এ সেতুর নির্মাণশৈলী একে দেশের অন্যান্য সেতু থেকে আলাদা করেছে। গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত। সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর সংযোগ কারি কৃত্রিম খালটি ১৮ কিমি দৈর্ঘ্য। চ্যানেলের দু'পাশে সবুজের সমারোহ। জলের সাথে গাছ-গাছালির সে কী গভীর মিতালী! দেশে যতগুলো নৌ চ্যানেল আছে, সৌন্দর্যের দিক থেকে গাবখান চ্যানেল অন্যতম। প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন এ নৌপথের সৌন্দর্যটুকু মুগ্ধতার শেষ অবধি টেনে নেবে যদি তা শতবর্ষী কোন প্যাডেল স্টীমারের ফ্রন্ট ডেক কিংবা মাস্টার ব্রীজ থেকে উপভোগ করা যায়। এই খালের উপর গাবখান ব্রিজ টা দেশের সর্বোচ্চ উচু সেতু।

Explore this Place Add to Wishlist