হাকালুকি হাওড়ঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওড় মৌলভীবাজার

5 people checked in

হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্তিত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে অপূর্ব লীলাভূমি হাওরটি বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে অপরূপ দৃশ্যের। দেশের বৃহত্তম এই হাওর অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানিরও জলাভূমি। পূর্বে পাথারিয়া ও মাধব পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় পরিবেষ্টিত হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট-বড় ২৪০ টি বিল ও ছোট-বড় ১০ টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়। এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর। এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা (৪০%) কুলাউড়া (৩০%), সিলেট জেলার় ফেঞ্চুগঞ্জ(১৫%), গোলাপগঞ্জ (১০%) এবং বিয়ানীবাজার (৫%) জুড়ে বিস্তৃত। বর্ষা এবং শীত উভয় ঋতুই হাকালুকি হাওর ঘুরে বেড়ানোর জন্য উপযোগী। বর্ষাকালে হাকালুকির বিল ও নদীগুলো একীভূত হয়ে রূপ ধারণ করে সাগরের ন্যায় এক বিশাল জলাশয়ে। এ সময় হাওরের বিলের পার ও কিনারায় বিদ্যমান জলাভূমি, বন-পানির নিচে ডুবে গিয়ে সৃষ্টি করে ডুবন্ত বন এবং ব্যবহৃত হয় মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি দৃশ্যমান বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। সে এক অপরূপ দৃশ্য। বর্ষাকালে হাওরপারে বসবাসরত মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় এক অন্য রকম উন্মাদনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা হয় সহজ। এখানকার স্থানীয় বাজারে যাবার যোগাযোগের বাহন হিসেবে স্থান করে নেয় দেশীয় দাঁড়বাহী পালতুলা ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা। জেলেরা মেতে ওঠে মাছ ধরার উৎসবে। বিভিন্ন প্রকার সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান এই সময় অনুষ্ঠিত হয়। হাওরের জীববৈচিত্র্যের চোখে পড়ার মত । পাখি প্রেমিদের জন্য হাকালুকি হাওর ভ্রমণের সেরা সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ার‍্য মাসের মাঝামাঝি। এসময় এখানে প্রচুর সংখ্যায় অতিথি পাখির কলকাকলিতে চারদিক মুখর থাকে। এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস সহ ৪৮ প্রজাতির প্রায় ১ লাখ পাখি আসে। এসব অতিথি পাখির মধ্যে ভূতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, বালি হাঁস, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, রাজ সরালি, পান ভুলানি, কাস্তেচড়া, পানকৌড়ি.বেগুনী কালিম, মেটেমাথা টিটি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মেলে। জলজ উদ্ভিদ, মাছপ্রেমীদের জন্য এটা সেরা মৌসুম। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে বিলগুলিতে প্রায় সারাবছর পানি থাকে। হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী ও পানাই নদী। এই বিলগুলি মৎস্য সম্পদের আধার। বছরে প্রায় ২৫০০টন মাছ উৎপাদন হয়। তবে যথেচ্ছভাবে মাছ ধরার কারণে দেশী জাতের রানী, তুরাল, রাঁচি, বাতাসি, গলদাচিংড়ি, বাঘমাছ, চিতল ইত্যাদি মাছ আর এখন হাওরে পাওয়া যায় না।

  • How to go কিভাবে যাবেন বাস, ট্রেন বা বিমান যেভাবেই যান না কেন, প্রথমে আপনাকে যেতে হবে কুলাউরা। রাজধানী ঢাকার কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ৩টা ট্রেন ছাড়ে কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে। ট্রেনের ভাড়া প্রকার ভেদে ১২০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। আর সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে রাত সাড়ে ৯টার উপবন এক্সপ্রেসে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। এছাড়া বাসেও যাওয়া যাবে। বাসে যেতে চাইলে অনেক বাস আছে। এর মধ্যে শ্যামলী, রূপসী বাংলা, হানিফ, সোহাগ, এনা,ইউনিক, উল্যেখযোগ্য। এছাড়াও আরো বিভিন্ন নামের একাধিক বাস রয়েছে, যেগুলো অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় যাত্রী সেবা করে থাকে। ভোর থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত এসব বাস পাবেন। বাসে যেতে সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। ননএসি ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এসি ১০০০ টাকা পর্যন্ত। কুলাউড়া থেকে অটোরিক্সায় সরাসরি হাওরে চলে যেতে পারেন। কুলাউড়া শহর থেকে অটোরিকশা ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং রিকশা ভাড়া ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। অথবা কুলাউড়া নেমে অটোরিক্সা নিয়ে অথবা বাসে চলে যেতে পারেন বড়লেখা। বড়লেখা পৌঁছার পর শহর থেকে ১১ কি.মি দূরে হাকালকি হাওর এলাকা। যেখানে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। এই স্থান থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন পুরো হাওর। এছাড়াও সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল হয়েও হাকালুকি হাওর আশা যায়। আর বিমানে যেতে চাইলে সরাসরি সিলেটে চলে যেতে হবে।তারপর সেখান থেকে হাকালুকি হাওর আসতে হবে।
  • Lodging কোথায় থাকবেন হাওর এলাকায় বিল ইজারাদারদের দোচালা কুটিরগুলোয় দু‘চারজন পর্যটক থাকার জন্য চমৎকার।তবে অবশ্যই বিল মালিকের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। সবচেয়ে ভালো হয় বিল এলাকায় তাঁবু ফেলে রাত্রি যাপন। জোছনা রাতে তাঁবুতে যাপন, পাখি পর্যবেক্ষণ যে কোনও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে বিমোহিত করবে। যারা হাওরে রাত্রি যাপন করতে চান না তারা সিলেট, শ্রীমঙ্গল বা মৌলভীবাজারে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। এখানে আপনার বাজেট ও প্রয়োজন অনুসারে হোটেল অথবা রিসোর্ট পাবেন ভাড়া ৫শ’ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা।
  • Foods কি খাবেন হাওরে কোন খাবার রেস্টুরেন্ট না থাকায় নৌকায় উঠার সময় সঙ্গে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে নিয়ে উঠতে হবে। হাওর এলাকার শ্রমজীবী মানুষকে সামান্য কিছু টাকা ও সঙ্গে আনা চাল ডাল দিলে পছন্দ মতো টাটকা মাছের ঝোলের তরকারি দিয়ে তা পরিবেশন করবে অথবা ওদের সঙ্গেও সুস্বাদু খাবার শেয়ার করা যাবে অনায়াসে। এখানকার বাথানে গরু-মহিষের দুধও খুব সস্তায় পাওয়া যায়। চাইলে বাজার করে নৌকায় উঠতে পারেন, মাঝিকে দিবেন, ওরা রান্না করে দিবে।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন প্রধান দর্শনীয় বিষয়ঃ হাকালুকি হাওর, ওয়াচ টাওয়ার, নৌকা ভ্রমন, বাথান, অথিতি পাখি, কাম্পিং, ইত্যাদি। আশেপারের দর্শনীয় বিষয়ঃ মাধবকুন্ড প্রাকৃতিক ঝর্ণা, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, লাউয়াছড়া, গগণটিলা ও পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চল, হাইল হাওর, চা ও রাবার বাগান এবং শ্রমিকদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা এবং, খাসিয়া ও মনিপুরী পল্লী।

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map