রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ী পিরোজপুর

0 people checked in

পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিনশত বছর আগে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলো এক ঐতিহাসিক জমিদার বংশ। ৮০ একর জমির ওপর অবস্থিত এই বাড়ীতে রয়েছে অনেক পুরানো প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। ইতিহাস বলে, মোগল সম্রাট শাহজাহানের বাংলা অঞ্চলে আগমনের সময়ে হুগলি জেলার দেশীয় সেন বংশোদ্ভূত কিংকর ভুঁইয়ার পুত্র মদনমোহন সম্রাটের সাক্ষাৎ লাভে সমর্থ হন। এই সময় বুদ্ধিমান মদনমোহন এই দেশীয় বিভিন্ন উপহার সামগ্রী এবং সম্রাটের গুণগান করার মাধ্যমে তার কৃপা লাভে সমর্থ হন। তুষ্ট সম্রাট তাকে রায় রাইয়া উপাধিতে ভূষিত করে এই অঞ্চলের খাজনা আদায়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। চতুর মদনমোহন বাংলা অঞ্চলের বিভিন্ন জমিদারি থেকে প্রচুর রাজস্ব আদায় করেন এবং রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়া অনেক জমিদারীকে খাস পরগনায় পরিণত করেন। এই রাজস্ব আদায় অভিযান লব্ধ আয় এবং নানা উপঢৌকনসহ তিনি নবাবের সঙ্গে পুনরায় দেখা করেন। মদনমোহনের এই সাফল্য নবাবকে বিশেষ প্রীত করে এবং তিনি তাকে বিশেষ উপহার দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। মদনমোহন সেই সুযোগে নবাবের নিকট খাস পরগনাগুলির পত্তনি গ্রহণ প্রার্থনা করেন। নবাব তার প্রার্থনা মঞ্জুর করে সেলিমাবাদের সনদ প্রদান করেন। মদনমোহন তার পুত্র শ্রীনাথের নামে সনদ গ্রহণ করে বর্তমান বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় কাচারি স্থাপন করে বসবাস শুরু করেন। মদনমোহন পরিবারের চতুর্থ পুরুষ রুদ্রনারায়ণ স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে নথুল্লাবাদ ত্যাগ করে বলেশ্বরের পূর্বতীরে রাজধানী স্থাপন করে, নতুন রাজধানীর নামকরন করেন রায়েরকাঠি। কিংকর রায়ের বংশধর এই রাজা রুদ্র নারায়ণ রায় স্বপ্নে অদিষ্ট হয়ে ১৬৫৮ সালে তৈরি করেন মনোরম সৌন্দর্যের এই জমিদার বাড়ি। পরবর্তী সময়ে রুদ্রনারায়ণ পরিবারের শত্রুজিৎ রায়েরকাঠির উন্নতি সাধন করেন। অমরেন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন শেষ জমিদার। এই জমিদার বাড়িতে নির্মিত হয় রাজভবন, নহবৎখানা, অতিথিশালা, নাট্যশালা এবং অসংখ্য মন্দির। রাজবাড়ীতে ছিলো ছোট বড় প্রায় দু’শ অট্টালিকা। তন্মধ্যে ৪০ বা ৫০টি গণচুম্বী অট্টালিকা রাজবাড়ির শোভর্ধন করতো। উপমহাদেশের সবচাইতে বড় শিবলিঙ্গের অবস্থান এই জমিদার বাড়ীর মন্দিরে। সরকারী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলুপ্তপ্রায় এ বাড়ীতে এখন গেলে দেখা মিলবে কয়েকটি মঠ ও অবহেলায় অযত্নে ক্ষয়িষ্ণু কিছু স্থাপনা। ধ্বংসপ্রাপ্ত এই রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ি রায় বংশের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের অন্যতম নীরব সাক্ষী হয়ে ধূসর স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে।

  • How to go কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে পিরোজপুরঃ প্রতিদিন সদরঘাট (৫ নং পন্টুন) থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০-৭.৩০ টায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া-হুলারহাট এর লঞ্চ ছাড়ে। রাজদূত ৭, অগ্রদূত প্লাস, রণদূত প্লাস, এম ভি ফারহান - ১০ ও ৯, এম ভি অভিযান - ৭, এম ভি মর্নিংসান - ৫, এম ভি মহারাজ ৭, এম ভি অগ্রদুত প্লাস, এম ভি টিপু ১২। ডেক ভাড়া ২৫০ টাকা, কেবিন সিঙ্গেল ৯০০-১২০০ এবং ডাবল ১৫০০ টাকা। বানারীপাড়ার ভাড়া ১৮০ টাকা, ইন্দেরহাট ভাড়া ২০০ টাকা, লঞ্চ সকাল ৬ টায় পৌঁছে। স্বরূপকাঠি থেকে ফিরতি লঞ্চ বিকাল ৪-৫ টায়। সকাল ৯.৪০ এ হুলারহাট থেকে মোড়েলগঞ্জ এর ষ্টীমার ছেড়ে যায়, দুপুর ২ টায় হুলারহাট থেকে ঢাকার ষ্টীমার ছেড়ে যায়, দুপুর ১১.৩০টা ও বিকাল ৩ টা ও ৪ টায় হুলারহাট থেকে ঢাকার লঞ্চ ছাড়ে। বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে স্বরুপকাঠির বাস ভাড়া ৫০ টাকা, দূরত্ব ৩২ কিমি। পিরোজপুরের বাস ভাড়া ১১০ টাকা। পিরোজপুর সদর থেকে ৪০ টাকা রিক্সাভাড়ায় রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ী। সময় লাগবে ২০ মিনিট।
  • Lodging কোথায় থাকবেন হোটেল রজনী- ক্লাব রোড় ও হোটেল রয়্যাল- কলেজ রোড।
  • Foods কি খাবেন দুলালের দধি ভান্ডার- পিরোজপুর সদর ব্রীজ রোড (রসগোল্লা,রসমালাই), নিশিকুন্ডু মিষ্টান্ন ভান্ডার- কাউখালী লঞ্চ ঘাটের কাছে, ঋতুপর্ণা মিষ্টান্ন ভান্ডার- কুড়িয়ানা বাজার (রসগোল্লা ও রসমঞ্জুরি), সকাল সন্ধ্যা হোটেল- কুড়িয়ানা বাজার।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন N/A

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map