মোহিনী মিল কুষ্টিয়া

0 people checked in

১৯০৬ ইংরেজি সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকালে বিলাতী পণ্য বর্জন উপলক্ষে স্ব-দেশী আন্দোলনের সময় দেশীয় পণ্য ব্যবহারের লক্ষ্যে, এদেশে ছোট বড় মিল-কলকারখানা গড়ে ওঠে। তারই ফলশ্রুতি, কুষ্টিয়া "মোহনী মিল"। কয়েক হাজার কর্মচারী'র কর্মসংস্থানের ও তথাধিক মানুষের অন্ন-সংস্থানের কেন্দ্রস্থল এই মিল'কে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে ওঠে রেইলওয়ে স্টেশন (কুষ্টিয়া বড় স্টেশন) এবং সাব-পোস্ট অফিস (মোহিনী মিলস্, কুষ্টিয়া-৭০০১) । "মোহিনী মিল"-এর নামেই ওই এলাকা'র নামকরন করা হয় "মিলপাড়া"। কুষ্টিয়ার অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ত্ব মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে মিলপাড়া এলাকায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করেন মোহিনী মিল। সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মিল। সমসাময়িক কালে অন্যান্য বস্ত্র কলের তুলনায় এই মিলের উৎপাদন অনেক বেশী মানসম্পন্ন ছিল বলে কালক্রমে এটি দেশের অন্যতম সেরা কাপড়ের মিলে পরিণত হয়। সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতি লাভ করে। মাত্র ৮টি তাঁত নিয়ে মিলটি উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তীতে মোহিনী মিল ব্যপ্তি লাভ করে। এর শ্রমিক সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে উন্নীত হয়। মোহিনী মিলের শাড়ি ও ধুতী বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে।। সে সময় বিলেত থেকে পিতলের হ্যান্ডলুম মেশিন আর পিতলের তৈরি প্রায় ২০০ তাঁত আমদানি করে মিলে বসেয়েছিলেন মোহিনী বাবু। এ মিলে তৈরি সুতা ভারতবর্ষের চাহিদা পূরণ করে মায়ানমার, শ্রীলংকা, পাকিস্তান যেত। মোহিনী মিলের স্বর্ণ যুগ চলে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত। এরপর সবই ইতিহাস। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রযন্ত্রের কালা থাবায় পড়ে দেশ ছাড়তে হয় মোহিনী বাবুর। বন্ধ হয়ে যায় মোহিনী মিল। এখন সবই কালের সাক্ষী। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ এই মোহিনী মিল। জায়গাটা কোন ভূতুড়ে বাড়ীর চেয়ে কম নয়। গা ছম ছম একটা ভাব আছে। আর এখানে বসত বাড়ী গড়েছে কিছু বেরসিক শিয়াল। পুরান বাড়ীঘর যারা পছন্দ করেণ তারা ঘুরে আসতে পারেন মোহিনী মিল।

  • How to go কিভাবে যাবেন কুস্টিয়ার মজমপুর থেকে অটোতে খুব সহজেই যাওয়া যায়।
  • Lodging কোথায় থাকবেন মজমপুর গেট, শাপলা চত্বর, এন এস রোড, বড় বাজার এ বিভিন্ন হোটেল আছে। হোটেল আজমীরি, প্রীতম হোটেল (মজমপুর গেট), নূর ইন্টারন্যাশনাল। বড়বাজারের জুবলি হোটেল - ভাড়া ৩৫০ টাকা, ডাবল বেড। হোটেল লিবার্টি - এসি রুম ৫০০-৬০০ টাকা। এছাড়া ১০০-২০০ তেও মজমপুর ও বড় বাজারে হোটেল পাবেন।
  • Foods কি খাবেন N/A
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন এর পাশেই আছে টেগর লজ। আর খানিকটা দূরে আছে লালন সাই'জির মাজার। সাইজির মাজার দেখে চলে যেতে পারেন লাহিনীপাড়ায়। এখানে আছে মীর মোশারফ হোসেনের বাস্তুভিটা। বাস্তুভিটা দেখে চলে যেতে পাড়েন গড়াই ব্রিজ।

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map