মুসা খান মসজিদ ঢাকা

2 people checked in

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের নিকটে এই প্রাচীন মসজিদটি সবার চোখ এড়িয়ে যায়। বার ভূইয়াদের অন্যতম নেতা ঈশা খা'র পুত্র মুসা খান এর নামনুসারে মসজিদের নামকরন করা হলেও মসজিদটি তৈরি করে মুসা খানের পুত্র মাসুম খান। বাংলার বারো ভুঁইয়াদের নির্মিত একটি মসজিদ হচ্ছে মুসা খান মসজিদ। তিন গম্বুজবিশিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত মসজিদটির অবস্থা বর্তমানে বেশ করুণ। বাংলার বিখ্যাত বারোভুঁইয়াদের একজন মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর পুত্র মুসা খানের নামানুসারে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। এই মসজিদটির অদূরেই রয়েছে মুসা খানের সমাধি। মুসা খান মসজিদটি দেখতে অনেকটা খাজা শাহবাজের মসজিদের (তিন নেতার মাজারের পেছনে) মতো। ভূমি থেকে উঁচু মঞ্চের ওপর মসজিদটি নির্মিত। নিচে অর্থাৎ মঞ্চের মতো অংশে আছে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ। এগুলো এখন বন্ধ। দক্ষিণ পাশ দিয়ে ১২ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় মসজিদের দরজায়। পূর্ব দিকে খোলা বারান্দা। চওড়া দেয়াল। পূর্ব-পশ্চিমের দেয়াল ১ দশমিক ৮১ মিটার ও উত্তর-দক্ষিণের দেয়াল ১ দশমিক ২ মিটার চওড়া। পূর্বের দেয়ালে তিনটি ও উত্তর-দক্ষিণে দুটি খিলান দরজা। ভেতরে পশ্চিম দেয়ালের মধ্যে একটি প্রধান ও পাশে দুটি ছোট মেহরাব। চারপাশের দেয়ালে মোগলরীতির নকশা। বাইরের দেয়ালের চার কোণে চারটি মিনারখচিত আট কোণ বুরুজ। তার পাশে ছোট ছোট মিনার। বুরুজ ও ছোট মিনার ১৬টি। ছাদে তিনটি গম্বুজ। মাঝেরটি বড়। ওপরের কার্নিশ নকশাখচিত। বাইরের দেয়ালের পলেস্তারা মাঝেমধ্যেই খসে গেছে। ছাদে ও কার্নিশে জন্মেছে পরগাছা। জরাজীর্ণ এই মসজিদ সহজে দেখা যায় না কারন চারপাশে বিভিন্ন ভবন। দীর্ঘদিন মসজিদটির সংস্কার করা হয় না তাই অনাদর আর অবহেলা আজও দাঁড়িয়ে আছে বারো ভুঁইয়াদের অতীত গৌরব।সপ্তদশ শতকের শেষ থেকে অস্টদশ শতকের শুরুর মধ্যে মসজিদটি নির্মিত বলে ঐতিহাসিকদের অনুমান। বর্তমানে গিয়ে দেখা গেল মসজিদের পলেস্তারা খসে গেছে ছাদ আর বিভিন্ন দেয়ালে পরগাছা,অজুখানা ও শৌচাগারের বেহাল অবস্থা। এই মসজিদের সামনে বহু ভাষাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লার কবর রয়েছে। বয়সের হিসাবে এইটা কার্জন হলের চেয়ে পুরানো। কিন্তু সংস্কারের অভাবে মসজিদটি তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। বারো ভূইয়াদের স্মৃতি চিহ্ন রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কারও কোন উদ্দ্যেগ নেই।

  • How to go কিভাবে যাবেন দোয়েলচত্বর মোড় থেকে শহীদুল্লাহ হলের প্রবেশ গেইটের বাম পাশে। পূর্বদিকে ভূতত্ত্ব বিভাগ, উত্তরে বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের কার্যালয় ও অগ্রণী ব্যাংক, দক্ষিণে শহীদুল্লাহ হল এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিনের কার্যালয়। মাঝখানে তিন গম্বুজবিশিষ্ট মুসা খান মসজিদ। মসজিদের পশ্চিম দেয়ালের পাশেই জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিমের কবর। তারপর সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন নামিজউদ্দিন রোড। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দ্বিতল বাসের সারি। ফলে একেবারে কাছে না গেলে মসজিদটি চোখে পড়ে না। দক্ষিণ দিকে ডিনের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে একটি সরু রাস্তা ধরে আসতে হয় মসজিদে।
  • Lodging কোথায় থাকবেন ঢাকার প্রতিটি এলাকায় আবাসিক হোটেলের অভাব নাই। তবে হোটেল ভাড়া অন্যান্য জেলা থেকে তুলনামূলক বেশি। ৫ তারকা হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল রুপসী বাংলা, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি। কম দামের মধ্যে থাকতে গেলে বংগবন্ধু এভিনিউ এর হোটেল রমনা, ফকিরাপুলের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। পল্টন, ফকিরাপুল, গুলিস্তান,পুরান ঢাকা এরিয়ায় অনেক সস্তা মধ্যম মানের হোটেল পাবেন।
  • Foods কি খাবেন পুরান ঢাকার কিছু বিখ্যাত খাবারের তালিকা: ১. লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস ২. হোটেল রয়েলের পেস্ত বাদামের সরবত ৩. বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও। ৪. কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি ও হানিফের তেহরি।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন N/A

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map