বিনত বিবির মসজিদ ঢাকা

people checked in

ঢাকার প্রথম মসজিদের মর্যাদা পেয়েছে নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদ। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৮৬১ হিজরিতে (১৪৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) । তার মানে মসজিদটি সুলতানি আমলের। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক আহমদ হাসান দানী লিখেছেন, এটি সুলতানি আমলে নাসির উদ্দিন মাহমুদের রাজত্বকালে (১৪৩৫—১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দ) নির্মিত হয়েছিল। নারিন্দা রোডের এই মসজিদ নির্মাণ করেন মারহামাতের মেয়ে মুসাম্মত বখত বিনত। তাঁর নামেই মসজিদটির নাম হয়েছে বিনত বিবির মসজিদ। অন্যমতে ১৪৫৬ খ্রিস্টব্দে ইসলাম খাঁর আগমনের প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি নির্মিত হয়। সে সময় পারস্য উপসাগরের আশেপাশের লোকজন প্রায়ই জলপথে এ অঞ্চলে বাণিজ্যে আসতেন। পুরান ঢাকার এ এলাকা (নারিন্দা-ধোলাইখাল) দিয়ে তখন বয়ে যেত বুড়িগঙ্গার একটি শাখা যা বুড়িগঙ্গা হয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে মিশত। আরাকান আলী নামক এক সওদাগর সে সময় এ এলাকায় বাণিজ্যের জন্য আসেন এবং এখানে বসবাস শুরু করেন। তিনিই নামাজ পড়ার সুবিধার্থে এখানে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন এবং নিজের স্নেহের কন্যা মুসাম্মাত বখত বিনত বিবির নামে মসজিদটির নামকরণ করেন ‘বিনত বিবির মসজিদ’। মসজিদটির প্রধান ফটকের দেয়ালে একটি কালো পাথরের শিলালিপি থেকেই এসব ইতিহাস জানা গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, ঢাকায় এ পর্যন্ত যত প্রাচীন শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে প্রথম মুসলিম শিলালিপি হচ্ছে এটি। ঢাকার প্রথম এই মসজিদটিই একমাত্র মসজিদ যেটি একজন নারীর নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইতিহাস ঘেঁটে আরও জানতে পারি মসজিদটি নির্মাণের কিছু দিন পরেই আরকান আলীর মেয়ে বিনত বিবির আকস্মাত মৃত্যু হয়। মসজিদের পাশেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়। এর কিছু দিন পর আরকান আলীও ইন্তেকাল করেন। এবং তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে তার মেয়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয়। দাফন দেয়া সেই জায়গাটা বর্তমানে তাদের মাজার হিসেবে ব্যবহিত হচ্ছে। মসজিদের দুটো গম্বুজের একটির গায়ে আদি ভবন প্রতিষ্ঠার সাল লেখা আছে। আরেকটি গম্বুজের লেখা অনুযায়ী ভবনটি প্রথম সংস্কারের মুখ দেখে ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে (১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ)। মসজিদটি যখন প্রথম নির্মিত হয় তখন তাতে একটি মাত্র গম্বুজ থাকলেও পরবর্তীতে বাংলা ১৩৩৭ সনে মসজিদটিতে পুনঃসংস্করণ করে দ্বিতীয় গম্বুজ নির্মাণ করা হয়। দুটি গম্বুজের গায়েই তাদের সংস্করণ-সাল লেখা রয়েছে। বর্তমানে মূলভবনের গা ঘেঁষে তিন তলা নতুন ভবনও তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার স্থানীয় লোকজনেরাই একটি কমিটির মাধ্যমে মসজিদটির ভালোমন্দ দেখভাল করছেন।

  • How to go কিভাবে যাবেন থমে গুলিস্তান এবং সেখান থেকে রিকশা যোগে নারিন্দা। সেখানে নেমে স্থানীয় মানুষকে জিজ্ঞেশ করলেই দেখিয়ে দিবে।
  • Lodging কোথায় থাকবেন ঢাকার প্রতিটি এলাকায় আবাসিক হোটেলের অভাব নাই। তবে হোটেল ভাড়া অন্যান্য জেলা থেকে তুলনামূলক বেশি। ৫ তারকা হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল রুপসী বাংলা, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি। কম দামের মধ্যে থাকতে গেলে বংগবন্ধু এভিনিউ এর হোটেল রমনা, ফকিরাপুলের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। পল্টন, ফকিরাপুল, গুলিস্তান,পুরান ঢাকা এরিয়ায় অনেক সস্তা মধ্যম মানের হোটেল পাবেন।
  • Foods কি খাবেন পুরান ঢাকার কিছু বিখ্যাত খাবারের তালিকা : ১. লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস ২. হোটেল রয়েলের পেস্ত বাদামের সরবত ৩. বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও। ৪. কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি ও হানিফের তেহরি।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন N/A

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map