চুনাখোলা মসজিদ বাগেরহাট

people checked in

পূরাকীর্তি এবং মসজিদের শহর বাগেরহাটের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শন চুনাখোলা মসজিদ। পোড়া মাটির অলংকরণে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত মসজিদটি হযরত খান জাহান (রহ:)এর আমলের। ষাটগুম্বুজ মসজিদের পশ্চিমে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগুম্বুজ ইউনিয়নের চুনোখোলা গ্রামে বিবি বেগনী মসজিদের উত্তর দিকে অবস্থিত এ মসজিদ। বর্তমানে শস্য ক্ষেতর মাঝে অবস্থিত মসজিদটি। তবে নিশ্চয়ই এ মসজিদের আশেপাশে পূর্বে জনবসতি ছিল। জনশ্রুতি আছে, হযরত খানজাহান (রঃ) /’খানজাহান আলী’ এর বসতভিটার পশ্চিমে যে প্রহরা চৌকি ছিল তাকে কেন্দ্র করে এ মসজিদটি নির্মান করা হয়। ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, চুনাখোলা মসজিদের এ এলাকায় হযরত খানজাহান (র) তার বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় চুন উৎপাদন কেন্দ্র বা চুনখোলা স্থাপন করেছিলেন। সে কারণে এ মসজিদটি চুনাখোলা মসজিদ নামে পরিচিত। চুনাখোলা গ্রামে (এককালে প্রচুর চুনাপাথরের নির্যাস পাওয়া যেতো বলে এমন নাম হয়েছে) ১৫ শতকে নির্মিত এই মসজিদটি অবস্থিত। স্থানীয় জনশ্রুতি মতে খান জাহান এর কোন এক কর্মচারী এটি নির্মান করেছিলেন। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী খান জাহান আলী নির্মিত অন্যান্য স্থাপত্যশৈলী থেকে ভিন্ন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকার চুনাখোলা মসজিদকে ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। ইটের দেয়ালসমূহ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে ১৯৮০ সালে ইউনেস্কোর সহায়তায় সংস্কার করা হয়। এক গম্বুজ বিশিষ্ট র্বগাকৃতির মসজিদটির বাইরের দিক লম্বায় প্রায় ৪০ ফুট এবং ভেতরের দিক ২৫ ফুট। সুলতানী আমলের খানজাহানীয় কীর্তিটির এ মসজিদের তিন দিকে মোট ৫টি দরজা রয়েছে। পূর্বদিকে ১টি বড় (প্রধান) দরজাসহ মোট ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ১টি করে মোট ২টি দরজা রয়েছে।

  • How to go কিভাবে যাবেন ঢাকা > বাগেরহাট > চুনাখোলা গ্রাম > চুনাখোলা মসজিদ। ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ধান খেতের ধারে এই মসজিদটি। ঢাকা থেকে বাসে করে বাগেরহাট।বাগেরহাট থেকে বারাকপুর হয়ে ভ্যানে বা হেটে চুনাখোলা মসজিদে যাওয়া যায়। বারাকপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ৪০০ মিটার দূরত্বে মসজিদ দু'টি অবস্থিত। ষাট গম্বুজ থেকে বারাকপুরের দূরত্ব খুব সামান্য। অটো ভাড়া মাত্র ৫ টাকা।
  • Lodging কোথায় থাকবেন বাগেরহাট সদরে অবস্থিত হোটেল মমতাজ, হোটেল আল-আমিন,হোটেল মোহনা উল্লেখযোগ্য এছাড়া সরকারী গেস্ট হাউসেও উঠতে পারেন। এছাড়া এই হোটেলগুলোর আশেপাশে থাকার জন্য আরো কিছু হোটেল রয়েছে। তাছাড়া খান জাহান আলীর মাজারের সামনে মেইন হাইওয়েতে থাকতে পারবেন “হোটেল অভি”-তে । ফোন: ০১৮৩৩৭৪২৬২৩।
  • Foods কি খাবেন N/A
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন খান-জাহান-আলীর মাজার, খাঞ্জেলী দীঘি, রনভিজয়পুর মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, ছয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, দশ গম্বুজ মসজিদ, রেজাই খান মসজিদ, অযোধ্যা মঠ/কোদলা মঠ ইত্যাদি দেখে আসতে পারেন।

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map