গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধি নারায়ণগঞ্জ

people checked in

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাগোয়া উত্তরে সোনারগাঁ আর দক্ষিণে মোগড়াপাড়া। এই মোগড়াপাড়াই সেদিনের সে সোনারগাঁ।এখন আর তেমন রমরমা জৌলুস নেই। তবে মোগরাপাড়া মেইনরোড থেকে রিকশায় পাকা সড়ক ধরে চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে গেলে সাচিলপুর গ্রাম। ভাড়া মাত্র ২০ টাকা। এ গ্রামে ছিল মগদিঘি। এখন আর নেই। মাটি ভরাট করে চাসবাস আর কিছু ঘরবাড়ি। এছাড়াও আছে একটি পাথরের কবর। কালো। একটি সরু খালের উত্তর পাশে খোলা মাঠের মাঝে এ কবর। এখানে ঘুমিয়ে আছেন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। ইতিহাসের গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ নামে এক সুলতানের নাম পাওয়া যায়। পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তিনি ১৩৮৯ সালে সিংহাসন দখল করেছিলেন। এরপর বাইশ বছরের রাজত্ব শেষে গোপন ঘাতক তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়। রাজত্বকালে তিনি ছিলেন খ্যাতির শীর্ষে। তাঁর রাজত্বকালে শিক্ষা-দীক্ষা, সাহিত্য, চারু ও কারুকলার প্রভূত উন্নতি হয়। তিনি চরিত্রবান, ন্যায় বিচারক ও বিচক্ষণ শাসক ছিলেন। পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সাথে ছিল তাঁর বন্ধুত্ব। বিদ্রোহ দমন, দূত বিনিময়, সামাজিক অবস্থার উন্নতি, জ্ঞান বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা সব কিছুতেই ছিল সুলতানের সাফল্যের ছাপ। ১৪১০ খ্রিষ্টাব্দে আযম শাহের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ইলিয়াস শাহী বংশের এক গৌরবোজ্জল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। সাচিলপুরের সেই কবর কালো পাথরে তৈরি। এটি ৩মিঃ লম্বা, ১.৫০ মি. চওড়া এবং ৯০ সে.মি. উঁচু। এর তিনটি ধাপ। নিচের ধাপটি সাদামাটা পাথুরে পাটাতন। মাঝের অংশের আকার বাক্সের মতো। আর উপরের অংশটি যেন একটি নৌকার ছৈ। কেবল মাঝের অংশে চমৎকার কারুকাজ করা আছে। কারুকাজগুলো এক সারি খোপে আবদ্ধ। প্রতিটি খোপে রয়েছে একটি করে ভাঁজওয়ালা খিলান। সেই খিলানের মাথা থেকে ঝুলে পড়া শেকলের মাথায় শোভা পাচ্ছে পদ্ম-দোলক।জেমস ওয়াইজের মতে, এক সময় এখানে বিশালাকৃতির এক সৌধ ছিল।প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সহায়তায় সমাধিটি সংস্কার করা হয়।মূল সমাধিটির কার্নিশে রয়েছে সূক্ষ্ম কারুকাজ খচিত অলঙ্করণ। দু'পাশে রয়েছে তিনটি করে তিন খাঁজবিশিষ্ট খিলান। খাঁজের মধ্যে রয়েছে প্রলম্বিত শিকল ও ঝুলন্ত ঘণ্টার নকশা, যা পাণ্ডুয়ায় অবস্থিত সিকান্দার শাহের মাজারে লক্ষ্য করা যায়।পাথরের গায়ে এমন কারুকাজ আমাদের দেশের আর কোন কবরে নাকি দেখা যায় না।তাই এ কবর আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্যের শেকড়।১৪১০ খ্রিষ্টাব্দে আযম শাহের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ইলিয়াস শাহী বংশের এক গৌরবোজ্জল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।

  • How to go কিভাবে যাবেন ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে করে ঢাকা-চট্রগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা নেমে অতপর সি.এন.জি/রিক্সায় ২০ টাকা ভাড়ায় সাচিলপুর সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ মাজারে যাওয়া যায়।
  • Lodging কোথায় থাকবেন ঢাকার আশে পাশে হবার কারনে আপনি দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন, তাই ওখানে থাকার চিন্তা না করলেও হবে। এরপরও যদি আপনি নারায়নগঞ্জে রাত্রিযাপন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে নারায়নগঞ্জ সদরে এসে হোটেল নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জে থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট ঠিকানাঃ ঈশাপাড়া, দীঘিরপাড় সড়ক, সোনারগাঁও সড়ক, সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ। ফোনঃ ০১৭৭৬৪১৪০১৫
  • Foods কি খাবেন কাইকারটেক হাটের পুতা মিষ্টি চেখে দেখতে ভুলবেন না।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন N/A

Reviews

(Rate here)

Articles