খান জাহান আলির মাজার বাগেরহাট

5 people checked in

হযরত খান জাহান আলীর (র:) মাজার খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। বাগেরহাট জেলা যে কয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুপরিচিতি লাভ করেছে হযরত খান জাহান আলী (র:) তাদের মধ্যে অন্যতম। হযরত খানজাহান আলি (র.) (জন্ম ১৩৬৯ - মৃত্যু অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯) ছিলেন একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের স্থানীয় শাসক। খাঞ্জেলী দীঘির উত্তর পাড়ে এক উচ্চ ভূমিতে তাঁর সমাধি সৌধ নির্মিত। সমাধি সৌধটি বর্গাকৃতি, এর ছাদে একটি গম্বুজ আছে। সমতল হতে গম্বুজের উপরিভাগ একটি উচ্চ কৃত্রিম ঢিপি উপর দাঁড়িয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬৭.১ মিটার পশ্চিম ও ৬৪.৭ মি. পূর্ব থেকে একটি বাইরের প্রাচীরবেষ্টিত। এটি স্থানীয় লোকদের কাছে খান জাহানের দরগাহ নামে পরিচিত। মাজার ভবনের ভেতরে ধূসর বর্ণের পাথর দ্বারা আবৃত করা রয়েছে হযরত খানজাহান (রহ.) কবর। যার উপরিভাগ অর্ধ-গোলাকার এবং লম্বায় প্রায় ৬ ফুট। ষাট গম্বুজ মসজিদ তৈরিতে যে পাথার ব্যবহার করা তাও একই ধরনের। কথিত আছে যে, হযরত খানজ-ই-জাহান (রহ.) এ সকল পাথর চট্টগ্রাম থেকে আনতেন। মাজার ভবনের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে দেওয়ালে ৩টি দরজা। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিমে দরজা দু’টি লোহার গেট দ্বারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কররের আচ্ছাদনটি তৈরিতে ব্যবহৃত পাথরে চমৎকার ক্যালিগ্রাফির উৎকীর্ণ রয়েছে। এখানে আরবি ও ফারসি ভাষ্যে কালিমা, মহান আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম, খোলাফায়ে রাশেদিনের নাম, কোরআন শরিফের আয়াত, ফারসি কবিতা এবং খান-ই-জাহানের উপদেশাবলিসহ মৃত্য ও দাফনের তারিখ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হযরত খানজাহান (রাঃ) এর মাজারের প্রথম দরজা দিয়ে ঢুকেই তার পায়ের সুন্দর গেলাপে আবৃত শিলালিপিতে লেখা আছে তার মৃত্যু তারিখ। শিলালিপি অনুযায়ী ২৬ শে জিলহাজ্ব ৮৬৩ হিজরি তারিখে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং ২৭ শে জিলহাজ্ব (২৪-২৫ অক্টোবর, ১৪৫৯ খ্রি.) তাকে সমাধিত করা হয়। স্থানীয় ভাবে জানা গেল, খান জাহান আলীর মৃত্যুর দশ বছর আগে তিনি নিজের তত্ত্বাবধায়নে মাজারটি নির্মাণ করেন। এ মহান আধ্যাত্মিক নেতার দরগায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্ত তার রুহানি দোয়া লাভের আশায় মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এছাড়া প্রতি বছর ২৫ অগ্রহায়ণ এ মহান সাধকের মাজার প্রাঙ্গণে বার্ষিক ওরশ মোবারক এবং চৈত্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এক বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ ওরশ ও মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মাজারে সমবেত হন।

  • How to go কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সরাসরি বাগেরহাট যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অনেকগুলা গাড়ি ছেড়ে যায় এর মধ্যে মেঘনা, বনফুল, পর্যটক, ফাল্গুনী, আরা, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা। এছাড়া গাবতলী থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ ও ঈগল পরিবহন ছেড়ে যায়। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যাতায়াতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা। এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী ট্রেনেও যেতে পারেন। আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ও চিত্রা এক্সপ্রেস খুলনা গিয়ে এরপর বাস ধরে বাগেরহাটে যেতে পারেন। রূপসা থেকে বাগেরহাটে যেতে প্রায় ৪০ মিনিট লাগে। খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার বাগেরহাট শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং খুলনা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ৭নং ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত। খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক থেকে ৩০০ গজ দূরে এর অবস্থান। বাস থেকে নেমে এইটুকু পথ আপনাকে হেঁটে যেতে হবে।
  • Lodging কোথায় থাকবেন বাগেরহাট সদরে বিভিন্ন হোটেল আছে । এছাড়াও সরকারি গেস্টহাউস আছে। এখানে রেল রোডে অবস্থিত মমতাজ হোটেলে থাকতে পারেন। এই হোটেলটিতে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান মোটামোটি ভাল এবং খরচও একটু বেশি। এছাড়া এই হোটেলের আশেপাশে থাকার জন্য আরো কিছু হোটেল রয়েছে। তাছাড়া খান জাহান আলীর মাজারের সামনে মেইন হাইওয়েতে থাকতে পারবেন “হোটেল অভি”-তে । ভাড়া ৪০০ টাকা। ফোন: ০১৮৩৩৭৪২৬২৩। এছাড়া বাগেরহাটে থাকার জন্যে হোটেলের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন (০৪৬৮-৬৩১৬৮, ০১৭১৮৬৯২৭৩৭, এসি দ্বৈত কক্ষ ১ হাজার টাকা, নন এসি কক্ষ ১শ’ থেকে ৪শ’ টাকা) এবং কর্মকার পট্টিতে হোটেল মোহনা (০৪৬৮-৬৩০৭৫, ০১৭২২৮৫৮৩১৩, ১শ’ থেকে ৪শ’ টাকায় নন এসি কক্ষ) আছে। খুলনা থেকে বাগেরহাটে আসতে সময় ১ ঘণ্টা লাগার কারনে খুলনাতেও থাকা যায়।
  • Foods কি খাবেন N/A
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন খান জাহান আলি দিঘী। খানজাহান (র:) এর সমাধির পশ্চিম দিকে (পশ্চিম দরজার সামনে) মাজার ভবনের বাইরে রয়েছে পীর আলি মোহাম্মদ তাহেরের সমাধি। মাজার প্রাঙ্গনে পীর আলি মোহাম্মদ এর সমাধী ছাড়াও দরগাহ মসজিদ, খানজাহান (রহ:) এর বাবুচিখানা সহ তার কয়েক জন ঘনিষ্ঠ অনুসারীর কবর রয়েছে।

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map