খাজা শাহবাজ মসজিদ ঢাকা

2 people checked in

ঢাকার দোয়েল চত্বরের একটু সামনে হাতের ডাইনে বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে লাল মসজিদ। মসজিদটি লাল মসজিদ নামে পরিচিতি পায় কোনো এক সময় এর দেয়ারের রং লাল হওয়ায়। স্থানীয়রা নানা নামে চিনেন এ মসজিদটি। কেউ একে চিনেন জিনের মসজিদ বলে। কেউবা চিনেন জোড়া মসজিদ নামে। মসজিদটিকে মানুষ যে নামেই চিনুক না কেন, এর পরিবেশ খুবই নিরিবিলি। এর পাশেই সোহরাওয়ার্দি উদ্যান। আছে তিন নেতার মাজার। মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় এখন থেকে প্রায় চারশ বছর আগে। এর জায়গাটির ওপর মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন জনৈক সুফি সাধক ও ধনী ব্যবসায়ী। নাম হজরত হাজী খাজা শাহবাজ। তাঁর নামেই বেশি পরিচিত মসজিদটি। শোনা গেছে কোনো এক সময় এই মসজিদে জিনেরাও নামাজ আদায় করতো। তিন নেতার মাজারের কাছে অবস্থিত এই মসজিদটি ঢাকার অন্যতম। শায়েস্তা খান রীতিতে তৈরি তিন গম্বুজঅলা মসজিদটি ৬৮ ফুট দীর্ঘ এবং ২৬ ফুট চওড়া। খাজা শাহবাজ সর্ম্পকে ইতিহাসবিদরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিলেও ধরে নেয়া হয় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কাশ্মীর থেকে আগত এই ব্যবসায়ী নির্মিত করেন এই মসজিদটি। তার মৃত্যুর পরবর্তিতে এখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। এই সুফী সাধক জীবিত কালে নিজের জন্য সমাধি সৌধ তৈরি করে যান। এখন মসজিদটি হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। মসজিদের পাশেই তার দরগা রয়েছে। চারটি অষ্ট কোণাকৃতির মিনার চোখে পড়ে মসজিদটির চারকোণে। তিনটি প্রবেশপথ আছে পূর্ব পাশের দেয়ালে। আর একটি করে দরজা দেখতে পাওয়া যায় দক্ষিণ ও উত্তর দেয়ালে। প্রতিটি দরজার চৌকাঠ কালো পাথর দিয়ে তৈরি করার কারণ আছে। যাতে জলবায়ুর আর্দ্রতা এগুলোর কোনো ক্ষতি বা সমস্যা করতে না পারে। এজন্য পাথরের আবরণ দেয়া হয় দেয়ালে। তিনটি আকর্ষণীয় মেহরাব দেখতে পাওয়া যায় ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে। দেখতে বেশ সুন্দর প্রধান মেহরাবের অলংকরণ। মুসা খাঁ মসজিদের (লালবাগ কেল্লার মসজিদ) মতোই মসজিদটির স্থাপত্য নকশা। পুরান ঢাকাসহ অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এসেও অনেকে এখানে নামাজ আদায় করেন। তবে ক্রমে মসজিদটির ঐতিহ্য ও জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে কালের বিবর্তনে অযত্ন-অবহেলায়। বলা যেতে পারে, এর স্থাপনা এখন প্রায় জীর্ণদশা। এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাধীন একটি মসজিদ। তারপরও এর তেমন সংস্কার কাজ চলে না। অনেক জায়গার চুন-সুরকি খসে পড়ছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। আমরা চাই না মসজিদটি ক্রমে হারিয়ে যাক। অর্থাৎ এর যথাযথ সংস্কার জরুরি। এর সংস্কার কাজ হলে এখানে মুসল্লিদের সমাগম আবার বাড়বে। তাছাড়া মসজিদটি একটি ধর্মীয় দর্শনীয় স্থাপনাও। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস-ঐতিহ্য।

  • How to go কিভাবে যাবেন দেশের সব স্থান থেকেই ঢাকা আসার জন্য বাস সার্ভিস রয়েছে। এছাড়াও ট্রেনে করে কিংবা কিছু কিছু জায়গা থেকে লঞ্চে অথবা বিমানে করেও আসা সম্ভব। ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে তিন নেতার মাজার অথবা হাইকোর্ট এরিয়া তে এসে আশে পাশের মানুষকে জিজ্ঞেশ করলেই দেখিয়ে দিবে। শিশু একাডেমীর পাশেই এই মসজিদ অবস্থিত।
  • Lodging কোথায় থাকবেন ঢাকার প্রতিটি এলাকায় আবাসিক হোটেলের অভাব নাই। তবে হোটেল ভাড়া অন্যান্য জেলা থেকে তুলনামূলক বেশি। ৫ তারকা হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল রুপসী বাংলা, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি। কম দামের মধ্যে থাকতে গেলে বংগবন্ধু এভিনিউ এর হোটেল রমনা, ফকিরাপুলের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। পল্টন, ফকিরাপুল, গুলিস্তান,পুরান ঢাকা এরিয়ায় অনেক সস্তা মধ্যম মানের হোটেল পাবেন।
  • Foods কি খাবেন পুরান ঢাকার কিছু বিখ্যাত খাবারের তালিকা : ১. লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস ২. হোটেল রয়েলের পেস্ত বাদামের সরবত ৩. বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও। ৪. কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি ও হানিফের তেহরি।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন N/A

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map