কাস্বাবটুলী মসজিদ ঢাকা

1 people checked in

আজ থেকে প্রায় একশ' বছর আগে পুরান ঢাকায় ছিল না এত ঘনবসতি। ফলে ছোট হলেও তখন পূরণ হতো মুসলি্লদের চাহিদা। ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে মসজিদের ধারণক্ষমতা কমে যায়। এ কারণে এলাকাবাসীর সহায়তায় কয়েক বছর আগে মূল মসজিদের পূর্ব ও উত্তরে সম্প্রসারণ করা হয়পুরান ঢাকার কসাইটুলী এলাকার পিকে ঘোষ স্ট্রিট রোড। তিন দিক দিয়ে আসা তিনটি রোডের সংযোগ। এ সংযোগস্থলের এক কোনায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি মসজিদ। যে মসজিদের সামনে রঙিন কাচ দ্বারা লেখা রয়েছে 'কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ'। মসজিদটির পুরোটাই চীনা মাটির কাচ দিয়ে আবৃত। নানা রঙের ডিজাইন করা কাচের তৈরি দেখতে অনেকটা চিনির টুকরোর মতো ঝকঝকে। তাই এটি এলাকাবাসীর কাছে 'চিনির টুকরো মসজিদ' নামে সুপরিচিত। মসজিদটি ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটির মূল অংশটি বারান্দাসহ প্রায় দুই কাঠা জায়গায় ওপর অবস্থিত। মূল মসজিদের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর ওপরে নেই আলাদা সমতল ছাদ। এর ভেতর দিয়ে ছাদের বেশিরভাগ অংশে সরাসরি তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন আকারের কয়েকটি গম্বুজ। মসজিদ ভবনের মধ্যে বড়, দু'পাশে মাঝারি ও চারকোনায় রয়েছে চারটি একই ডিজাইনের গম্বুজ। এছাড়া ছয়টি ছোট ও দুটি জোড়া পিলারের দুটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোর উচ্চতা ৫-১২ ফুট। ছাদবিহীন মসজিদের প্রতিটি পিলারের মাথায় রয়েছে গম্বুজ বা মিনার। মসজিদের মূল ভবনের ভেতরে ও বাইরের দেয়ালসহ সম্পূর্ণ জায়গা সিরামিক দিয়ে ফুল, ফুলের গাছ ও আঙুর ফলের ছবির মাধ্যমে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।আজ থেকে প্রায় একশ' বছর আগে পুরান ঢাকায় ছিল না তেমন বসতি। ফলে ছোট হলেও তখন পূরণ হতো মুসলি্লদের চাহিদা। ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে মসজিদের ধারণক্ষমতা কমে যায়। এ কারণে এলাকাবাসীর সহায়তায় কয়েক বছর আগে মূল মসজিদের পূর্ব ও উত্তরে সম্প্রসারণ করা হয়। মূল ভবনটি একতলা হলেও বর্ধিত অংশটি তিনতলা। বর্তমানে মসজিদটি প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গায় অবস্থিত। নতুন অংশের পুরোটাই উন্নতমানের টাইলস দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। চাকচিক্য এ চিনির টুকরো মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি হাউস। অজু করার এ হাউসের মধ্যে সিমেন্টের একটি পদ্মফুলও তৈরি করে রাখা হয়েছে। এর মাথায় রয়েছে ডিজাইন করা ছোট মিনার। এছাড়া নিচতলার পূর্বে এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় তলায়ও মুসলি্লদের জন্য রয়েছে অজুুর সুব্যবস্থা।দ্বিতীয়তলায় ইমামের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তৃতীয়তলায় মাদ্রাসা। যেখানে আরবি শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া ছাড়াও বিনা বেতনে শিক্ষাদান করা হয়। মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি গেট। পুরনো আমলের কারুকাজ ও নতুন উন্নত টাইলসের এ মসজিদটিতে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন প্রায় পনেরশ' মুসলি্ল। '৭৯ সালে মূল ভবনের কারুকাজের পরিবর্তন না করে এটি সংস্কার করা হয়। ফলে মূল ভবনের ভেতরটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু এটির পুরনো আমলের কাঠের দরজায় ও বারান্দার ছাদের কাঠের চেহারা সহজেই মনে করিয়ে দেয় পুরনো স্মৃতি। ৩০ বছর ধরে বিটিভির আজানের সময় এ মসজিদের দৃশ্য দেখানো হতো। সে সঙ্গে 'কাস্বাবটুলী মসজিদ'-এর ছবি দিয়ে বের হয়েছে 'ভিউকার্ড'। ফলে এর সুনাম অক্ষুণ্ন রয়েছে। এলাকাবাসীর একান্ত চেষ্টায় ওয়াক্ফ সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা মসজিদটি ধরে রেখেছে এর ঐতিহ্য।

  • How to go কিভাবে যাবেন ঢাকার যে কোন প্রান্ত থেকে বাবু বাজার ব্রীজ/বুড়িগংগা ২য় সেতুতে আসতে হবে। এখান থেকে রিক্সায়ালা কে কসাইটুলী চিনি মসজিদ বললেই নিয়ে যাবে। অথবা স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করে পায়ে হেটেও যেতে পারেন।
  • Lodging কোথায় থাকবেন ঢাকার প্রতিটি এলাকায় আবাসিক হোটেলের অভাব নাই। তবে হোটেল ভাড়া অন্যান্য জেলা থেকে তুলনামূলক বেশি। ৫ তারকা হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল রুপসী বাংলা, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি। কম দামের মধ্যে থাকতে গেলে বংগবন্ধু এভিনিউ এর হোটেল রমনা, ফকিরাপুলের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। পল্টন, ফকিরাপুল, গুলিস্তান,পুরান ঢাকা এরিয়ায় অনেক সস্তা মধ্যম মানের হোটেল পাবেন।
  • Foods কি খাবেন পুরান ঢাকার কিছু বিখ্যাত খাবারের তালিকা : ১. লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস ২. হোটেল রয়েলের পেস্ত বাদামের সরবত ৩. বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও। ৪. কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি ও হানিফের তেহরি।
  • Must see অব্যশ্যই দেখবেন তারা মসজিদ, আরমেনিয়াম চার্চ। এখান থেকে সদরঘাট আহসান মঞ্জিল, ফরাশগঞ্জের লাল কুঠি, রূপলাল হাউস দেখে আসতে পারেন।

Reviews

(Rate here)

Articles

Find on the Map